ব্যস্ততার মাঝেও যেভাবে স্বস্তি খুঁজে নেবেন কর্মব্যস্ত নারীরা

Employed-women-will-find-comfort-in-the-way-of-busy-people 

 নারীদের জীবনের প্রতিটা দিন শুরু হয় নানান ধরণের নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে, হাজারো কর্মব্যস্ততা নিয়ে। বিশেষ করে, কর্মজীবী নারীদের জন্য সেই চ্যালেঞ্জ এবং ব্যস্ততার পাল্লাটা একটু বেশীই ভারী হয়ে থাকে। নিজের ব্যক্তিগত কাজের ব্যস্ততা, ঘরের কাজের ব্যস্ততা, প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজের ব্যস্ততার মাঝে অনেক বড় পরিসর নিয়ে থাকে অফিসের নানান ধরণের কাজের ব্যস্ততা এবং দায়িত্ব- এই সকল কিছুর ধকল সামলাতে গিয়ে অনেক সময় যেন একদম নাভিশ্বাস উঠে যায়!


তবে এতো কিছুর পরেও খুব ছোট এবং অল্প সময়ের কিছু কাজের মাধ্যমে নিজেকে একটু ‘রিল্যাক্স’ করার প্রয়োজন হয়ে পরে। বলা যেতে পারে- এই ব্যাপারটা জরুরিও বটে। জেনে নিন কীভাবে হাজারো ব্যস্ততার মাঝে নিজেকে খানিকটা সময় দেবেন।

১/ কাজের মাঝে মাত্র ‘পাঁচ মিনিট’ সময় নিন

পুরো চব্বিশ ঘন্টার মাঝে মাত্র পাঁচটা মিনিট সময় নিজের জন্যে বের করা খুব কিন্তু কঠিন কোন কাজ নয়। অনেক বেশী কাজের চাপের মাঝে নিজের জন্য পাঁচ মিনিট সময় বের করে রিল্যাক্স করার জন্য ছোটখাটো কিছু কাজ করা যেতেই পারে। যেমন: এই সময়ের মাঝে মোবাইলের কোন পাজল গেইম সলভ করা যেতে পারে, পরিবারের কাউকে কল দিয়ে কথা বলা যেতে পারে, কোন বন্ধুর খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। এই সকল কার্যকলাপ মনকে চাঙ্গা করে দেয়। কাজের মধ্যে অল্প সময়ের বিরতি নিয়ে ছোটোখাটো এই কাজগুলো করতে পারলে পুনরায় কাজ করার প্রতি ভালোভাবে মনোযোগ দেওয়া যায় এবং ভালোভাবে কাজ করার প্রতি আগ্রহ চলে আসে। যদি মানসিকভাবে অনেক বেশী অশান্তি বোধ হয় এবং অফিসে কোন কাজের জন্য খুব বেশী দুশ্চিন্তা হতে থাকে, তবে শ্বাসপ্রশ্বাস এর ব্যায়াম অথবা মেডিটেশন করা যেতে পারে। এতে করে মন ও মাথা অনেক হালকা হয়ে যায়। যা সঠিকভাবে কাজ সম্পাদন করার ক্ষেত্রে সাহায্য করে।

২/ পরিবারে, বন্ধু অথবা সঙ্গীর সাথে রান্নাবান্না করুন

নিশ্চয় এই কথাটা পড়েই খুব বিরক্ত হচ্ছেন। বাইরে থেকে মজাদার খাবার কিনে ঘরে বসে খেলেও তো হয়, প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজ রান্না করাকে কেন ‘রিল্যাক্স’ করার কাজ হিসেবে ধরা হবে- এমন কথা হয়ত ভাবতেই পারেন। নিয়মিত ঘরের ধরাবাঁধা কোন কাজ হিসেবে নয়, মজা করার ছলে পরিবার, বন্ধু অথবা সঙ্গীর সাথে রান্না করুন মজাদার এবং ভিন্নধর্মী কোন খাবার। এতে করে সময়টা ভালো কাটবে তো বটেই, যার সাথে রান্না করবেন তার সাথে অনেকটা সময় হাতে পাবেন গল্প করার জন্যে। যার ফলে পারিবারিক কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও উন্নতি হবে।

