তারকাদের বিচ্ছেদে আমরা কেন কষ্ট পাই?


তারকাদের প্রতি সাধারণ মানুষের এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করে। ফলে প্রায়ই দেখা যায়, যখন কোনো তারকা যুগল বা দম্পতির বিচ্ছেদ হয় তখন আমরা কষ্ট পাই। সাধারণ মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের সৃষ্টি হয় তারকাদের বিচ্ছেদে। কিন্তু আমাদের বাস্তব জীবনে সম্পূর্ণ অপরিচিত এসব তারকাদের বিচ্ছেদে আমরা কেন কষ্ট পাই?

লিন্ডসে হেন্ডারসন সাইয়িদ নামের এক মনোবিজ্ঞানীর মতে, একজন তারকার বিচ্ছেদে সাধারণ মানুষের এই হতাশা অনুভব করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ড. হেন্ডারসন ‘লাইভ হেলথ অনলাইন’ নামক একটি অ্যাপ এর মাধ্যমে ভার্চুয়ালি টেলি হেলথ সেবা দিয়ে থাকেন।

ড. হেন্ডারসন বলেন, সাধারণভাবে বলতে গেলে, সাধারণ জনগণ সর্বদা তারকাদের জীবনধারার চিত্তাকর্ষক অংশটিই দেখতে চান এবং তাদেরকে সব সময় সফল ব্যক্তিত্ব হিসেবেই দেখতে চান। সাধারণ জনগণ সফল হওয়ার ক্ষেত্রে তারকাদের কাজগুলোকেই অনুকরণ করে। যে কারণে যখন সে কোনো তারকার বিচ্ছেদের কথা শুনতে পায় তখন তার মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা হলিউড তারকা দম্পতি ক্রিস প্র্যাট এবং আনা ফারিস এর বিচ্ছেদের ঘটনাটিই এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা যায়। এই সপ্তাহের শুরুতে যখন তারা তাদের বিচ্ছেদের ঘোষণাটি দেন এবং ব্যাখ্যা করে বলেন যে, তারা একটি দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেছেন একসঙ্গে থাকার জন্য এবং অবশেষে তা করতে না পেরে তারা সত্যিই হতাশ, তখন হাজার হাজার মানুষ সামাজিক মিডিয়াগুলোতে তাদের কষ্টের কথা ব্যক্ত করেন। যেমন একজন লিখেছেন, ‘আন্তরিকভাবে বলতে গেলে ক্রিস প্র্যাট এবং আনা ফারিসের বিচ্ছেদে আমি এত কষ্ট পেয়েছি যে নিজের বাবা-মার বিচ্ছেদেও এতটা কষ্ট পাইনি।’ হলিউডে সাম্প্রতিক সময়ে ভক্তদের হৃদয়ভাঙা আরো কিছু বিচ্ছেদের ঘটনার মধ্যে রয়েছে ব্র্যাড পিট এবং অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, বেন আফ্লেক এবং জেনিফার গার্নার এবং ব্ল্যাক শেলেটন এবং মিরান্ডা ল্যাম্বার্ট।

এ বিষয়ে ড. হেন্ডারসন এক ব্যাখ্যায় বলেন, যখন একজন তারকা দম্পতির মাঝে বিচ্ছেদ হয় তখন আমরা তারকাদেরকে মডেল হিসেবে ধরি এবং সচেতনভাবেই হোক বা অচেতনভাবেই হোক প্রশ্নবাণে জর্জরিত করার মাধ্যমে নিজেদের কষ্টকে আরো বাড়িয়ে তুলি। তারকাদের নিয়ে আমাদের এই ভাবনাই শেষ পর্যন্ত গিয়ে ব্যক্তিগত অস্বস্তিতে পরিণত হয়। তাদের ব্যর্থতা কখনো কখনো আমাদের জীবনে অনেক বেশি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যদিও বাস্তবিক জীবনে এসব তারকাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

আমরা তারকাদের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র বা কনসার্টে দেখার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও দৈনন্দিন জীবনকে অনেক বেশি অনুসরণ করি। ডা. হেন্ডারসন বলেন, বিশেষ করে অ্যানা ফারিস এবং ক্রিস প্র্যাটের ভক্তরা এই অভিনেতা দম্পতিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের একে অপরের প্রতি স্নেহ-ভালবাসা প্রকাশ করাটা দেখতেই পছন্দ করেন। এই যেমন গত গ্রীষ্মের কোনো এক সপ্তাহে, প্র্যাট মা দিবসে তার স্ত্রীকে তার প্রেম এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য ইন্সটাগ্রামে একটি পোষ্ট করেন। এটিকেই ভক্তরা কল্পনাপ্রসূত তাদের জন্য তারকাদের কাছ থেকে একটি উপহার হিসেবে ধরে নেয়। তখন তারা ধরেই নেয় যে তারকাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব বা ভাঙন সৃষ্টি হতে পারে না।

বস্তুত তারকাদের বিচ্ছেদে আমরা আমাদের জীবনের বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে পারি যে, তাদের জীবনে ভাঙনের সুর বাজা মানে আমাদের জীবনেও তা ঘটতে পারে।

ডা. হেন্ডারসন বলেন, এটা মনে করাই ভালো যে তারকাদের জীবন সাধারণ মানুষের মতোই একই মৌলিক মানবিক আবেগ এবং সংগ্রামে পরিপূর্ণ। আর আমাদের উচিত তারকাদের জীবনযাপনকে অনুকরণের চেষ্টা না করে, আমাদের নিজেদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে চালিয়ে যাওয়া।