হিমালয়ে আছে বাংলাদেশের নামের একটি পর্বত, জানেন কি?

 

 হিমালয় পর্বতমালার অসংখ্য সুউচ্চ দূর্গম পর্বতের মাঝে একটি পর্বতের নাম আমাদের দেশের নামে। অবাক হচ্ছেন? বিষয়টি সত্য এবং এই প্রাপ্তি একদিনের নয়। পর্বতারোহী ইনাম আল হকের অনেক দিনের স্বপ্ন, কোনোভাবে যদি হিমালয়ের বুকে খচিত হতে পারে বাংলাদেশের নাম! কিন্তু কীভাবে?! তার বিটিএমসি ক্লাব (বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব) এ আছেন এম এ মুহিত সহ আরও অনেক দুধর্ষ ট্রেকার/ ট্রাভেলার। সবাই মিলেই উপায় খুঁজতে লাগলেন।


সম্ভাবনার আলো দেখালেন বিশ্ব রেকর্ডধারী পর্বতারোহী পেম্বা দর্জি শেরপা। তিনি জানালেন, হিমালয়ের এমন কোনো পর্বত যার চূড়ায় মানুষের পা পড়েনি কখনো সেই পর্বতে যদি নেপাল এবং বাংলাদেশ মিলিয়ে একটি যৌথ অভিযান চালোনো যায় এবং সফল হওয়া যায় তাহলে সেই পর্বতটির নাম হতে পারে 'নেপাল বাংলাদেশ মৈত্রী শিখর'।

নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের (এনএমএ) সভাপতিকে এই বিষয়ে চিঠি লেখা শুরু হয়ে গেল। অনেকদিন কোনো সাড়া না দিলেও অবশেষে ২০১০ সালের আগষ্টে উত্তর আসে ইমেইলে। এনএমএর সভাপতি জিম্বা জাংবু শেরপা জানান চেকিগো পর্বতের কথা। জানা যায়, বিভিন্ন দেশ থেকে এপর্যন্ত ১৩টি দেশ এই পর্বতে অভিযান চালালেও সফল হয়নি কেউই। এতটাই ভয়ংকর দূর্গম চেকিগো। পরিকল্পনা শুরু হল অভিযানের। অর্থায়নে এগিয়ে এল কসমস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ইউএনবির সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান এবং প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান।

অভিযানটি ছিল যৌথ অর্থাৎ বাংলাদেশ ও নেপালের পর্বোতারোহীরা একসাথে এই চেকিগো চূড়ায় আরোহণের সিদ্ধান্ত নেন, সফল হন এবং চেকিগোর নাম রাখা হয় 'নেপাল বাংলাদেশ মৈত্রী শিখর'। বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন আমাদের গর্ব, দু'বার এভারেস্ট বিজয়ী এম এ মুহিত। অন্যান্য সদস্য ছিলেন নিশাত মজুমদার, সাদিয়া সুলতানা, সজল খালেদ, নুর মোহাম্মদ ও কাজী বাহলুল মজনু বিপ্লব। নেপাল দলের নেতৃত্ব দেন পেম্বা দর্জি শেরপা এবং অন্যান্য সদস্য ছিলেন মিংমা গ্যালজে শেরপা, দা-কিপা শেরপা, মিংমা দর্জি শেরপা, দাওয়া ইয়াংজুম শেরপা, সুস্মিতা মাসকে ও নাওয়াং ফুটি শেরপা।

৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয় মূল অভিযান। প্রচন্ড খাঁড়া এবং ভয়ংকর পথ পাড়ি দিতে হল আরোহীদের। এর মাঝে ঘটলো এমন সব বিপদ যাতে মৃত্যুও হতে পারত যেকোনো সময়। কিন্তু সবার মাঝেই তখন পর্বত জয়ের নেশা। দেশের পতাকা চেকিগোর চূড়ায় উড়িয়ে দেবার নেশা তাই লড়াই চলল। বেস ক্যাম্প, এরপর এডভান্স বেস ক্যাম্প আর তারপর হাই ক্যাম্প... এভাবে এগিয়ে যেতে লাগলো দলটি। আগে নেপালি দল, তারা পথ তৈরি করে চলছিল আর পরে বাংলাদেশি দল অনুসরণ করছিল সেই পথ। দীর্ঘ কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে হলেও একদিন বিজয় এলো হাতের মুঠোয়। জয়ী হল বাংলাদেশ।

বিজয়ের সংবাদ পেয়ে কাঠমুন্ডু আসলেন ইনাম আল হক। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর হোটেল ইয়াক এন্ড ইয়েতিতে এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানে চেকিগো পর্বতের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়। চেকিগো এর উচ্চতা ২০,৫২৮ ফুট (৬,২৫৭ মিটার)। নামকরণ করেন নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। পর্বতটির অবস্থান নেপাল-তিব্বত সীমান্তে। 

হিমালয় পর্বতমালার একটি পর্বত চেকিগো। এই নামকরণের মাধ্যমে চিরকালের জন্য সুবিশাল এই পর্বত গোষ্ঠীর একজন হয়ে গেলাম আমরা, আমাদের বাংলাদেশ।

হিমালয় পর্বতমালার অসংখ্য সুউচ্চ দূর্গম পর্বতের মাঝে একটি পর্বতের নাম আমাদের দেশের নামে। অবাক হচ্ছেন? বিষয়টি সত্য এবং এই প্রাপ্তি একদিনের নয়। পর্বতারোহী ইনাম আল হকের অনেক দিনের স্বপ্ন, কোনোভাবে যদি হিমালয়ের বুকে খচিত হতে পারে বাংলাদেশের নাম! কিন্তু কীভাবে?! তার বিটিএমসি ক্লাব (বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব) এ আছেন এম এ মুহিত সহ আরও অনেক দুধর্ষ ট্রেকার/ ট্রাভেলার। সবাই মিলেই উপায় খুঁজতে লাগলেন।