একাকী সময় উপভোগ করার দারুণ ৭টি উপায়!

Image result for একাকী সময় উপভোগ করার দারুণ ৭টি উপায়! 

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আমরা কারো না কারো সঙ্গে কাটাতে চাই। একা থাকার প্রহরগুলো যেন অভিশপ্ত ও বিষাদপূর্ণ মনে হয়। এমনভাবে জীবন অতিবাহিত করতে করতে আমরা নিজের জন্যে নির্দিষ্ট কিছু সময় বের করতেই ভুলে যাই। আমরা কী ভালোবাসি, আমাদের লক্ষ্য কী, অবহেলায় পড়ে থাকা শখগুলোর দিকেও যেন আর নজর দেওয়া হয় না। প্রায়ই কিন্তু নিজের জন্যে খানিকটা হলেও সময় বের করা উচিৎ!



নিজেকে নিজে অবিচ্ছেদ্যভাবে সময় দিলে অনেক অজানা তথ্য জানা যায়। নিজেকে নতুনরুপে প্রকাশ করা যায়, ভালোবাসা যায় এবং জ্ঞান অর্জন করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, একা থাকার মুহূর্তগুলোতে আপনি কী করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। চিন্তার কিছু নেই, আপনার জন্যেই আমাদের আজকের এ ফিচার।

চলুন তবে চমৎকার কয়েকটি কাজের কথা জেনে আসা যাক যেগুলো একা থাকলে করতে পারবেন আপনি-

কষ্টের কোন সিনেমা দেখুন

জ্বি, আপনি ঠিকই পড়েছেন। ধরুন, কিছুদিন আগেই মুক্তি পাওয়া একটি ছবি দেখার জন্য আপনার মন খুব আকুপাকু করছে। কিন্তু বন্ধুমহলে শুনলেন যে ছবিটি একদম ফ্লপ হয়েছে, দেখে সময় নষ্ট করার কোন মানেই হয়না। আপনি এক কাজ করুন। নিজেই সিনেমা হলে যান, একা টিকেট কেটে, এক বক্স পপকর্ন নিয়ে ছবিটি দেখে আসুন। খুব কান্না পেলে কেঁদে নিন। দেখার তো কেউ নেই, চিন্তা কিসের?

নতুন কোন জায়গায় ভ্রমণ করুন

অন্য কারো সঙ্গে কোথাও ঘুরতে গেলে সব সময় নিজের মন মতন ঘোরা যায় না। অন্যেরা যেটি দেখতে চান কিংবা যেখানে যেতে চান সেদিকে প্রাধান্য দিতে হয়। এক্ষেত্রে আপনি নিজেই পছন্দনীয় কোন জায়গা থেকে ঘুরে আসতে পারেন। কাছেই কোথাও হোক, সমস্যা কী? ঘোরাটাই হলো আসল। আপনি আনন্দ পাচ্ছেন, অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, সময় ভালো কাটছে এগুলোই মূল ব্যাপার।

রাতের খাবারটা বাইরে কোথাও সারুন

এক কাজ করতে পারেন। পছন্দের একটি বই নিয়ে কাছেপিঠে কোথাও রাতের খাবারটা সেরে আসতে পারেন। ভালো খাবার ও সঙ্গী হিসেবে প্রিয় বই- এর থেকে অনিন্দ্য আর কী হতে পারে বলুন? একটা কথা বলে রাখা ভালো, এ সময়টাতে ফোন থেকে অবশ্যই দূরে থাকবেন। খুব ভালো হয়, যদি এটিকে সাইলেন্ট মোডে রেখে দিতে পারেন।

জাদুঘরে ঘুরে আসুন

শৈশবে নিশ্চয়ই জাদুঘরে ভ্রমণ করা হয়েছে আপনার? তবে সঙ্গে ছিলো শিক্ষক, গাইড কিংবা পরিবারের কেউ। এবার একটু ভিন্নধর্মী পন্থা অবলম্বন করুন। কোন একটি ঐতিহাসিক কিংবা শিল্পকলা জাদুঘরে একাই ঘুরে আসুন। জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দারুণ কিছু সময় পার করতে পারবেন আপনি।

স্পা কিংবা ম্যাসাজ করাতে পারেন

ব্যস্ততার ভিড়ে যাবো যাবো করেও হয়তো পার্লারে যাওয়া হচ্ছে না। একদিন একটু সময় বের করে পার্লারে ঢু মেরে আসুন। ভালো কোন স্পা বা ম্যাসাজ করাতে পারেন। এতে করে শরীরের জড়তাগুলো দূর হওয়ার পাশাপাশি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যস্ততার দিনগুলোতে আপনি নিঃসন্দেহে কর্মোদ্যম অনুভব করবেন।

বইয়ের দোকানে সময় কাটান

ভালোমতন খোঁজ নিয়ে একটি বইয়ের দোকানে ঢুকে পড়ুন। সেখানে যত বই আছে সবগুলো নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করুন। পছন্দনীয় কোন বই পেলে আরামদায়ক চেয়ারে বসে সেখানেই পড়তে শুরু করুন। পারলে সেখানে বসেই শেষ করতে পারেন। মনের মধ্যে জমে থাকা ক্লান্তিগুলো দূর হয়ে যাবে নিমিষেই।

নিজেকে সময় দিন

এ কাজটা শুনতে সহজ মনে হলেও আদতে সবচেয়ে কঠিন! নিজের সান্নিধ্য কয়জন পছন্দ করে বলুন তো? কিন্তু এক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ নিন আপনি। একদম আপনভাবে নিজেকে সময় দিন। সবচেয়ে ভালোবাসেন যে কাজটি করতে সেটি নিয়ে বসে যান। আঁকতে ভালো লাগে? রং-তুলি বের করে কাগজে আঁচড় কাঁটা শুরু করুন। সাজতে ভালো লাগে? আয়নার সামনে মেকআপ ব্যাগ নিয়ে বসে যান। রাঁধতে ভালো লাগে? রেসিপি বই খুলে পছন্দের পদটি রান্না করা শুরু করুন। লিখতে ভালো লাগে? কলম-কাগজ তো আপনারই অপেক্ষায়! এভাবেই কিছু দারুণ মুহূর্ত নিজের সঙ্গেই কাটান। বিশ্বাস করুন, খুশিতে চোখে জল এসে যাবে শেষমেষ।

সব সময় জনস্রোতে মিশতে কার ভালো লাগে বলুন? মাঝে মধ্যে একটু সময় বের করে নিজ সান্নিধ্যে ব্যয় করুন। আপনি যে আনন্দ এতে পাবেন, তার কাছে যেকোন আনন্দ খুব ঠুনকো। শুভকামনা আপনার জন্যে।

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আমরা কারো না কারো সঙ্গে কাটাতে চাই। একা থাকার প্রহরগুলো যেন অভিশপ্ত ও বিষাদপূর্ণ মনে হয়। এমনভাবে জীবন অতিবাহিত করতে করতে আমরা নিজের জন্যে নির্দিষ্ট কিছু সময় বের করতেই ভুলে যাই। আমরা কী ভালোবাসি, আমাদের লক্ষ্য কী, অবহেলায় পড়ে থাকা শখগুলোর দিকেও যেন আর নজর দেওয়া হয় না। প্রায়ই কিন্তু নিজের জন্যে খানিকটা হলেও সময় বের করা উচিৎ!