শুষ্ক চুলের সমস্যায় ভুগছেন?

Suffering-dry-hair-problems 

শুষ্ক এবং নিষ্প্রাণ চুলের সমস্যা কমবেশী সকলের থাকে। আমাদের দেশের আবহাওয়া জনিত কারণে তো বটেই, অনেক ক্ষেত্রে সঠিক পরিচর্যার অভাবেও চুল তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যায়। যে কারণে, প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করার কথা বলা হয়ে থাকে। কন্ডিশনার চুলের শুষ্কভাব দূর করতে এবং চুলকে নমনীয় করতে সাহায্য করে থাকে।


তবে বাজার থেকে কেনা যেকোন কন্ডিশনারে থাকে প্রচুর পরিমাণে কেমিক্যাল। যা নিয়মিত ব্যবহারের ফলে অদূর ভবিষ্যৎ এ চুলের উপকারের পরিবর্তে ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে ঘরোয়া উপাদান দিয়ে তৈরি দারুণ তিনটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনার সম্পর্কে জেনে নিন, যা কোন ধরণের ক্ষতি ও পার্শপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই চুলকে করবে নমনীয়।

১/ ভিনেগার ও ডিমের কন্ডিশনার


চুল পড়ার ক্ষেত্রে ভিনেগার খুব দারুণ কাজ করে থাকে বলে ভিনেগার চুলের জন্য খুবই উপকারী একটি উপাদান। এছাড়া চুলের জন্য ডিমের উপকারের কথা আলাদাভাবে বলার অপেক্ষাই রাখে। এছাড়াও এই কন্ডিশনার তৈরিতে ব্যবহার করা হয় মধু ও অলিভ অয়েল। যা চুলের আর্দ্রতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং চুলকে শক্ত করে।

যা প্রয়োজন হবে:


-      ডিম

-      অলিভ অয়েল

-      মধু

-      ভিনেগার

-      লেবুর রস

কীভাবে ব্যবহার করতে হবে:


দুই-তিনটি ডিমের কুসুম একসাথে ফাটিয়ে নিয়ে এসে সাথে পরিমাণ মতো ভিনেগার, লেবুর রস মেশাতে হবে। এরপর অলিভ অয়েল এবং মধু মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে ঘন পেষ্ট এর মতো বানিয়ে নিতে হবে। চুল শ্যাম্পু করার পরে চুলের মধ্যবর্তী অংশ থেকে আগা পর্যন্ত পেষ্ট লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

২/ কলার মাস্ক


শুষ্ক এবং রুক্ষ ধরণের চুলের জন্য কলা খুব দারুণ একটি প্রাকৃতিক উপাদান। বিশেষ করে, কলার সাথে সঠিক উপাদান মিশিয়ে যখন চুলের জন্য কোন পেষ্ট বানানো হয়, সেটি চুলের উপকারে খুব ভালো এবং দ্রুত কাজ করে।

যা প্রয়োজন হবে:


-      কলা

-      ডিম

-      মধু

-      দুধ

-      অলিভ অয়েল

কীভাবে ব্যবহার করতে হবে:


একটি ডিম, একটি কলা, তিন টেবিল চামচ মধু, তিন টেবিল চামচ দুধ এবং পাঁচ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল একসাথে খুব ভালোভাবে মিশিয়ে ঘন একটি পেষ্ট তৈরি করতে হবে। পুরো চুলে এই মিশ্রণ লাগিয়ে ১৫-৩০ মিনিট সময় অপেক্ষা করতে হবে। এরপর পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

৩/ দইয়ের মাস্ক

শুধুমাত্র স্বাস্থ্যের জন্য নয়, চুলের জন্যেও দই খুব দারুণ একটি উপাদান। ক্ষতিগ্রস্থ চুল পুনরায় সুস্থ করে তোলার জন্য দই চমৎকার কাজ করে থাকে।

যা প্রয়োজন হবে:


-      দই

-      ডিম

কীভাবে ব্যবহার করতে হবে:


একটি ডিমের শুধুমাত্র সাদা অংশ নিয়ে খুব ভালোভাবে ফেটিয়ে নিতে হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত ডিমের সাদা অংশ একদম ফোমের এর মতো হয় ততোক্ষণ ফেটাতে হবে। এরপর এর সাথে পাঁচ-ছয় টেবিল চামচ পরিমাণ দই মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করতে হবে। যেহেতু এই মিশ্রণটি হালকা হবে তাই কৌশলে পুরো চুলে লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ এর মাধ্যমে চুল ঢেকে রাখতে হবে ১৫-৩০ মিনিট। এরপর হার্বাল কোন শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

শুষ্ক এবং নিষ্প্রাণ চুলের সমস্যা কমবেশী সকলের থাকে। আমাদের দেশের আবহাওয়া জনিত কারণে তো বটেই, অনেক ক্ষেত্রে সঠিক পরিচর্যার অভাবেও চুল তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যায়। যে কারণে, প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করার কথা বলা হয়ে থাকে। কন্ডিশনার চুলের শুষ্কভাব দূর করতে এবং চুলকে নমনীয় করতে সাহায্য করে থাকে।