৩/  প্রতিদিনের জন্য কিছুটা সময় আলাদা করে রাখুন

অফিসের কাজ,ক্লাস এবং বাসার কাজের ব্যস্ততার মাঝে নিজের জন্য দুইটা ঘন্টা সময় আলাদা করে রাখুন। এই দুই ঘন্টা সময়ে অন্য কোন কাজ একেবারেই করা যাবে না। শুধুমাত্র নিজের একাকী কিছু সময় কাটানোর জন্যে আলাদা করে রাখা এই দুইটা ঘণ্টা। অফিসের ফাইল নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি, ক্লাসের নোট ঠিক করা কিংবা ঘরে কোন জিনিসটা নেই সেটার খেয়াল করা- কোন কিছুই এই সময়টুকুর মাঝে করা যাবে না। এই সময়ে আপনি যা করতে পারেন সেটা হলো, কফির মগে চুমুক দিতে দিতে পছন্দের কোন গল্পের বই পড়তে পারেন অথবা গান শুনতে পারেন। আঁকতে ভালোবাসলে ছোট্ট করে কোন স্কেচ এঁকে ফেলতে পারেন। চাইলে একটু ঘুমিয়েও নিতে পারেন!

৪/ সপ্তাহের ছুটির দিনটিতে আনন্দময় কিছু করুন

সারা সপ্তাহের কর্মব্যস্ততার পরে ছুটির দিনে অনেক কিছুই করতে ইচ্ছা করে, অনেক জায়গায় ঘুরতে যেতে ইচ্ছা করে। কিন্তু দিনশেষে দেখা যায় বাসাতে টিভির সামনে অথবা ল্যাপটপের সামনে শুয়ে বসে থাকা ছাড়া আর বিশেষ কিছুই করতে একেবারেই ইচ্ছা করে না। পুরো সপ্তাহের কাজের ধকলের পর একটাদিন ছুটি পেলে আসলেও কিছু করতে মনে চাইবে না, এটাই স্বাভাবিক। তবে ছুটির দিনের পুরোটা সময় বাসাতে কাটিয়ে না দিয়ে বিকাল কিংবা সন্ধ্যার সময়ে পরিবারে অথবা বন্ধুদের সাথে বের হতে পারেন। খুব দূরে কোথাও না গেলেও কাছে কোন সুন্দর জায়গায় একটু বেড়াতে পারেন।

৫/ অ্যারোমাথেরাপি নিন

অফিসে অথবা বাসাতে, সবসময় কাজের মধ্যে থাকার ফলে অনেক বেশী মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হতে পারে। যে কারণে অ্যারমাথেরাপি অনেক ভালো কাজ করে। অ্যারোমাথেরাপি  মানেই ম্যাসাজ সেটা কিন্তু নয়। পছন্দনীয় কোন এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করার মাধ্যমেও সেটা হতে পারে। এসেনশিয়াল অয়েল শরীর এবং মনে উপরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে এবং নতুন করে শক্তি যোগাতে সাহায্য করে থাকে। তবে অবশ্যই যেকোন এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহারের পূর্বে তার ব্যবহারবিধি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে, যেন ত্বকের কোন ক্ষতি না হয়। 

নারীদের জীবনের প্রতিটা দিন শুরু হয় নানান ধরণের নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে, হাজারো কর্মব্যস্ততা নিয়ে। বিশেষ করে, কর্মজীবী নারীদের জন্য সেই চ্যালেঞ্জ এবং ব্যস্ততার পাল্লাটা একটু বেশীই ভারী হয়ে থাকে। নিজের ব্যক্তিগত কাজের ব্যস্ততা, ঘরের কাজের ব্যস্ততা, প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজের ব্যস্ততার মাঝে অনেক বড় পরিসর নিয়ে থাকে অফিসের নানান ধরণের কাজের ব্যস্ততা এবং দায়িত্ব- এই সকল কিছুর ধকল সামলাতে গিয়ে অনেক সময় যেন একদম নাভিশ্বাস উঠে যায়!