চার বাংলাদেশি বিকিনি গার্ল

 

এইতো গত বছরই সত্তর বছর পূর্ণ করল এই স্নান পোশাক। সুন্দরী মডেল, হলিউডি, বলিউডি অভিনেত্রীরা যেমন এই পোশাকে ঝড় তোলেন বহু হৃদয়ে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশি অনেকেই চেষ্টাকরে যাচ্ছেন নিজেকে বিকিনিতে দেখাতে। তবে আমাদের সামাজিক অবস্থা বা সংস্কৃতির কারণে ঠিক এই পোশাকটির সঙ্গে খোলামেলা সমালোচনা থেকেই যায়। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে বাংলাদেশি বেশ কয়েকজন মডেল এই বিকিনিতে নিজেদের দেখিয়েছেন। কিন্তু দেশ-বিদেশের হাজার হাজার বিচে এই পোশাকে ছুটি উপভোগ করেন সাধারণ মহিলারাও। আর কোনও পোশাক আছে যা একই সঙ্গে ক্যাজুয়াল, কমফর্টেবল, সেক্সি আবার দুর্দান্ত ফ্যাশনেবল? বাংলাদেশি বিকিনি এই গার্লদের নিয়েই বিশেষ আয়োজন।


 

জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া: তিনি ২০০৭ সালে মিস বাংলাদেশ খেতাব অর্জন করেন। অভিনয় জগতে পদার্পণের পূর্বে তিনি মডেল হিসেবে খ্যাত ছিলেন। তার পেশা জীবন প্রায় সময়ই সমালোচিত হয়েছে এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার লাভ করেছে। এরপর কর্মজীবন শুরু করেন র‌্যাম্প মডেলিং-এর মাধ্যমে ২০০৮ সালে। ফ্যাশন মডেল হিসেবে পাশাপাশি একাধিক ব্র্যান্ডের টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানসমূহে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে। ২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি’ শিরোপা অর্জন করেন। এছাড়া মিশরে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড টপ মডেল’ প্রতিযোগিতায় শীর্ষ মডেল হওয়ার সাফল্য অর্জন করেন পিয়া। সেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোতেই তিনি বিকিনি পরেছিলেন। আর এ নিয়ে কিন্তু বেশ সমালোচনায় পরতে হয় তাকে। সেই সমালোচনার কোন তোয়াক্কা না করেই তিনি নিজেকে প্রতিনিয়ত মেলে ধরছেন। ২০১২ সালে ‘চোরাবালি’ চলচ্চিত্রে সুজানা চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০১৩ সালে বাহরাইনে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্সেস’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। একইবছর বাংলাদেশি সংগীতদল শিরোনামহীনের ‘শিরোনামহীন’ শিরোনামহীন অ্যালবামের ‘আবার হাসিমুখ’ গানের মিউজিক ভিডিওতে তাকে দেখতে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি একই সাথে বেশ কটি চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে, ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’, ‘দ্য স্টোরি অব সামারা’ এবং ‘প্রবাসীর প্রেম’।
 


মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি। তিন শব্দের এই নামটির সঙ্গে অনেক কিছুই জুড়ে নিয়েছেন। আয়ারল্যান্ডে বসবাস করছেন এসব তথ্য পাঠকের কাছে নতুন না হলেও একটি বিষয় এখনও অনেকের কাছে অজানা থাকতে পারে। তা হলো, তার সাহস। যদিও তিনি বসবাস করছেন বাংলাদেশ ছেড়ে সুদূর আয়ারল্যান্ডে, কিন্তু তাতেই যে তিনি সাহসী হয়ে উঠেছেন এমনটা নয়। অনেক আগে থেকেই তার মনে ছিল কীভাবে বাঙালি হয়েও সাহসী হয়ে ওঠা যায়, সব বাঙালির আইডল হওয়া যায়। হয়তো এই ভাবনা থেকেই আজ তিনি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কোটি মানুষের আইডল।

বর্তমানে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুর্বার গতিতে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন নানা দেশের ফটোশুটে। আর দেশের বাইরের বিভিন্ন ফটোশুটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিকিনি ফটোশুট। এর আগেও বিকিনিতে প্রিয়তি বিভিন্ন ফটোশুট করেছেন। করেছেন নগ্ন হয়ে ফটোশুটও। সম্প্রতি নগ্ন শরীরে পেইন্ট করে ও লাল বিকিনি পরা ছবি দিয়ে বেশ সমালোচিত হয়েছেন। কিন্তু এই ছবির মাধ্যমে প্রিয়তি আবারও প্রমাণ করলেন তিনি একজন সাহসী মডেল। নিজেকে ভেঙেচূড়ে প্রতিনিয়ত গড়ছেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই প্রিয়তির কাছে ফ্যাশন বা মডেলিং বিষয়ক নানা প্রশ্ন করে থাকেন। প্রিয়তিও খোলামনে সবাইকে নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

