গর্ভাবস্থায় শিশুর নড়াচড়ার বিষয়ে জানুন

Learn-about-baby-movements-during-pregnancy

 প্রতিটা হবু মা তাঁর গর্ভের সন্তানের অস্তিত্বের অনুভূতি টের পান যখন গর্ভস্থ শিশু পা ছোঁড়াছুড়ি করে। শিশুর এই নড়াচড়াই তাঁর বৃদ্ধি ঠিক মত হচ্ছে এটার ইঙ্গিত বহন করে। যদিও শিশু মায়ের গর্ভে থাকাকালীন নড়াচড়া এবং  লাথি মারা ছাড়াও অন্যান্য কাজও করে থাকে যেমন – ঘুমানো, খেলা করা, হামি দেয়া, ঢোক গেলা এবং চোখ পিটপিট করা ইত্যাদি। শিশুর নড়াচড়ার এই অভিজ্ঞতাটি গর্ভাবস্থার একটু দেড়িতেই হতে দেখা যায়। যদিও এটি শুরু হয় গর্ভধারণের ৭-৮ সপ্তাহের মধ্যেই। গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের নড়াচড়া বা লাথি মারার   বিষয়ে আরো কিছু বিষয় জানা থাকা ভালো মায়েদের যেমন-


১। কখন একজন মা গর্ভের শিশুর নড়াচড়া টের পান?

গর্ভাবস্থার ১৮ থেকে ২৪ সপ্তাহের মধ্যে শিশু নড়াচড়া করা শুরু করে। সাধারণত নতুন মায়েরা ২৪ সপ্তাহের আগে এটা তেমন বুঝতে পারেন না। কারণ শিশুর লাথি মারাটা শক্তিশালী হয়না এবং অনেক মায়েরাই অন্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে এই সূক্ষ্ম অনুভূতিকে বুঝতে পারেন না। অন্যদিকে ২য় বা ৩য় বারে যারা মা হচ্ছেন তারা খুব দ্রুতই এটা বুঝতে পারেন।

২। ভ্রুনের এই লাথি মারা কী গর্ভে তাদের সক্রিয়তাকে প্রমাণ করে?  

বেশীরভাগ শিশুই সারাদিনে বিভিন্নভাবে সক্রিয় থাকে। সাধারণভাবে দেখা যায় যে, মায়ের খাবারের পরে, ব্যায়াম বা উচ্চ শব্দ হলে গর্ভস্থ শিশু নড়াচড়া করে। তাই মায়ের উচিত গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়ার বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করা যাতে তার বিশ্রাম ও সক্রিয়তার বিষয়টি অনুমান করতে পারেন তিনি। তাই গর্ভস্থ শিশু  যখন সক্রিয় থাকে তখন তার সাথে সংযোগ তৈরি করার চেষ্টা করুন তার সাথে কথা বলে, গান গেয়ে বা বই পড়ে। শিশুর নড়াচড়াকে ভালোভাবে বোঝার জন্য খাওয়ার পরে বা ব্যায়ামের পরে পিঠে ঢেস দিয়ে আরাম করে বসুন।

৩। শিশুর লাথি মারার সংখ্যা কী গোণার প্রয়োজন আছে?

কিছু ক্ষেত্রে ভ্রূণের নড়াচড়াকে গোণা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই সংখ্যা একেক শিশুর ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসার সময় শিশুর নড়াচড়া কমে আসে কারণ তখন গর্ভের ভেতরের স্থান কমে যায়। গর্ভাবস্থায় ঝুঁকিতে থাকেন  যারা তাদের গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়ার হিসাব রাখা জরুরী। যারা কম ঝুঁকিতে থাকেন তাদের ক্ষেত্রেও শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়াটা একটা সতর্ক সংকেত।

৪। ভ্রূণের নড়াচড়া কমে যাওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষেত্রে যা করবেন

ভ্রূণের নড়াচড়া বা লাথি মারা এটাই নির্দেশ করে যে গর্ভস্থ শিশুটি সুস্থ এবং সক্রিয় আছে। কিন্তু খুব বেশি নড়াচড়া করাও তার ভালো স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়। তাই শিশুর নড়াচড়া কমে গেলে বা বৃদ্ধি পেলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলাই সবচেয়ে ভালো।

৫। শিশুর নড়াচড়া কমে গেছে বুঝবেন কীভাবে?

