স্টার সিনেপ্লেক্সে দুই চলচ্চিত্র


নগরীর স্টার সিনেপ্লেক্সে আজ মুক্তি পেয়েছে দুই চলচ্চিত্র। যার মধ্যে রয়েছে অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী শার্লিজ থেরন অভিনীত অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার ‘অ্যাটমিক ব্লন্ড’। ব্রিটিশ গুপ্তচর লোরাইন বরোটনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অস্কারজয়ী এ অভিনেত্রী। এছাড়াও রয়েছেন স্কটিশ অভিনেতা জেমস ম্যাকাভয়, জন গুডম্যান, টোবি জোনস, সোফিয়া বুটেল্লার মতো তারকারা। এটি পরিচালনা করেছেন ডেভিড লিচ।

অন্য সিনেমাটি হলো ‘ভাইসরয়’স হাউস’। গুরিন্দর চাধা পরিচালিত সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রগুলো রূপায়ন করেছেন হিউ বনভিল, গিলিয়ান অ্যান্ডারসন, মনিশ দায়াল, হুমা কুরেশি, মাইকেল গ্যাম্বন ও প্রয়াত ওম পুরির মতো তারকারা। ১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাবে সিনেমাটি।

১৯৮৯ সালে বার্লিন ওয়াল ভেঙে ফেলার সময় এক অ্যাজেন্টকে হত্যা করে একদল নিষ্ঠুর গুপ্তচর। তাদের বিরুদ্ধে শার্লিজ থেরনের লড়াইকে ঘিরে এগিয়েছে ‘অ্যাটমিক ব্লন্ড’ সিনেমার গল্প। এ জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাকে। শুটিং করতে গিয়ে বেশ কয়েকবার মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। হাঁটুর হাড়ে পেয়েছিলেন আঘাত, ভেঙে গিয়েছিল দুটি দাঁত।

সাউথ বাই সাউথ ওয়েস্ট চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রদর্শনীতে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে নিজের দাঁত ভাঙার কথা জানান তিনি। থেরন বলেন, ‘সিনেমাটির শুটিং শুরু আগে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় মাড়ির পেছনের দুটি দাঁত ভেঙে যায়। শুটিং শুরুর আগেই দাঁতের অপারেশন করিয়েছিলাম। কিন্তু এখনো সমস্যা দূর হয়নি। উল্টো দাঁতগুলো দেখতে বিশ্রী হয়ে গেছে। দাঁতের জন্য এখনো আমাকে সার্জারি করাতে হচ্ছে। এটা খুবই উদ্ভট একটা ব্যাপার।’ 

১৯৪৭ সালের দেশভাগ নিয়ে উপমহাদেশের মানুষের ভাবনা আজও চলমান। কেন দেশভাগ হলো, কিভাবে হলো- এ নিয়ে আলোচনা, বিতর্কের শেষ নেই। সেই দেশভাগের কাহিনি নিয়ে নির্মিত ‘ভাইসরয়’স হাউস’ সিনেমাটি ঐতিহাসিক আগস্ট মাসেই ভারতে মুক্তি পেয়েছে। হিন্দিতে রূপান্তরের পর সিনেমাটির নাম রাখা হয়েছে ‘পার্টিশন : ১৯৪৭’।

ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ বড়লাট লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের সময়ে ভাইসরয়ের ভবনের অভ্যন্তরীণ কিছু ঘটনা নিয়েই চলচ্চিত্রটির গল্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন ভারতের স্বাধীনতা অবশ্যম্ভাবী, তখন বড়লাট হয়ে আসেন লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী এডুইনা মাউন্ট ব্যাটেন, যিনি তার রূপের জন্য জগতখ্যাত ছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা প্রদানের কার্যক্রমে একের পর এক ভিন্নমত, উত্তাল সময়ে মাউন্ট ব্যাটেনদের জীবন এবং শেষে অনিবার্য ভারত বিভাগই এই চলচ্চিত্রের প্রধান উপজীব্য। এর পাশে মাউন্ট ব্যাটেনদের প্রাসাদে ভিন্ন ধর্মের দুই কর্মচারীর প্রণয় দেখানো হয়েছে।  এই দুজনের প্রেমকে কেন্দ্র করে পর্দায় এসেছে সেই সময়ের সমাজের নানা বৈষম্য।

এ সিনেমার মাধ্যমে আবারো আলোচনায় এসেছেন হুমা কুরেশি। গত ফেব্রুয়ারিতে বার্লিনের অফিশিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নিয়েছে হুমা অভিনীত ‘ভাইসরয়’স হাউস’। অফিশিয়াল সিলেকশনের পাশাপাশি বার্লিনে প্রিমিয়ারও করছে ছবিটি। এসব কারণে সিনেমাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।