জীবন থেকে নেতিবাচক চিন্তা দূর করবেন যেভাবে

 How-to-eliminate-negative-thoughts-from-life

নেতিবাচক চিন্তা বেশী করার প্রবণতা অনেকের মাঝেই দেখা যায়। যে কোন পরিস্থিতিতে, যে কোন সময়ে, যে কোন ঘটনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নেতিবাচক চিন্তাটাই তাদের মাথায় সবার আগে এসে নাড়া দেয়। জীবনে সফল হবার ক্ষেত্রে নেতিবাচক চিন্তা বেশী করাটা হলো প্রধান এবং বলা চলে প্রথম অন্তরায়। প্রশ্ন আসতে পারে, জীবনে নেতিবাচক চিন্তার কী একেবারেই কোন প্রয়োজন নেই? উত্তর হবে, অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। তবে নেতিবাচক চিন্তা ঠিক ততটুকুই থাকা উচিৎ, যতটুকু চিন্তা জীবনের পথচলার ক্ষেত্রে এবং সফল হবার ক্ষেত্রে কোন বাধা সৃষ্টি করে না। ভবিষ্যৎ এর সকল কাজ এবং পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক ধারণা নিজের মাঝে ধারণ করা প্রয়োজন। এতে করে সকল পরিস্থিতিতেই নিজেকে শক্ত রাখা সম্ভব হয়।


তবে নিজের চিন্তাভাবনা এবং জীবনযাপনের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব কে সরিয়ে রেখে ইতিবাচক মনোভাব ধারণ করা প্রয়োজন। কারণ, বাস্তববাদী হওয়ার অর্থ শুধুমাত্র নেতিবাচক ব্যাপারগুলোকে লক্ষ্য করা নয়। বরং, সকল পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে বিচার বিবেচনা করতে পারা। কীভাবে নিজের ভেতরের নেচিবাচক চিন্তাগুলো কে দূর করবেন? জেনে নিন দারুণ কিছু উপায়। 

নিজেকে ক্ষমা করুন

হয়তো অতীত জীবনে কোন ভুল করেছিলেন। কিন্তু সেটাই তো আপনার জীবনের সবকিছু নয়। একটামাত্র ভুল একজন মানুষের জীবনের সবকিছুকে থামিয়ে দিতে পারে না। অতীত কে, অতীত এর ভুলকে পেছনে পেফে সামনে এগিয়ে যাবার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। কারণ, অতীত নিয়ে পরে থাকলে কখনোই ভবিষ্যৎ এর জন্য এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তাই, নিজের জীবনের অতীত এর স্মৃতি, ভুলগুলোকে ভুলে যান। নিজেকে ক্ষমা করুন। নিজেকে শক্ত করুন এবং নিজেকে বলুন- সামনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আপনি তৈরি।

নিজের প্রশংসা নিজেই করুন

প্রশংসা সকলের সামনে ঢাকঢোল পিটিয়ে করতে হবে এমনটা কিন্তু নয়। নিজের কাছেই নিজের প্রশংসা করুন। নিজের ভালো কাজের জন্য নিজেকে বাহবা দিতে শিখুন। অবশ্যই আপনার জীবনে আপনি ছোট কি বড় বহু ভালো এবং দারুণ কাজ করেছেন। সেগুলো স্মৃতিচারণ করুন। সেগুলোর জন্য আনন্দিত হন।

ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষদের সাথে মিশুন

জানেন নিশ্চয়, একজন মানুষের চিন্তাভাবনা তার আশেপাশের মানুষের মাঝেও অনেকটা প্রভাবিত হয়ে থাকে। তাই নিজেকে সবসময় ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষদের মাঝে রাখার চেষ্টা করুন। তাদের সাথে মিশুন, তাদের সাথে সময় কাটান। ভালো কোন পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সাথে আলোচনা করুন। কারণ, প্রতিটি সময়েই তারা আপনাকে অনুপ্রেরণা দিবে, কাজ করার জন্য মানসিক শক্তি দিবে।

অনুপ্রেরণামূলক বই পড়ুন এবং চমৎকার গান শুনুন

বই এবং গান- এই দুইটি জিনিসকে বলা হয়ে থাকে আত্মার খোরাক। সেক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা মুলক বই এবং চমৎকার কথাসহ গান শোনা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করার ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করে থাকে। অনেক নামকরা ব্যক্তিত্বের জীবনী মূলক বই পাওয়া যায় বাজারে। এছাড়াও বিভিন্ন জ্ঞানীগুণী মানুষদের চমৎকার উক্তিমূলক বইও পাওয়া যায়। এই সকল বই প্রতিদিন কয়েক পাতা করে পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে পারলে দেখা যাবে নিজের ভেতরে ধীরে ধীরে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে।

এখন থেকেই শুরু করুন!

পয়েন্ট এর টাইটেল পড়ে নিশ্চয় ভ্রূ কুচকাচ্ছেন! ভাবছেন, এখন থেকেই কী শুরু করার কথা বলা হচ্ছে? এখন থেকে নিজের ভেতরের নেতিবাচক চিন্তাভাবনাগুলো কে দূর করে ইতিবাচক চিন্তা শুরু করার কথা বলা হচ্ছে। এই লেখাটা পড়ার মাঝেই নিজেকে প্রতিজ্ঞা করুন, নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে আর পড়ে থাকবেন না। শুরুটা করুন ঠিক এখন থেকেই।

গুটিয়ে না থেকে সাহায্য খুঁজুন

সবার মাঝে থেকেও নিজেকে গুটিয়ে রাখলে কখনোই নিজের চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না। তাই নিজের পরিবারের মানুষ কিংবা বন্ধুদের কাছে নিজের সমস্যাগুলো নিয়ে খোলামেলাভাবে আলোচনা করতে হবে, কথা বলতে হবে। যদি মনে হয় যে তাতেও খুব একটা কাজ হচ্ছে না, তবে কোন বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করতে করতে হবে।

নেতিবাচক চিন্তা বেশী করার প্রবণতা অনেকের মাঝেই দেখা যায়। যে কোন পরিস্থিতিতে, যে কোন সময়ে, যে কোন ঘটনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নেতিবাচক চিন্তাটাই তাদের মাথায় সবার আগে এসে নাড়া দেয়। জীবনে সফল হবার ক্ষেত্রে নেতিবাচক চিন্তা বেশী করাটা হলো প্রধান এবং বলা চলে প্রথম অন্তরায়। প্রশ্ন আসতে পারে, জীবনে নেতিবাচক চিন্তার কী একেবারেই কোন প্রয়োজন নেই? উত্তর হবে, অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। তবে নেতিবাচক চিন্তা ঠিক ততটুকুই থাকা উচিৎ, যতটুকু চিন্তা জীবনের পথচলার ক্ষেত্রে এবং সফল হবার ক্ষেত্রে কোন বাধা সৃষ্টি করে না। ভবিষ্যৎ এর সকল কাজ এবং পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক ধারণা নিজের মাঝে ধারণ করা প্রয়োজন। এতে করে সকল পরিস্থিতিতেই নিজেকে শক্ত রাখা সম্ভব হয়।