নায়লা নাঈম: নায়লা নাঈম। সময়ের আলোচিত ও সমালোচিত একটি নাম। নিজের মডেলিং ক্যারিয়ারে এতটা জোয়ার না আসলেও তার খোলামেলা বা বিকিনি পোশাকে এসেছে জোয়ার। আর সেই জোয়ারেই ভেসে চলছে তার মিডিয়ার ক্যারিয়ার। তার খোলামেলা পোশাক নাটক কিংবা চলচ্চিত্রে খুব বেশি একটা দেখা না গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক তার খোলামেলা পোশাকের ছবিতে সরব থাকে। আর সেই খোলামেলা ছবি দিয়ে বেশ আলোচিত ও সমালোচিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কিন্তু শুনতে নারাজ তার এই সাহসীকতা দিনে দিনে বেড়েই যাচ্ছে।

ফাতেমা-তুজ-জোহরা ইতিশা: ইতিশা ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০১২’ প্রতিযোগিতায় চতুর্থ হন। মডেলিং এর পাশাপাশি অভিনয় করছেন বেশ কিছু নাটক ও চলচ্চিত্রে। অনেকগুলো বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেলও হয়েছেন। এই যখন অবস্থা তখন তিনি বিকিনি পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। শুধু যে তিনি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন তান কিন্তু নয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ভাবে অনেকগুলো সুন্দরী প্রতিযোগতিায় অংশ নিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত মিস এশিয়া প্যাসিফিক ওয়ার্ল্ড ট্যালেন্ট, আজারবাইজানের বাকুতে হয়ে যাওয়া তুরস্কের মিস গ্লোব ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায়, তাইওয়ানের ফেইস অব বিউটি, মিস হেরিটিজসহ আরও বেশ কিছু প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন তিনি।

এতো গেল বাংলাদেশের বিকিনি গার্লদের কথা। বহিবিশ্বের অভিনেত্রী থেকে শুরু করে সাদারণ মানুষও বিকিনি পড়ছেন কিন্তু এই বিকিনি’ প্রচলন আসল কোথা থেকে। চলুন পাঠক জেনে আসি বিকিনি’র ইতিহাস।

বিকিনির ইতিহাস: বিকিনি (ইংরেজি: Bikini) মূলত মেয়েদের ব্যবহৃত একপ্রকার সাঁতারের পোষাক। দুই প্রস্থ কাপড় দ্বারা এটি তৈরি, যা শরীরকে স্বল্পভাবে ঢেকে রাখে। এর একটি অংশ স্তন ও অপর অংশটি উরুসন্ধি এবং নিতম্বকে ঢেকে রাখে। যদিও নিতম্ব ঢেকে রাখার শর্তটি ঐচ্ছিক। এর দুইটি অংশের মধ্যবর্তী অংশ সাধারণত অনাবৃত থাকলেও ট্যানকিনি ধরনের বিকিনির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। সাধারণত গরম আবহাওয়ায় এবং সাঁতার কাটার সময় বিকিনি পরিধান করা হয়। বিকিনির দুইটি অংশ মেয়েদের পৃথক দুটি অন্তর্বাস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। নিচের অংশটি সীমা থং বা জি-স্ট্রিং থেকে শুরু করে তুলনামূলক আবৃত চৌকোণা শর্টস পর্যন্ত হতে পারে। মারিয়াম-ওয়েবস্টার অভিধানে (১১তম সংস্করণ) বিকিনিকে ‘মেয়েদের দুই প্রস্থ বিশিষ্ট গোসলের পোষাক’, ‘ছেলেদের ব্রিফ সাঁতারের পোষাক’, এবং ‘ছেলে বা মেয়েদের লো-কাট ব্রিফ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আধুনিক বিকিনির আবিস্কার হয় ১৯৪৬ সালে, এবং আবিস্কারক ছিলেন ফরাসী অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার লুই রিয়ার্ড। একই বছরের জুলাইয়ে, প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ বিকিনি অ্যাটলে অনুষ্ঠিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক পরীক্ষা অপারেশ ক্রসরোডসের নামানুসারে তিনি তাঁর সদ্য আবিস্কৃত পোশাকের নাম রাখেন বিকিনি। এই নামটি রাখার কারণ সম্ভবত পোশাকটির কারণে জনমানুষের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার বিস্ফোরণ, যা অনেকটা পারমাণবিক বিস্ফোরণের মতোই ব্যাপক ছিল।

এইতো গত বছরই সত্তর বছর পূর্ণ করল এই স্নান পোশাক। সুন্দরী মডেল, হলিউডি, বলিউডি অভিনেত্রীরা যেমন এই পোশাকে ঝড় তোলেন বহু হৃদয়ে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশি অনেকেই চেষ্টাকরে যাচ্ছেন নিজেকে বিকিনিতে দেখাতে। তবে আমাদের সামাজিক অবস্থা বা সংস্কৃতির কারণে ঠিক এই পোশাকটির সঙ্গে খোলামেলা সমালোচনা থেকেই যায়। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে বাংলাদেশি বেশ কয়েকজন মডেল এই বিকিনিতে নিজেদের দেখিয়েছেন। কিন্তু দেশ-বিদেশের হাজার হাজার বিচে এই পোশাকে ছুটি উপভোগ করেন সাধারণ মহিলারাও। আর কোনও পোশাক আছে যা একই সঙ্গে ক্যাজুয়াল, কমফর্টেবল, সেক্সি আবার দুর্দান্ত ফ্যাশনেবল? বাংলাদেশি বিকিনি এই গার্লদের নিয়েই বিশেষ আয়োজন।