যেভাবে কম্পিউটার বিজ্ঞানে ডিগ্রি ছাড়াই গুগলে এইচআর থেকে প্রকৌশলী হলেন

How-to-become-an-engineer-from-Google-HR-without-any-degree-in-computer-science 

 পেশার জন্য সার্চ জায়ান্ট গুগল খুবই কঠিন একটি জায়গা বলা যায়। তবে কঠিন হলেও অ্যাঞ্জেলা টেইলর প্রমাণ করেছেন কঠোর পরিশ্রম এবং করণীয় মনোভাব নিয়ে আপনি কোনো প্রোগ্রামিং অভিজ্ঞতা এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ডিগ্রি ছাড়াই গুগল প্রকৌশলী হতে পারেন।


২০১৭ সালের মে মাসে টেইলর আনুষ্ঠানিকভাবে গুগল এর ম্যাপিং ডিভিশন এর পূর্ণসময়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার পদে আসেন যা অভ্যন্তরীণভাবে জিইও নামে পরিচিত।

৩০ বছর বয়সী টেইলর ২০১২ সালের এপ্রিলে গুগল হিউম্যান রিসোর্স প্রো হিসেবে দায়িত্বে আসেন। সেসময়ে তার কমিউনিকেশন ডিগ্রি ছিল এবং প্রোগ্রামিং সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান ছিল না এবং প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার বিবেচনাও করেননি তিনি। ব্যবসা বাণিজ্য ভিত্তিক সাইট বিজনেস ইনসাইডারে টেইলর বলেন, ‘আমি আসলে আরকানসাস থেকে এসেছি, সেখানে ছোট একটি গ্রামে বড় হয়েছি। প্রযুক্তির কোনো সেন্সই ছিল না আমার। এমনকি সফটওয়্যার প্রকৌশলী নামে কোনো বিষয়ই আমি জানতাম না। আর আমি একজন অভিনেত্রী হতে চাইতাম।’

টেইলর প্রথমে প্রতিভাধর গুগল ইন্টার্নশীপ হিসেবে প্রতিষ্ঠানে আসেন এবং তারপর গুগলের কঠিন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণ সময় নিয়োগ পান।  সেসময় গুগলে কমিউনিকেশন কোনো নিয়োগ হচ্ছিল না তাই তিনি এইচআর পেশা নেন।

২০১১ সালের জুন মাসে, এইচআর টিম একটি স্প্রেডশীটের সাথে কাজ করছিল যা একটি স্ক্রিপ্ট (ম্যাক্রো নামে পরিচিত) উপর নির্ভর ছিল এবং এগুলোর মধ্যে কিছু ছিল ত্রুটিপুর্ন। যদিও গুগলে এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রকৌশলী ছিল কিন্তু সাপোর্ট টিম সেসময় কাজের অত্যাধিক চাপে থাকায় স্পেডশিট এর ত্রুটি ঠিক করার সময় পাচ্ছিল না।

আর একারণে টেইলরকে এই সমস্যা সমাধানে নিযুক্ত করা হল। ফলে তিনি নিজে নিজে ভিজুয়াল বেসিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে শুরু করেন। এসময় তিনি ভ্রমনে চীনে যান এবং সেখানে স্পেডশিট সমাধানের পরিকল্পনা করেন। আর তখনই তিনি প্রোগ্রামিং এর প্রেমে পড়ে যান।

এরপর টেইলর বাড়ি ফিরে উড্যাসিটি এবং কোড একাডেমির মতো সাইটে অনলাইন ফ্রি কোর্স নেওয়া শুরু করেন। তিনি তার এইচআর দলের জন্য ছোট কোডিং প্রকল্প হাতে নেন। এরপর তিনি কমিউনিটি কোডিং কলেজে যান এবং ২৪ ঘন্টা কাজের জন্য কোডিং করতে থাকেন। এবং পড়ে তিনি স্ট্যানফোর্ড এ কোডিং ক্লাসে যান কিন্তু তিনি কোনো কম্পিউটার বিজ্ঞান ডিগ্রির জন্য ভর্তি হননি।

টেইলর দুইবছর গুগলের কর্মীদের দেওয়া নিজের প্রকল্পে ২০ শতাংশ সময়ে তিনি এই কোডিং শিখেন। আর এরপর গুগল তাকে পূর্ণকালীন এন্ট্রি লেভেল সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেয়।

টেইলরের স্বপ্নের চাকরিতে যাওয়ার এই কৌশল যেকোনো কেউ ব্যবহার করতে পারেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে টেইলর বলেন, ‘একসাথে হোন, একে অপরকে সহায়তা করুন। আপনি নিজে নিজে সবকিছু করতে পারেন না।’

পেশার জন্য সার্চ জায়ান্ট গুগল খুবই কঠিন একটি জায়গা বলা যায়। তবে কঠিন হলেও অ্যাঞ্জেলা টেইলর প্রমাণ করেছেন কঠোর পরিশ্রম এবং করণীয় মনোভাব নিয়ে আপনি কোনো প্রোগ্রামিং অভিজ্ঞতা এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ডিগ্রি ছাড়াই গুগল প্রকৌশলী হতে পারেন।