এত্ত বড় সাগর আর এত্ত বড় ঢেউ..!!

এত্ত বড় সাগর আর এত্ত বড় ঢেউ..!! 


সময়টা ২০১১ সালের নভেম্বর মাস, ঈদের ছুটি, বাড়িতে বসে আছি, কোথাও বেড়াবার জায়গা নেই। সবে মাত্র প্রেমে পড়েছি। মোবাইলেই কাটছে অনেকটা সময়। হঠাৎ নীল বলল চল সাগড় দেখে আসি। আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম, মেয়ে বলে কি? এখনো বিয়ে হয় নাই আবার ঘুরতে যাওয়া। কিন্তু সে কোন কিছুতেই হাল ছাড়ার পাত্রী নয়, আমি না গেলে সে একাই যাবে সমুদ্র দেখতে, সমুদ্র দেখা শেষ হলে দিবে ঝাপ, তারপর সব শেষ। অগ্যতা উপায় না দেখে রাজি হলাম।


ঠিক হলো আমরা রাতে রওনা হব, সারা দিন সমুদ্র কন্যার রুপ দেখব, হাতে হাত রেখে বালুকাবেলায় হেটে বেড়াব, সূর্যাস্ত দেখব তারপর বাড়ি ফিরব। দুপুরে চিটাগাং রোড থেকে এস.আলম পরিবহনের টিকিট কিনলাম, বাস ছাড়বে রাত ১১টায়। কথামত আমরা রাত ১০টা ৩০এ চিটাগাং রোডে পৌছে গেলাম। গাড়ি আসতে আসতে ১২ টা বাজলো। গাড়িতে উঠলাম প্রিয়তমাকে সাথে নিয়ে। বুকটা দুরু দুরু করে কাপলেও দুজন মনের আনন্দে রওনা হলাম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। রাতের অন্ধকার, প্রিয়তমা পাশে আর গান এই পথ চলা যেন শেষ না হয়...। কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম জানি না, সে যেন এক প্রশান্তির ঘুম, বাস কুমিল্লা এসে দাড়াল, খানিক বিশ্রাম, তখন রাত ৩টা বাজে। ফ্রেশ হলাম দুজনে, খেলাম রেস্তোরায় তারপর আবার যাত্রা আবার সেই ঘুম।

ভোর ৫ টায় আমরা চট্রগ্রাম পৌছালাম, এবার চোখে পড়ল রাস্তার দুপাশের মনোরম দৃশ্য। পাহাড়ের অদম্য চাহনী আর আকা বাকা পথ, নিশ্চুপ গাছ-গাছালি, নীল কে জোর করে ঘুম ভাঙ্গালাম। দুচোখ ভরে দুজন মিলে দেখলাম প্রকৃতির দৃশ্য। গাড়ি চট্রগ্রাম ছাড়িয়ে ছুটে চলল সাগরের দেশে।

বেলা ৭ টায় আমরা কক্সবাজার পৌঁছালাম। কোথায় যাব, কি করব কিছুই জানি না তার ওপর নতুন জায়গা। একটা রিকশা ভাড়া করলাম, সেই আমাদের সমুদ্রের পাড়ে নিয়ে গেল। আমরা একটা রেস্তোরায় সকালের নাস্তা করে বেড়িয়ে গেলাম সমুদ্র দেখার আনন্দে। হাটি হাটি পা পা করে আমরা যতই সমুদ্রের কাছে আসছি ততোই সমুদ্রের গর্জন শুনতে পেলাম, বীচে পৌছে দুজনেরই মুখ হা। এত্ত বড় সাগর, এত্ত বড় ঢেউ! আমার জীবনে এত বড় সাগর আর ঢেউ কখনও দেখিনি।

প্রচন্ড মুগ্ধতায় নীল আমাকে আঁকড়ে ধরল, আমিও তার হাতটি ধরে সমুদ্রের পানিতে হাটলাম অনেকক্ষণ, কি যে ভাল লাগছিল, একদিকে প্রিয় মানুষ, অন্যদিকে বিশাল জলরাশি। সে যে কি আনন্দ বলে বোঝাতে পারব না। বেলা ১২ টায় আমরা বীচ থেকে উঠে আসলাম। আবার ফিরতি টিকিট কাটলাম তারপর দুপুরের খাবার খেলাম একটা ছোট্ট রেষ্টুরেন্টে। আবার গেলাম বীচে। এবার আমরা ঝাউবনে বসে সাগরের মাতাল রুপ দেখছি আর আমাদের অনাগত দিন গুলোর কথা ভাবছি। কত যে ওয়াদা আর কত যে অঙ্গীকার সেদিন দুজনে করেছিলাম ভাবলে আজও ভাল লাগে। দুজন দুজনার হাত ধরে আমরা আমাদের সমস্ত ভালবাসা অনুভব করলাম।

কখন যে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হল বুঝতেই পারিনি। মনে হল যেন স্বপ্নের দেশে আছি দুজন। বিকেলের আলোয় সমুদ্র যেন আরো উত্তাল। কি যে তার উত্তাল রুপ না দেখলে বলে বোঝানো যাবে না। অনেক মানুষের সমাগম, অনেক ভিড়, পাশেই অনেক দোকানিরা পশরা সজিয়ে বসে আছে, কেনাকাটাও করলাম খানিকটা। একটা বড় ঝিনুক, ঝিনুকের মালা, কানের দুল ইত্যাদি। তারপর আমরা আবার বেলাভুমিতে এসে ঘন্টা প্রতি ৪০ টাকায় বীচ বেঞ্চে বসলাম সূর্যাস্ত দেখব বলে। সময় যাচ্ছে আর সূর্যটা যেন ক্রমশ তার সমস্ত শক্তি হারিয়ে নিজেকে লুটিয়ে দিচ্ছে সাগর কন্যার কাছে। এ যেন কোন রাজার অসহায় আত্মসমর্পন। ক্রমশ জলন্ত সূর্যটা একটা লাল থালার মত রুপ নিল, তারপর মিলিয়ে গেল সাগর কন্যার কোলে।

সময় থেমে থাকে না। আস্তে আস্তে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল, নামল অন্ধকার। আমি আর নীল আস্তে আস্তে বিদায় নিলাম সাগরের কাছ থেকে। গেলাম বার্মীজ বাজারে। সেখান থেকে জামা, জুতা, আচার, চকলেট ইত্যাদি কিনে নিয়ে রাতের ডিনার করলাম। তারপর আবার বাসে চেপে রওনা হলাম নিজ গন্তব্যে। কি যে এক অপূর্ব দিন কাটালাম সেদিন যা, প্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। আমাদের সেদিনের সে প্রতিজ্ঞা আর অঙ্গীকার বিফলে যায়নি, তাই তো সাগর কন্যার আর্শীবাদে আজ আমরা সফল যুগল।

সময়টা ২০১১ সালের নভেম্বর মাস, ঈদের ছুটি, বাড়িতে বসে আছি, কোথাও বেড়াবার জায়গা নেই। সবে মাত্র প্রেমে পড়েছি। মোবাইলেই কাটছে অনেকটা সময়। হঠাৎ নীল বলল চল সাগড় দেখে আসি। আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম, মেয়ে বলে কি? এখনো বিয়ে হয় নাই আবার ঘুরতে যাওয়া। কিন্তু সে কোন কিছুতেই হাল ছাড়ার পাত্রী নয়, আমি না গেলে সে একাই যাবে সমুদ্র দেখতে, সমুদ্র দেখা শেষ হলে দিবে ঝাপ, তারপর সব শেষ। অগ্যতা উপায় না দেখে রাজি হলাম।