একজন আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি যে কাজগুলো কখনোই করেন না!

A-self-confident-person-does-not-do-any-of-the-tasks


কোন অনুষ্ঠানে যে ব্যক্তিটি সবার মাঝে অনেক বেশী কথা বলেন, আমরা ধরেই নেই সে নিশ্চয় খুবই আত্মবিশ্বাসী একজন ব্যক্তি! কিন্তু আসলেও কি সে আত্মবিশ্বাসী? অথবা, যিনি কথায় কথায় অন্যকে খোঁচা দিতে পছন্দ করেন তাকে আমরা কেমন মানুষ হিসেবে ধরে নেই? আমরা ভাবি সেই মানুষটা নিশ্চয় অনেক জানেন, অনেক বোঝেন। যে কারণে অন্যের অজ্ঞতা নিয়ে হাসিঠাট্টা করছেন! আসলেও কি আমাদের ভাবনাগুলো সঠিক? আসলেও কি একজন সত্যিকারের আত্মবিশ্বাসপূর্ণ ব্যক্তির মাঝে এমন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো থাকে?


সকল প্রশ্নের উত্তর খুব গোছানো এবং পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে দুইজন বিখ্যাত এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব প্যাট্রিক.জেডি.পিএইচডি এবং জোসেফ আর. স্যানক এর অভিজ্ঞতার আলোকে। জেনে নিন, একজন আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি যে কাজগুলো কখনোই করেন না।

নিজের সম্পর্কে সমালোচনাতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা

আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি নিজেকে খুব ভালোমতো চিনে থাকেন। নিজের প্রতিভা এবং ভুল সম্পর্কে তাদের মধ্যে পরিষ্কার ধারণা থাকে বলে তারা নিজেদের সম্পর্কে গঠনমূলক সমালোচনাকে সাধারনভাবে গ্রহণ করেন। এতে তাদের ভেতরের আত্মবিশ্বাস পরিস্কারভাবে ফুটে ওঠে। “প্রতিক্রিয়াকে সাদরে গ্রহণ করার মাঝে আত্মবিশ্বাস এবং কর্মদক্ষতা প্রকাশ পায়। এই দুটো গুণ জীবনে দক্ষতা বাড়িয়ে থাকে।” বলেছেন ‘বিহাভিয়ার এক্সপার্ট’ এর লেখন ওয়েন্ডি প্যাট্রিক.জেডি.পিএইচডি।

সবাইকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা

“অন্যকে সাহায্য করতে চাওয়া এবং অন্যের জন্য নিজেকে একদম বিলিয়ে দেওয়ার মাঝে পার্থক্য রয়েছে। প্রথম ব্যাপারটি চাওয়া খুবই ভালো। তবে পরেরটি একদম অসম্ভব একটি ব্যাপার এবং এটা একজন ব্যক্তি আত্মবিশ্বাস একদম নষ্ট করে দেয়।” বলেছেন একাধারে একজন প্রফেশনাল কাউন্সিলর, বিজনেস কোচ এবং ‘প্র্যাকটিস অফ দ্যা প্র্যাকটিস’ এর লেখক জোসেফ আর. স্যানক। তিনি আরো বলেন, “যারা সকলের মন যুগিয়ে চলতে চায় তারা অনেক সময় আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভোগে এই ভেবে যে মানুষ তাকে কী বলবে!”

অন্যের কথা শোনার চাইতে নিজে বেশি কথা বলা

অনেকেই ভেবে থাকতে পারেন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হওয়া মানেই সকল স্থানে সবার মাঝে নিজেই বেশি কথা বলা। কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটি একেবারেই ভিন্ন। বরং যারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকেন তারা অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। কারণ নিজেকে তাদের কারোর কাছে প্রমাণ করার কোন প্রয়োজন নেই একেবারেই। প্যাট্রিক বলেন, “এর মানে হল, তারা কথা বলেন খুব ধীরে এবং কথা শোনেন অনেক বেশি। বিশেষ করে যারা তাদের কাছের মানুষ তাদের সাথে এমন বেশি করেন তারা।”

ফেসবুকে অনেক বেশি সময় কাটানো

আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিরা ফেসবুক খুব বুদ্ধির সাথে ব্যবহার করেন। ফেসবুকে অনেক বেশি সময় কাটিয়ে অন্যের ‘পারফেক্ট’ জীবন যাপন দেখলে অনেকের মাঝেই আত্মবিশ্বাস এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যে কারণে কোন প্রয়োজনে কিংবা কারোর সাথে কথা বলার দরকারেই ফেসবুক ব্যবহার করা উচিৎ। “আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিরা অল্প কিছু বিশেষ মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্যে ফেসবুক ব্যবহার করেন। কিছু করার নেই বলে অকারণে ফেসবুকে ঘুরাঘুরি করেন না তারা,” বলেছেন স্যানক।

