পূজায় তৈরি করুন মজাদার ৫ পদ

 


পূজার দিনগুলোতে তৈরি করুন মজাদার সব খাবার। এই সময় বাড়িতে থাকে অনেক কাজ। অতিথিদের আনাগোনা, বাড়ির কাজ, ছোট-বড় সবার প্রতি খেয়াল রাখা। আর সাথে রান্নার কথা ভুলে গেলে তো চলবে না। এতোকিছুর পরও রান্না তো করতে হবেই। তাই ঝটপট দেখেনিন কিছু রান্না।


টমেটোর চাটনি :

উপকরণ :

টমেটো,
আলুবোকরা,
কিসমিস,
চিনি
তেতুল
লবণ
শুকনা মরিচ
কাঁচা মরিচ,
পাঁচফোঁড়ন,
হলুদ,
তেল,
আদা
রসমলাই (ইচ্ছা)
 


প্রণালি: কড়াইতে তেল গরম হওয়ার পর পাঁচফোঁড়ন শুকনা মরিচ দেবেন। তারপর টমেটোগুলো দেবেন। সাথে লবণ কাঁচা মরিচ দিয়ে সেদ্ধ করে নিবেন। আলুবোকরা আর কিচমিচ আগে ভিজিয়ে রাখবেন। এরপর একে একে আলুবোখরা, কিসমিস, চিনি তেতুল দিয়ে একটা কঁচের পাএে নামিয়ে নিবেন। সামান্য আদা কুচি উপরে ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

বুটের ডাল :

উপকরণ:
৪০০ গ্রাম বুটের ডাল।
নারকেল কুচি,
তেল,
মেথি, মৌরি, পাঁচফোঁড়ন,
আদা,
জিরা,
কাঁচা মরিচ,
ঘি,
চিনি,
হলুদ, লবণ,
শুকনো মরিচ ও তেজপাতা পরিমাণমতো।

প্রণালি : প্রেশার কুকারে বুট সেদ্ধ করে নিন। তারপর পাত্রের তেলের মধ্যে শুকনো মরিচ ও তেজপাতা দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। লাল হয়ে এলে মেথি, মৌরি ও নারকেল কুচি দিয়ে নাড়ুন। হালকা বাদামি হয়ে এলে পানিসহ সেদ্ধ ডাল দিয়ে লবণ ও হলুদের গুঁড়া দিয়ে নাড়ুন। ডালটা সেদ্ধ হয়ে ঘন হয়ে এলে ১ চা-চামচ চিনি দিয়ে নাড়ুন। চিনি দেওয়ার মিনিট দুয়েক পরেই নামিয়ে ফেলুন। ওপরে নারকেল কুচি ছড়িয়ে দিন।

লাবড়া :

উপকরণ:
মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, আলু, পেঁপে, মুলা, বরবটি, ফুলকপি, কাঁকরোল, পটোল এবং বাজারে পাওয়া যায় এমন যেকোনো সবজি এক কাপ করে।
তেজপাতা,
পাঁচফোড়ন,
শুকনা মরিচ,
ছ্যাঁচা আদা,
ধনে গুঁড়া,
তেল বা ঘি,
হলুদের গুঁড়া,
লবণ ও কাঁচা মরিচ।


প্রণালি : সব সবজি ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিন। পাত্রে পরিমাণমতো তেল বা ঘি ছড়িয়ে দিন। তেল একটু গরম হয়ে এলে শুকনা মরিচ ও তেজপাতা দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়ুন। লাল হওয়ার পর পাঁচফোড়ন ও ছ্যাঁচা আদাটা দিন। একটু ভেজে নিয়ে সব সবজি ঢেলে দিয়ে হলুদের গুঁড়া ও লবণ দিয়ে নাড়ুন। বাড়তি ঝাল খেতে চাইলে একটু মরিচের গুঁড়াও দিতে পারেন। কিছুক্ষণ নাড়ার পর সবজি থেকে পানি বের হয়ে এলে ঢেকে দিন। মাঝেমধ্যে ঢাকনা খুলে নাড়াচাড়া করুন। সবজি গলে যাওয়ার পর ধনেগুঁড়া ও লম্বা করে কাটা দু-তিনটি কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন। দু-তিন মিনিট রেখে একটু ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

কাঁকরলের চপ :

উপকরণ:
কাঁকরল,
সরষে বাটা,
নারিকেল বাটা,
কালোজিরা,
চালের গুঁড়ো ময়দা,
হলুদ,
কাঁচা মরিচ,
চিনি,
ধনেপাতা,
আদা,
তেল ও লবণ পরিমাণ মতো।


প্রণালি : প্রথমে কাঁকরলগুলো মাঝখানে কেটে দুই টুকরো করে কড়াইতে গরম পানিতে সেদ্ধ করতে হবে। কাঁকরল সেদ্ধ হওয়ার জন্য পরিমাণমতো পানি দিন। কাঁকরলের বিচি নিয়ে নিবেন। পরিমাণ মতো লবণ ও হলুদ মেখে হালকাভাবে কষিয়ে উঠিয়ে নিন। সরিষা ও কাঁচা মরিচ বাটা এক কাপ পানির মধ্যে গুলে নিন।
একটি পাত্রে তেল ও আস্ত সরিষা ছেড়ে দিন। লাল হয়ে এলে সরিষা ও কাঁচা মরিচ বাটা তেলের মধ্যে ছেয়ে দিন। মিনিট দুয়েক পরে এর মধ্যে ভাজা কাঁকরল ছেয়ে দিন।
এবার চালের গুঁড়ো আর ময়দা আদা বাটা লবণ চিনি পানির সাথে মিশিয়ে নিবেন তারপর গরম তেলে লাল করে ভেজে তুলে নিবেন।

কচু শাক :

উপকরণ:

কচু শাক কচুর ডগা পরিমান মতো,
নারিকেল বাটা,
পাঁচফোঁড়ন শুকনো মরিচ,
আদা,
জিরা,
কাঁচা লংকা,
লবণ,
চিনি,
ঘি,
তেজপাতা,
হলুদ,
তেল,
মরিচ গুড়ো

প্রণালি : শাক এবং ডগাগুলো ভালো করে ধুঁয়ে নিতে হবে একটু হলুদ আর লবণ দিয়ে মেখে রাখবেন। কড়াইতে কচুশাক ও ডগাগুলো লবণ হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করে নিতে হবে। পরিমান মতো, নারিকেল বাটা, পাঁচফোঁড়ন শুকনো লংকা, আদা, জিরা, কাঁচা মরিচ, লবণ, চিনি, ঘি, তেজপাতা, হলুদ, তেল, মরিচ গুড়ো দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নামানোর আগে চিনি আর ঘি দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিবেন।

পূজার দিনগুলোতে তৈরি করুন মজাদার সব খাবার। এই সময় বাড়িতে থাকে অনেক কাজ। অতিথিদের আনাগোনা, বাড়ির কাজ, ছোট-বড় সবার প্রতি খেয়াল রাখা। আর সাথে রান্নার কথা ভুলে গেলে তো চলবে না। এতোকিছুর পরও রান্না তো করতে হবেই। তাই ঝটপট দেখেনিন কিছু রান্না।