গোলাপি তিমির দেশে

 Pink-whale-country

নীল তিমির ভয়ে সাগরে যাব না-তাই কি হয়? সাগরে যাব ঠিকই। মিলব গোলাপি তিমির সঙ্গে। যেখানে তিমির (অন্ধকার) নেই। আছে গোলাপের সৌরভ।


বলছি, পিংক হোয়েল গেমের কথা। প্রযুক্তি সীমানায় আছড়ে পড়া ডিপ ওয়েবের ঢেউকে চ্যালেঞ্জ জানানো এক মহতি উদ্যোগের কথা। এই গেমটি ব্লু-হোয়েলের ঠিক বিপরীত একটি গেম। পিংক হোয়েলে রয়েছে ৫০টি ধাপ। এর প্রতিটি ধাপই ইতিবাচক। এখানে নেই- ‘আর কোনও প্রেম আমার চাই না। আমার মৌনতা ভাঙার চেষ্টা তাই কোরো না; আমাকে বোঝাতেও এসো না। আমি নিজেই তো নিজেকে বুঝি না। যা কিছু বলি, যা কিছু দেখি-জগতে তার সবটা বলার উপায়ও নেই। আর আমি কী চাই-নিজেও কি জানি! কেউ নিঃসঙ্গ হতে চায় না। কিন্তু আমার আর কিছুর দরকার নেই-সেখানে যাওয়া ছাড়া; সেখানে। কেবল তার পরই আমি নিজেকে বুঝতে পারব। এই হচ্ছে আমার চাওয়া, আর কিছু না, কিছু না, কিচ্ছু না’ -এর মতো বিভ্রান্ত সঙ্গীত।

বরং ব্রাজিলীয় ডেভেলপারদের তৈরি গেমটিতে আছে, জীবনের জন্য কল্যাণকর ১০৭টি টাস্ক। গেমের টাস্কে কোনও মৃত্যু ভয় নেই, নেই কোনও জটিলতা। আছে জীবন ও পরিজনদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার আয়োজন। শেষ রাতে জেগে হরর মুভি দেখা কিংবা ছাদে ঘুরে বেড়ানো নয়; ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করার কাজ দেয়। চেয়ে পাঠায় দাদা-দাদির সঙ্গে সময় যাপনের আনন্দময় মুহূর্তের ছবি। বলে সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকার কথা। হাত কাটা নয়, সেখানে হাতে লিখতে বলা হচ্ছে, আপনি আপনার প্রিয়জনকে কতটা ভালোবাসেন। নিজেকে শেষ করে দেওয়া নয়, পিংক হোয়েল গেম বলছে নিজেকে ভালোবাসার কথা। গেমে গেমে জীবনকে ভালোবাসতে শেখায়।

পিংক হোয়েলের মূল নাম- বালেয়া রোসা। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস  প্ল্যাটফর্মের জন্য তৈরি গেমটি ডাউনলোড করতে প্রয়োজন হবে একটি ই-মেইল ঠিকানা। গেমের শুরুতেই নিজের বিষয়ে কিছু লিখতে হবে। সুন্দর পোশাক পরা ছবি পোস্ট করার নির্দেশনাও রয়েছে এই গেমে। পিংক হোয়েল গেমটি খেলতে গুগলে গিয়ে বালিয়া রোসা (baleiarosa) লিখে সার্চ করতে হবে। অথবা http://baleiarosa.com.br ঠিকানায় যেতে হবে। পতুর্গিজ ভাষা হওয়ায় প্রথমেই একটু হোঁচট খেতে পারেন। গেমটি ইন্সটল করতে এখানে রয়েছে দুইটি অপশন। এর একটি ওয়েব ব্রাউজার এবং অন্যটিতে ছবি আছে। এখান থেকে আপনি কোন ডিভাইসে খেলতে চান তা নির্বাচন করতে হবে। এখান থেকেই আপনি সহজে পেয়ে যাবেন গেম খেলার মূল লিংক।

গেমটি খেলতে প্রথমেই খেলোয়াড়কে এক প্রস্থ সাদা কাগজে লিখতে হবে,  আমি মানসিকভাবে দৃঢ়। আমি চাইলে সবই করতে পারি।’ ৫০ বার লিখতে হবে এই প্রত্যয়ের কথা। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে হাটতে হাটতে মৃদু লয়ে উজ্জীবিত লয় শুনতে পারবেন। বেলা ১০টায় কাজের ফাঁকে দরজা খুলে শুনতে হবে প্রাকৃতিক শব্দমালা। প্রকৃতির অপার মহিমায় বেঁচে থাকার এই আনন্দ নিয়ে ভাবতে হবে বারবার। উপভোগ করতে হবে সূর্যাস্ত। নিজের জন্য নিজেই কিছু খাবার তৈরির চেষ্টা করতে হবে। গেম বন্ধুর সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হবে নিজের ভালো লাগা-মন্দ লাগা। এভাবেই গেমের শেষ ধাপে যাওয়ার আগে নিজের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। কিউরেটরকে প্রতি ধাপেই এইসব আনন্দময় কাজের ছবি পাঠাতে হবে।

আর গেমার যখন নিজের আত্মশক্তি জয় করে নিজেকে এবং পরিবার-পরিজনকে জয় করতে সম্ভব হবে তখনই তাকে মুকুট দিয়ে প্রস্থান ঘটবে কিউরেটরের। পিংক হোয়েল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই গেমের সারমর্ম হল ভালোবাসা। ভার্চুয়াল দুনিয়াকে হাতিয়ার করে ব্লু হোয়েল যে মরণখেলায় মেতেছে তা বন্ধ করবে পিংক হোয়েল। এই গেমের পদ্ধতিও ব্লু হোয়েলের মত টাস্ক করতে হবে, কিন্তু সেগুলো হবে নিজেকে ও প্রিয়জনদের ভালোবাসার টাস্ক। এজন্য এর নাম দেওয়া হয়েছে, পিংক হোয়েল চ্যালেঞ্জ- নো সুইসাইড, স্প্রেড অনলি লাভ।

নীল তিমির ভয়ে সাগরে যাব না-তাই কি হয়? সাগরে যাব ঠিকই। মিলব গোলাপি তিমির সঙ্গে। যেখানে তিমির (অন্ধকার) নেই। আছে গোলাপের সৌরভ।