প্রাক্তন প্রেমিকের সাথে বন্ধুত্ব কী আসলেই সম্ভব?

Is-friendship-really-possible-with-a-former-lover 

এই ব্যাপারটিতে অনেকেরই অনুভূতি দেখা যায় মিশ্র। কেউ কেউ প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে কোনরকম যোগাযোগ রাখতেই চান না। কেউ বা প্রেম না থাকলেও বন্ধুত্ব ধরে রাখতে চান। এটা সত্যি যে, বিচ্ছেদের পর বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন দুই পক্ষেরই আন্তরিকতা।


সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়াতে সাধারণত একটি পক্ষ কষ্ট বেশি পায়। অন্য পক্ষ তাকে ছেড়ে যাওয়াতে তার যে কষ্টটা হয়, তা কমিয়ে আনার জন্যই অনেক সময়ে সে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চায়। হয়তো তাদের মাঝে শারীরিক অন্তরঙ্গতা কমে যায়, কিন্তু বিচ্ছেদের ছাই থেকে অন্তত কিছুটা হলেও ভালো সম্পর্ক বজায় থাকে দুজনের মাঝে। একে অপরকে বন্ধু বলতে পারা, প্রয়োজনের সময়ে পাশে পাওয়াটাও অনেক।

আর যে মানুষটি আসলে অন্য জনকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, ভেঙ্গে ফেলছেন ভালোবাসার সম্পর্কটি, তার জন্যও কিন্তু বন্ধুত্ব বজায় রাখাটা ভালো মনে হতে পারে। কারণ আমরা সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলি সত্যিই, কিন্তু তাদের জন্য আমাদের যে অনুভূতি, তা রাতারাতি শেষ হয়ে যায় না। আমরা বিচ্ছেদের পরেও তার ভালো চাই। এ কারণেই প্রেম শেষ হয়ে যাবার পরেও তাদের থেকে একেবারে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাই না আমরা।

দুই পক্ষ থেকেই বন্ধুত্বের চিন্তাটা ভালো মনে হচ্ছে, তাই না? কিন্তু এর উল্টোটাও হতে পারে।

প্রথমত, যাকে ছেড়ে যাওয়া হয়, তার জন্য প্রেমিক থেকে বন্ধুর পদে নেমে আসাটা অনেক সময়েই লজ্জাজনক মনে হতে পারে। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন সঙ্গীর সাথে জীবন কাটিয়ে দেবেন। সেখানে তাকে সরে যেতে হচ্ছে এমন এক অবস্থানে, যেখানে তার প্রাক্তন সঙ্গীকে অন্য কারো হাত ধরতে দেখলেও তিনি প্রতিবাদ করতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, প্রতিবার প্রাক্তনকে দেখার সাথে সাথে তার মনে নতুন করে আশা জেগে উঠতে পারে, সেটাও কোনো পক্ষের জন্যই ভালো হয়। বন্ধুত্বের বদলে বরং অত্যাচারেই রূপান্তরিত হতে পারে।

আর অন্য পক্ষের জন্য? চোখের সামনে তিনি সবসময়েই দেখবেন সেই প্রাক্তনকে, যাকে তিনি ভালোবাসতে পারেননি। তার জন্য অনুশোচনার একটি উৎস হয়ে থাকবে এই “বন্ধু”।

বন্ধুত্বের মাঝে থাকে ভারসাম্য, কিন্তু দুই প্রাক্তনের মাঝে সেই ভারসাম্য রাখা কী আসলেই সম্ভব?  তাদের সম্পর্কে যা ছিল, এবং একটি বন্ধুত্বে আসলে যা থাকার কথা, তার কোনোটাই পাওয়া সম্ভব হয় না প্রাক্তনদের মাঝে এই বন্ধুত্বের প্রয়াসে। একটি সম্পর্কের ধ্বংসস্তূপের ওপরে কখনোই দাঁড়াতে পারে না বন্ধুত্ব।

এ কারণে ভালোবাসার অভাবতাকে পূরণ করার জন্য বন্ধুত্ব নয়, বরং এমন একটি মাধ্যম বেছে নিন যা উভয় পক্ষের জন্যই উপকারী। আর তা হলো, সম্মানজনক দুরত্ব। আর আপনাদের ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্ককে থাকতে দিন নিরুপদ্রবে, স্মৃতির পাতায়।

এই ব্যাপারটিতে অনেকেরই অনুভূতি দেখা যায় মিশ্র। কেউ কেউ প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে কোনরকম যোগাযোগ রাখতেই চান না। কেউ বা প্রেম না থাকলেও বন্ধুত্ব ধরে রাখতে চান। এটা সত্যি যে, বিচ্ছেদের পর বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন দুই পক্ষেরই আন্তরিকতা।