ঢাকায় উবার বৈধ না অবৈধ?

 

 গত বছরের নভম্বরে ঢাকার রাস্তায় নেমেছিল উবার। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি অ্যাপ ভিত্তিক এই ট্যাক্সিসেবা প্রতিষ্ঠানটিকে। অ্যাপের মাধ্যমে রাজধানীতে দেদারছে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি।


লিখিত কোনো অনুমোদন পাওয়ার আগেই টানা দশ মাসের বেশি সময় ধরে ঢাকার রাস্তায় চলছে উবার। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তোয়াক্কা না করেই  সম্প্রতি প্রিমিয়াম সেবার নামে ভাড়া বাড়িয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

শুধু ভাড়া বাড়ানো নয়, লিখিত অনুমোদন পাওয়ার আগেই নানা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সিসেবাদাতা এই প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি উবার দেশের একটি মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় উপভোগ সংক্রান্ত চুক্তিতে সই করেছে।

২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকায় ট্যাক্সি সেবা চালু করে উবার। এরপরই বিআরটিএ উবারকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তবে সে সময়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ‘উবার নিয়ে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান হবে’।

ঢাকায় উবার চালুর কয়েকমাস পর অ্যাপভিত্তিক যাত্রীসেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতিমালার আওতায় আনতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে খসড়া তৈরি শুরু করে বিআরটিএ। গত ২১ জুন খসড়াটি বিআরটিএ থেকে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এই খসড়া নীতিমালা এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

বাংলাদেশে উবারের বিষয়ে রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড হাইওয়েস ডিভিশনের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল মালেক  বলেন, উবার এবং অন্যান্য ট্যাক্সিসেবা প্রতিষ্ঠানকে নীতিমালার আওতায় আনার কাজ চলছে।

তিনি আরও বলে, উবার তো দেশে চালু করা হয়নি, তারা নিজেরাই চালু হয়ে গেছে। সরকার চাইছে উবার বা এই জাতীয় অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সিসেবাগুলো ব্যবহার করে মানুষের যাতে ভোগান্তি না হয় এজন্য একটি নীতিমালা করার।

‘উবার বাংলাদেশে অনুমোদনের চেষ্টা করছে কিনা আমি জানি না। তারা আবেদনও করেনি যে অনুমতি দাও। তবে বিষয়টি  সামনে চলে  আসায় সরকার চাচ্ছে এই জাতীয় অ্যাপ ব্যবহার করে মানুষ যাতে বিপদের শিকার না হয়।’, যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সচিব মোহাম্মদ শওকত আলী  বলেন, দেশের সড়কগুলোতে অ্যাপভিত্তিক কোনো প্রতিষ্ঠানের গাড়িকে বিআরটিএ থেকে চলার অনুমতি দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী আমরা জানি না।

এদিকে বাংলাদেশে রিখিত অনুমোদন পাওয়ার আগেই কীভাবে উবার নিজেদের ব্যবসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে উবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উবার প্রতিনিয়ত নীতিনির্ধারক ও সরকারের সাথে আইনি কাঠামো সম্পর্কে আলোচনা করে যাচ্ছে। উবার এখন চূড়ান্ত রাইডশেয়ারিং নীতিমালার জন্য অপেক্ষা করছে। ভবিষ্যতে এই নীতিমালা অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করার ব্যাপারে উবার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। 

দেশের ব্যক্তিগত মালিকাধীন গাড়িগুলো উবারে ব্যবহার করা হচ্ছে যা খসড়া রাইড শেয়ারিং নীতিমালার বিরুদ্ধে, এমন প্রশ্নের উত্তরে উবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উবার সরকারের দেওয়া সকল নিয়ম অনুসরণ করে ও কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থার সমস্যা সমাধান করতে চায়। রাইডশেয়ারিংয়ের নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হওয়ার পর এর সকল নির্দেশ মেনে চলবে উবার।

বিষয়টি নিয়ে বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

গত বছরের নভম্বরে ঢাকার রাস্তায় নেমেছিল উবার। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি অ্যাপ ভিত্তিক এই ট্যাক্সিসেবা প্রতিষ্ঠানটিকে। অ্যাপের মাধ্যমে রাজধানীতে দেদারছে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি।