বাংলাদেশি বিয়ে নিয়ে আমেরিকায়!

Bangladeshi-marriage-in-America 


তার স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হওয়ার,  সাধ্যের কাছে হার মেনে ইতি টানলেন এই স্বপ্নে। লেখাপড়া শেষ করে সাংবাদিক হওয়ার ইচ্ছা ছিল প্রবল। বড় বড় কাজ করেছেন সাপ্তাহিক বিচিন্তায় থেকে। কিন্তু সেই পেশায় আয় কম বলেই নতুন করে আশা দেখলেন ক্যামেরার ভিউ ফাইন্ডারে। সাদাকালো নেগেটিভ থেকে ডিজিটাল হওয়া স্বপ্নে কালের সাক্ষী করে গড়ে তুলেছিলেন স্টুডিও পদ্মা। পাশাপাশি ছবিও তুলতেন, বিশেষ করে মানুষের বিয়ের মুহূর্ত ধরে রাখতেন এই সুনিপুণ কারিগর। তার নাম আক্কাস মাহমুদ।


১৯৬৫ সালে জন্ম নেওয়া এই ছবির কারিগর বেগ আর্ট ইন্সটিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করেন তার ফটোগ্রাফি ক্যারিয়ার। বিল ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজের মুহূর্ত ধারণের দায়িত্ব পেয়েছেন তার কর্মজীবনে। কাজ করেছেন দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে। বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক এ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি পদেও গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন।

বাংলাদেশে ফটোগ্রাফির মান বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পদ্মাপাড়ের এই ছেলে তের নদী সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে প্রদর্শনী করেছেন নিউইয়র্কে। ‘ওয়েডিং কালারস বাই আক্কাস মাহমুদ' শীর্ষক এই প্রদর্শনী নিউইয়র্ক প্রবাসীদের মনে ব্যপক সাড়া জাগিয়েছে। সম্প্রতি প্রদর্শনী শেষ করে এসে একান্ত সাক্ষাৎকারে বললেন ফটোগ্রাফি নিয়ে তার স্বপ্নের কথা।


 বিদেশের মাটিতে প্রদর্শনীর পেছনে মূল কারণ কি ছিল?

আক্কাস মাহমুদ: ফটোগ্রাফিতে আমাদের দেশের ভালো সুনাম রয়েছে বিশ্বে। আমরা অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কারও এনেছি দেশে। কিন্তু আমরা আমাদের কাজগুলো কেন জানি প্রচার করতে পারছিনা। দেশে অনেক মানসম্মত কাজ হয়, এগুলো বিশ্বকে দেখানো প্রয়োজন। আর তার জন্য আমার এই উদ্যোগ।

 পেশা হিসেবে ফটোগ্রাফির ভবিষ্যৎ কেমন?

আক্কাস মাহমুদ: পেশা হিসেবে ফটোগ্রাফির উপর নির্ভর করা যায়। এখন মার্কেট অনেক বড়। কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। মুল পেশা হিসেবে ফটোগ্রাফিকে বেছে নেওয়া যায়। তবে শেখানোর প্রতিষ্ঠান বাড়ানো প্রয়োজন। আমাদের দেশে অল্প কয়েকটা প্রতিষ্ঠান আছে যারা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। কিন্তু তা সবার জন্য সহজলভ্য না হওয়ায় অনেক ঝুঁকেন টিউটোরিয়াল দেখে শেখার পেছনে। এটাকে আবার আমি সমর্থন করিনা। হাতে কলমে শেখায় প্রচুর দক্ষতা বাড়ে।

 ফটোগ্রাফি নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী?

আক্কাস মাহমুদ: ফটোগ্রাফির উপর একটা ইউনিভার্সিটি করার স্বপ্ন ছিল আমার। নানা প্রতিকূলতায় তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি। তবে আমি একটা ইন্সটিটিউট করবো যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যেখানে অল্প দামে সকালের নাস্তা খেতে খেতেও সবাই ফটোগ্রাফি নিয়ে আড্ডা দিবে। ইন্টারনেট সুবিধা থাকবে, এমনকি যার অফিস নেই ক্লায়েন্টের সাথে বসার জন্য সেও এখানে এসে ক্লায়েন্টের সাথে মিটিং করতে পারবে। এজন্য সবরকম সুযোগ সুবিধা এখানে থাকবে। পাশাপাশি নিয়মিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ তো থাকবেই। আরেকটা জিনিস করতে চাই সেটা হল সুবিধাবঞ্চিতদের হাতে ক্যামেরা তুলে দিবো। তারা ক্যামেরা চালানো শিখবে। নিজেকে স্বাবলম্বী করবে।

তার স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হওয়ার, সাধ্যের কাছে হার মেনে ইতি টানলেন এই স্বপ্নে। লেখাপড়া শেষ করে সাংবাদিক হওয়ার ইচ্ছা ছিল প্রবল। বড় বড় কাজ করেছেন সাপ্তাহিক বিচিন্তায় থেকে। কিন্তু সেই পেশায় আয় কম বলেই নতুন করে আশা দেখলেন ক্যামেরার ভিউ ফাইন্ডারে। সাদাকালো নেগেটিভ থেকে ডিজিটাল হওয়া স্বপ্নে কালের সাক্ষী করে গড়ে তুলেছিলেন স্টুডিও পদ্মা। পাশাপাশি ছবিও তুলতেন, বিশেষ করে মানুষের বিয়ের মুহূর্ত ধরে রাখতেন এই সুনিপুণ কারিগর। তার নাম আক্কাস মাহমুদ।