যেভাবে চোখের সামনেই চুরি হয়ে যেতে পারে পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য ডেটা !

যেভাবে চোখের সামনেই চুরি হয়ে যেতে পারে পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য ডেটা ! 

আমরা সাধারনত আমাদের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য অনলাইন ডেটা নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত থাকি। সবসময় এসব পাসওয়ার্ড এবং ডেটা হ্যাক হওয়ার ভয়ে থাকি এবং হ্যাকারদের থেকে আমাদের এসব প্রয়োজনীয় ডেটা বাঁচানোর চেষ্টা করি।


কোন হ্যাকার বা অপরাধী যদি আপনার কোন অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পেয়ে যায় তাহলে সে আপনার যথেষ্ট ক্ষতি করতে পারে। আজকের টিউনে এমন কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যেসব কারনে আপনার পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য ডেটা আপনার চোখের সামনে থেকেই চুরি হয়ে যেতে পারে।

দুর্বল এবং সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা: এটি পাসওয়ার্ড চুরি হওয়ার সবথেকে বড় কারন। আপনি হয়ত অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সময় একটু সহজ পাসওয়ার্ড ইন্টার করেন কারন তা মনে রাখা সহজ এবং এরপরে লগিন করার সময় যাতে আপনি আরো দ্রুত এবং সহজে লগিন করতে পারেন। অনেকে আবার সবজায়গায় পাসওয়ার্ড দেন ১২৩৪৫৬ এমন করে। এই কাজটিই পাসওয়ার্ড এবং পারসোনাল ডেটা হ্যাক হওয়ার জন্য সবথেকে বেশি দায়ি।

সবসময় মনে রাখা উচিৎ যে, সহজ পাসওয়ার্ড যদি আপনার জন্য মনে রাখা সহজ হয় তবে এই সহজ পাসওয়ার্ড হ্যাকার এর জন্য অনুমান করা এবং হ্যাক করাও সহজ হবে। হ্যাকার যদি আপনার সম্পর্কে ভালভাবে জানে, তাহলে সে আপনার পাসওয়ার্ড লেখার অভ্যাস সম্পর্কেও ভালভাবে জানবে। তাই এই ধরনের দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে আপনার পাসওয়ার্ড এবং পারসোনাল ডেটা সহজেই হ্যাক হতে পারে।

হার্ডওয়্যার ডিভাইসগুলো আপনার কি-স্ট্রোক ট্র্যাক করছে: আপনি যখন কোন ওয়েবসাইট বা অন্য কোথাও আপনার পাসওয়ার্ড টাইপ করেন তখন আপনার পিসিতে কানেক্ট করা ফিজিক্যাল হার্ডওয়্যার ডিভাইসগুলো সহজেই আপনার কি-স্ট্রোক থেকে আপনার পাসওয়ার্ড জানতে পারবে। সাধারনত সবসময় এই বিষয়টি খুব একটা চিন্তার কিছু নয়, কিন্তু এই কারনে আপনার পাসওয়ার্ড সহজেই হ্যাক হতে পারে যদি আপনি হ্যাকারের তৈরি কোন সফটওয়্যার বা কি-লগার ইন্সটল করেন যেসব সফটওয়্যার এসব হার্ডওয়্যার ডিভাইসের থেকে ডেটা সংগ্রহ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই কোন ট্রাস্টেড পাবলিশার ছাড়া অন্য কোথাও থেকে কোন সন্দেহজনক সফটওয়্যার ডাউনলোড করবেন না এবং ইন্সটল করবেন না। নয়ত এসব সফটওয়্যার এবং কি-স্ট্রোক ট্র্যাক করার মাধ্যমে সহজেই আপনার পাসওয়ার্ড হ্যাক হতে পারে।

অন্যদের সাথে আপনার পাসওয়ার্ড শেয়ার করা: এটা আমরা অনেকেই প্রায়ই করে থাকি। আমরা হয়ত আমাদের আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধবদের আমাদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে কোনকিছু দেখানোর জন্য বা অন্য কোন কারনে আমাদের সম্পূর্ণ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডটিই ওদেরকে দিয়ে দেই যাতে তারা নিজেরা সবকিছু দেখে নিতে পারে বা যে কাজের জন্য আপনার অ্যাকাউন্ট দরকার, সেই কাজটি করতে পারে।

