অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি: পরিসংখ্যান নেই কোথাও

Selling-sacrificial-animals-online-There-is-no-statistic-anywhere 


সময় বাঁচাতে গিয়ে অনেকেই অনলাইনভিত্তিক কোরবানির পশুর হাটের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। শৌখিন ক্রেতারা হাটে ভিড়, ভ্যাপসা গরম-গন্ধ ও কাদা এড়াতে ঘরে বসেই কিনে চাইছেন পছন্দের পশু।  দেশে ২০১৩ সালে থেকে অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বছর বিক্রির হার বাড়লেও ঠিক কত সংখ্যক পশু অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে, সে তথ্য পাওয়া যায়নি কোথাও।


বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)—কোনও সংগঠনের কাছেই তথ্য নেই।  কয়েকটি ই-কমার্স, অনলাইন মার্কেট প্লেস ও একাধিক ফেসবুক নির্ভর ই-কমার্স সাইটের খোঁজ পাওয়া গেলো, যেখানে কোরবানির পশু পাওয়া যাচ্ছে। 

অনলাইনে কোরবানির পশু কেনার সুবিধার কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিনিয় হিসাব রক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘অনলাইনে গরু কেনার সবচেয়ে বড় সুবিধাটি হলো হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা। অনলাইনে অর্ডার দেওয়ার পর বাকি কাজ ওদের। আমার অভিজ্ঞতা ভালো।’

জানতে চাইলে বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার  বলেন, ‘তথাকথিত ব্যবসায়িক ফরম্যাট আর থাকবে না। এটা ট্রান্সফরমেশনের যুগ। সবই কিছুই অনলাইনে চলে যাবে। সেই কারণেই বর্তমানে কোরবানির পশু অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে।’  তবে তিনি জানালেন, ‘এ বিষয়ে কোনও ডাটা নেই। এমনকি কারা এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত, তারও কোনও পরিষ্কার তথ্যও নেই।’

একই কথা জানলেন ই-ক্যাবের সভাপতি রাজীব আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সবে বিষয়টি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিছুদিনের মধ্যে সব তথ্য-উপাত্ত জানা যাবে।’

এদিকে ঈদকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে ভার্চুয়াল হাট। অনলাইন মার্কেটপ্লেস বিক্রয় ডট কমে গরু বিক্রেতারা তাদের কোরবানির পশু বিক্রির জন্য ছবি এবং তথ্য আপলোড করছেন সাইটে। বিক্রয় ডট কমের সাইট ঘুরে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে প্রচুর গরুর ছবি সাইটে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রয়েছে উট, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ। বিভিন্ন রঙের, বিভিন্ন গড়নের এসব পশুর দামও আলাদা। ফলে ক্রেতারা সহজেই পশু কিনতে পারবেন বলে মনে করছেন ভার্চুয়াল ব্যবসায়ীরা।

শুধু বিক্রয় ডট কম নয়, কোরবানির পশু পাওয়া যাবে আমার দেশ ই-শপ, বেঙ্গল মিট, সাশ্রয় এগ্রো প্রভৃতি সাইটেও। এছাড়া ফেসবুক নির্ভর ই-কমার্স সাইট সাদিক অ্যাগ্রো এবং আর এম অ্যাগ্রোর পেজে পাওয়া যাচ্ছে কোরবানির পশু। এসব প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে ওষুধের মাধ্যমে গরু মোটাতাজাকরণের বিষয়টি ঘিরে ক্রেতাদের মনে যে আশঙ্কা তৈরি হয়, তা দূর করার দিকেই বেশি নজর তাদের।

আমার দেশ আমার গ্রাম ডট কমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা ১৫০টি গরুর ছবি সাইটে আপলোড করব। এরই মধ্যে ১৯টি গরুর জন্য বুকিং জমা পড়েছে।’  তিনি আরও জানান, ‘২০১৩ সালে তাদের প্রতিষ্ঠানই প্রথম অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু করে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি কোরবানিতে গড়ে ৩৫-৪০টির মতো গরু বিক্রি করেছে আমার দেশ আমার গ্রাম ডট কম।’ দেশে বন্যার এবার কারণে এবার অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি কমতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। 

এদিকে বেঙ্গল মিট তাদের সাইটে ৩০০ গরুর ছবি আপলোড করেছে। এর মধ্যে শতাধিক গরু বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। গত বছর বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৫০টি গরু।

সময় বাঁচাতে গিয়ে অনেকেই অনলাইনভিত্তিক কোরবানির পশুর হাটের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। শৌখিন ক্রেতারা হাটে ভিড়, ভ্যাপসা গরম-গন্ধ ও কাদা এড়াতে ঘরে বসেই কিনে চাইছেন পছন্দের পশু। দেশে ২০১৩ সালে থেকে অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বছর বিক্রির হার বাড়লেও ঠিক কত সংখ্যক পশু অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে, সে তথ্য পাওয়া যায়নি কোথাও।