অন্যকে খোঁচা দেওয়া এবং অন্যকে নিয়ে মজা করা

অন্যকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা-তামাশা করা, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মজা করার মত কাজগুলো সাধারণত অনিশ্চয়তায় ভোগা মানুষেরা করে থাকেন। তারা অন্যকে ছোট করে নিজেকে বড় দেখাতে চান। অন্যের ব্যাপারে মজা করে নিজের প্রশংসা শুনতে চান। যেখানে একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ অন্যকে সবসময় সমর্থন দিবে, তাদের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবে। এতে করে শুধুমাত্র কারোর ভেতরের আত্মবিশ্বাস প্রকাশিত হয় সেটাই নয়, সেই ব্যক্তি অন্যের কাছেও বিশ্বাসযোগ্য একজন মানুষ হয়ে ওঠেন।

একদম জথুবথু হয়ে বসে থাকা

“অঙ্গভঙ্গি খুব পরিস্কারভাবে প্রকাশ করে দেয় কারোর আত্মবিশ্বাসহীনতা। খুব দৃঢ় এবং সুস্পষ্ট অঙ্গভঙ্গি একজন মানুষের ভেতরের আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ ঘটায়,” বলেছেন স্যানক। তিনি আরো বলেন, “যদি নিজের মাঝে এবং নিজের শরীর নিয়ে কেউ আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগে থাকে তবে প্রথমেই তার খুঁজে বের করতে হবে সমস্যাটি কোথায়। এরপর সেই সমস্যাটি ঠিক করার জন্য চেষ্টা করতে হবে।”

সে নিজে সবকিছু জানে- এমন বিশ্বাস ধারণ করা 

“অন্যের দৃষ্টিকোন সম্পর্কে জানা এবং তাদের আইডিয়া সম্পর্কে প্রতি জানার ইচ্ছা পোষণ করা একজন ব্যক্তির আত্ম-সংযম এবং মানসিক পরিপক্বতার পরিচয় দেয়,” বলেছেন প্যাট্রিক। নিজের মতামতকেই সবচেয়ে সঠিক এবং ভালো মনে করা, একমাত্র নিজের দেখানো পথেই সফলতা আসা সম্ভব- এমন মনে করা আত্মবিশ্বাস এর ঘাটতির পরচয় দেয়।

সকলের সামনে ভণিতা করা

“পুরনো দিনের একটি প্রবাদ রয়েছে- ‘যতদিন পর্যন্ত সফলতা অর্জন করতে পারো ততদিন পর্যন্ত ভেক ধরে থাকো।’ কিন্তু কারোর মাঝে আত্মবিশ্বাস থাকলে তার মিথ্যা ভণিতা করার একেবারেই কোন প্রয়োজন হয় না,” বলেন স্যানক। এর সাথে তিনি আরও যোগ করেন, “সকল বিষয়ে জানেন এমন একটা ভাব ধরতে ইচ্ছা করলেও শুধুমাত্র সেই বিষয়েই কথা বলুন যেটা সম্পর্কে আপনি জানেন। ভণিতা করার কোন প্রয়োজন নেই।” আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিরা খুব সাধারণভাবেই নিজেদের অজ্ঞতা স্বীকার করে নেন এবং অন্যের কাছ থেকে জানার আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন। 

সারাদিন নিজের কর্মক্ষেত্রে সময় কাটানো

কিছু আত্মবিশ্বাসী মানুষ একদম প্রাকৃতিকভাবে ‘লিডার’ হবার গুণাবলী নিজের মাঝে ধারণ করেন। কিন্তু একজন সত্যিকারের আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি কখনোই তার দিনের পুরোটা সময় অথবা বেশীরভাগ সময় কর্মস্থলে কাটিয়ে পার করে দেন না। বরং তারা নিজেদের জন্য সময় বের করেন, নিজেদের পছন্দের কাজ করেন। যে কাজটি তাদের প্রাণশক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে অনুপ্রাণিত করবে সেই কাজটিই করেন তারা। অন্যের চাহিদার জন্য নিজের সময় নষ্ট করার পক্ষপাতী নয় তারা। তাই কীভাবে অন্যকে ‘না’ বলতে হয় সেটা তারা খুব ভালোভাবেই জানেন।

কোন অনুষ্ঠানে যে ব্যক্তিটি সবার মাঝে অনেক বেশী কথা বলেন, আমরা ধরেই নেই সে নিশ্চয় খুবই আত্মবিশ্বাসী একজন ব্যক্তি! কিন্তু আসলেও কি সে আত্মবিশ্বাসী? অথবা, যিনি কথায় কথায় অন্যকে খোঁচা দিতে পছন্দ করেন তাকে আমরা কেমন মানুষ হিসেবে ধরে নেই? আমরা ভাবি সেই মানুষটা নিশ্চয় অনেক জানেন, অনেক বোঝেন। যে কারণে অন্যের অজ্ঞতা নিয়ে হাসিঠাট্টা করছেন! আসলেও কি আমাদের ভাবনাগুলো সঠিক? আসলেও কি একজন সত্যিকারের আত্মবিশ্বাসপূর্ণ ব্যক্তির মাঝে এমন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো থাকে?