এই কাজটি একেবারেই করা উচিত নয়। আমি বলছিনা যে যাকে আপনি বিশ্বাস করে আপনার পাসওয়ার্ড দেবেন, সেই আপনার পারসোনাল ডেটা চুরি করবে। কিন্তু আপনার পাসওয়ার্ড নিয়ে আপনি নিজে যতটা সতর্ক থাকেন, আপনি যাকে পাসওয়ার্ড দেবেন সে আপনার পাসওয়ার্ড নিয়ে ততটা সতর্ক নাও থাকতে পারে। এটিও পাসওয়ার্ড হ্যাক হওয়ার অন্যতম একটি কারন।

যেকোনো ধরনের ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই পেলেই কানেক্ট করা: এই কাজটিও আমরা অনেকেই করে থাকি। ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই আমাদের অনেকের কাছে অনেক মূল্যবান একটি জিনিস। কোথাও কোনভাবে কোন ধরনের ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই পেলেই কিছু না বুঝে হাতের ডিভাইসটি কানেক্ট করে ইন্টারনেট ব্যবহার করা শুরু করি। এই কাজটি একেবারেই করা উচিত নয়। একটি ভাল সিকিউরিটির ট্রাস্টেড ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ছাড়া অন্য কোন ওপেন পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে কোন ডিভাইস কানেক্ট করা উচিত নয়।

যেকোনো ধরনের ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে কানেক্ট করার আগে অবশ্যই নেটওয়ার্কের সিকিউরিটি, নেটওয়ার্কের ধরন এবং কি কি ইনফরমেশন নেটওয়ার্কটি ট্র্যাক করবে এসব চেক করে দেখুন। জেনে বুঝে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে কানেক্ট না করলে আপনার পাসওয়ার্ড এবং পারসোনাল ডেটা সহজেই চুরি হতে পারে।

আপনার ডিভাইসটির সিকিউরিটি নিশ্চিত না করা: আপনার পাসওয়ার্ড এবং পারসোনাল ডেটা সিকিওর রাখতে হলে সবার প্রথমে আপনার যা করা উচিৎ তা হল, আপনার ডিভাইসটি অর্থাৎ যেসব ডিভাইসে আপনি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন যেমন আপনার ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, স্মার্টফোণ ইত্যাদির সিকিউরিটি নিশ্চিত করা।

পাসওয়ার্ড চুরির হাত থেকে বাচতে হলে আপনাকে আগে নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার ডিভাইসের অ্যাক্সেস যাতে আপনি ছাড়া অন্যকেউ না পায়। আপনার ডিভাইসগুলোতে স্ক্রিন লক, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এবং আরো সব ধরনের সিকিউরিটি সেটাপ করুন যাতে অন্যকেউ আপনার ডিভাইসের অ্যাক্সেস না পায় এবং অ্যাক্সেস পেলেও যাতে সহজে আপনার পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য ডেটা না পায়।

তো এগুলোই ছিল এমন কয়েকটি বিষয় যেসব খেয়াল না রাখলে আপনার পাসওয়ার্ড এবং পারসোনাল ডেটা আপনার চোখের সামনে থেকেই চুরি বা হ্যাক হতে পারে। পাসওয়ার্ড চুরি থেকে বাচতে হলে এসব বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখুন। আজকের মত টিউনটি এখানেই শেষ করছি। আশা করি টিউনটি আপনাদের ভাল লেগেছে। টিউন সম্পর্কে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই টিউনমেন্ট করে জানাবেন। ভাল থাকবেন।

আমরা সাধারনত আমাদের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য অনলাইন ডেটা নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত থাকি। সবসময় এসব পাসওয়ার্ড এবং ডেটা হ্যাক হওয়ার ভয়ে থাকি এবং হ্যাকারদের থেকে আমাদের এসব প্রয়োজনীয় ডেটা বাঁচানোর চেষ্টা করি।