শিশু যখন সক্রিয় থাকে তখন তার দুটি নড়াচড়ার মধ্যবর্তী বিরতি খুব কম  থাকে। তাই যখনই আপনার মনে হবে যে শিশুর নড়াচড়ার হার কমে গেছে তখন শিশুর ২ ঘন্টার নড়াচড়ার প্রতি খেয়াল রাখুন। যদি আপনার মনে হয় যে এই সময়ে তার ১০ টি নড়াচড়া কমে গেছে তাহলে পরবর্তী দুই ঘন্টাও খেয়াল রাখুন। যদি উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন দেখা না যায় তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হোন।

৬। কীভাবে শিশুর নড়াচড়ার রেকর্ড রাখা যায়?

যখন থেকে আপনি শিশুর নড়াচড়া লক্ষ্য করা শুরু করবেন তখন থেকে প্রথম নড়া এবং ১০ম নড়ার মধ্যকার সময়টা লিখে রাখুন। এতে শিশুর লাথি মারা,  ঘোরা এবং শব্দ করা এ সব কিছুই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। 

৭। শিশুর নড়াচড়া কমে গেলে কী করবেন?

বিভিন্ন কারণে শিশুর নড়াচড়া কমে যেতে পারে, যার জন্য প্রথমেই অস্থির হওয়ার কোন কারণ নেই। এক্ষেত্রে আপনার করণীয় হচ্ছে –

·        কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন অথবা হাঁটুন। কখনো কখনো মা স্ট্রেসে ভুগলে বা অসক্রিয়ভাবে থাকলেও গর্ভস্থ শিশু ঘুমিয়ে থাকতে বা নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে কিছুক্ষণের জন্য।

·        ঠান্ডা খাবার যেমন- আইসক্রিম বা মিল্ক শেক খেতে পারেন। এই ঠান্ডাভাব বা গর্ভের ভেতরে তাপের পরিবর্তন শিশুকে নড়াচড়ায় বাধ্য করতে পারে।

·        গান শুনুন বা শিশুর সাথে কথা বলুন। প্রায়ই বাইরের কোন উদ্দীপক  যেমন- উচ্চ শব্দ শিশুকে নড়াচড়ায় উৎসাহিত করে এবং শিশু লাথি মারে।

৮। কখন শিশুর নড়াচড়ার বিষয়ে চিন্তিত হবেন?

কিছু লক্ষণ শিশুর নড়াচড়ার বিষয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ, যেমন-

·        ২ ঘন্টার ব্যবধানে যদি শিশুর ১০ টি নড়াচড়া কম হয় তাহলে তা চিন্তার বিষয়।

·        শব্দ বা পিতামাতার কন্ঠও যদি শিশুর নড়াচড়ার লক্ষণ দেখা না যায় তাহলে তা উদ্বেগের বিষয়।

·        পর পর দুই শিশুর নড়াচড়া কমতে থাকলে তা চিন্তার বিষয়। তখন দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নেয়া প্রয়োজন।

প্রতিটা হবু মা তাঁর গর্ভের সন্তানের অস্তিত্বের অনুভূতি টের পান যখন গর্ভস্থ শিশু পা ছোঁড়াছুড়ি করে। শিশুর এই নড়াচড়াই তাঁর বৃদ্ধি ঠিক মত হচ্ছে এটার ইঙ্গিত বহন করে। যদিও শিশু মায়ের গর্ভে থাকাকালীন নড়াচড়া এবং লাথি মারা ছাড়াও অন্যান্য কাজও করে থাকে যেমন – ঘুমানো, খেলা করা, হামি দেয়া, ঢোক গেলা এবং চোখ পিটপিট করা ইত্যাদি। শিশুর নড়াচড়ার এই অভিজ্ঞতাটি গর্ভাবস্থার একটু দেড়িতেই হতে দেখা যায়। যদিও এটি শুরু হয় গর্ভধারণের ৭-৮ সপ্তাহের মধ্যেই। গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের নড়াচড়া বা লাথি মারার বিষয়ে আরো কিছু বিষয় জানা থাকা ভালো মায়েদের যেমন-