শীতে ভ্রমণে চাই বাড়তি সকর্তকতা!

শীতে ভ্রমণে চাই বাড়তি সকর্তকতা! 

আসছে শীত। হিমেল শান্ত হাওয়া মনে করিয়ে দিচ্ছে সে কথা। শীত মানে যেমন আলসেমি, কিছু না করে চুপচাপ লেপের নিচে শুয়ে, বসে থাকার ইচ্ছা আবার শীত মানেই অনেকের কাছে ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। হ্যাঁ, এখন আর আগের মতো কনকনে শীত পড়ে না। শৈতপ্রবাহ ছাড়া শীতের অস্তিত্বও নেই বললেই চলে। তবে এই চিত্র কিন্তু শুধু ঢাকায়। গ্রামের মাঠে এক পায়ে দাঁড়ানো তাল গাছের মাথা বেয়ে ঠিকই শীত বুড়ি নেমে আসে। তার দীর্ঘশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। তার ঝাপসা দৃষ্টি সকাল সন্ধ্যায় কুয়াশাচ্ছন্ন করে দেয় দৃষ্টিকে। তাও ঘর থেকে বেরিয়ে যেদিকেই যান না কেন প্রয়োজন হবে বাড়তি প্রস্তুতির। খেজুরের রসে চুমুক দিয়ে শীত উপভোগ করতে হলে একটু উষ্ণতা তৈরি করে নিতে হবে। নইলে ঠান্ডা, জ্বর, কাশি এইসবকিছু আপনাকে কাবু করে, ভ্রমণের আনন্দ নষ্ট করে ছাড়বে।


জেনে নিন বাড়তি সতর্কতাগুলো সম্পর্কে-

শীতের পোশাক বুঝে নিন


আপনি কোথায় যাচ্ছেন সেই অনুযায়ী বুঝে নিন শীতের পোশাক। শীতে সমুদ্র ভ্রমণ খুব জনপ্রিয়। কিন্তু সমুদ্রে খুব শীত কিন্তু পড়ে না। তাই ভারী ভারী শীতের পোশাক নিয়ে গেলে পড়তে হবে বিপদে। ওজনটাও তো একটা বিশাল ব্যাপার, তাই না? আর যদি আপনার ভ্রমণ হয় পাহাড়ে তাহলে কটেজেই থাকুন আর থাকুন তাবুতে নিজের কাথা-কম্বল, গরম জামা নিজেই নিয়ে নিন। পাহাড়ের চূড়ায় ভীষণ শীত পড়ে। উত্তরবঙ্গের শীত তো বিখ্যাত, যে যায় তার হাড় কাঁপিয়ে ছাড়ে। তাই এখানেও প্রয়োজন হবে ভারী শীত কাপড়ের। কাথা-কম্বল লাগবে কিনা তা নির্ভর করছে কোথায় থাকবেন তার ওপর।

প্রসাধনী বহনের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন


শীতের সময়টায় আপনি নারী হোন বা পুরুষ কিছু প্রসাধনী সাথে রাখতেই হবে। যেমনঃ পেট্রোলিয়াম জেলি, লোশন, গ্লিসারিন, তেল বা ক্রিম। আপনি যা ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তাই সাথে নিয়ে নিন। সানস্ক্রিনও সাথে রাখুন। শীতে রোদ কম সময়ের জন্য উঠলেও যে সময়টুকুর জন্য ওঠে তা যথেষ্ট। ত্বকের সুরক্ষায় তাই নিজের দরকারি জিনিস নিজে বহন করাই ভালো।

ঔষধপত্র সাথে রাখুন


আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে যে অসুবিধাটায় সবার প্রথমেই পড়তে হয় তা হলো ঠান্ডা-সর্দি-কাশি। ঢাকা থেকে অন্যান্য এলাকার আবহাওয়ায় বেশ পার্থক্য। তাই যেকোনো সময়ই অসুস্থ হওয়ার সুযোগ রয়েছে আর একবার অসুস্থ হলে আপনার ভ্রমণ তো মাটি হবেই, আপনার দলের জন্যও এটা একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। তাই কিছু ঔষধ সাথে রাখুন। তবে শীতকাল হোক বা না হোক ভ্রমণে এমনিতেও কিছু ঔষধ বহন করা ভালো। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্রমণ করতে গেলে প্রয়োজনের সময় ঔষধ নাও মিলতে পারে। তাই ঠান্ডা, এসিডিটি, ডায়রিয়া, ব্যাথার ঔষধসহ বহন করুন স্যাভলন। কাটাছেড়া জাতীয় সমস্যায় কাজে দেবে এটি।

বাড়তি জিনিস বহন করা থেকে বিরত থাকুন


আপনার ব্যাগ শীতের কাপড়ের দরুন ভারী হয়ে যাবে এমনিতেই। তার সাথে অপ্রয়োজনীয় সৌখিন জিনিস নিলে সেটা বহন করতে আপনার অনেক কষ্ট হবে। তাই শীতের পোশাক একটা নিন, কিন্তু উপযুক্তটি নিন। অন্যান্য পোশাক এবং সামগ্রী হিসেব করে নিন। বাড়তি কিছুই নেবেন না। প্রসাধনী যা যা নেবেন ছোট কৌটায় নিন। পুরো বোতলটি নিয়ে যাওয়ার ভুল করবেন না।

ট্রেকিং এর ক্ষেত্রে যা করবেন


শীতের সময়টায় বৃষ্টি হয় না সাধারণত। তাই পিচ্ছিল পথ পার হওয়া সহজ হয়। বর্ষায় দুর্গম নিষিদ্ধ অনেক পথই খুলে দেওয়া হয় এসময়। আর এজন্যই শীতের সময় ট্রেকিং এর জন্য পছন্দের অনেক ভ্রমণকারীর। আরেকটি বিষয় হলো, গরম কম থাকায় ক্লান্তিও কম হয়। আপনিও যদি এই শীতে বেরিয়ে পড়তে চান তাহলে ব্যাগ গোছানোর ক্ষেত্রে আপনাকে হতে হবে আরও সাবধানী। পাহাড়ি কোনো এলাকায় ভালো উষ্ণ থাকার জায়গা পাবেন না। তাই শীত প্রতিরোধক কাপড় নিয়ে নিন।

যাওয়ার আগে খোঁজ নিন


আপনার ভ্রমণ যেখানেই হোক না কেন একদম সাম্প্রতিক আবহাওয়া সম্পর্কে জেনে নিন। কোনোভাবেই খোঁজ-খবর না নিয়ে বেরিয়ে পরবেন না। সাথে যদি পরিবার থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই আরও সতর্ক হবেন। শিশুদের নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে শীত মোটেও ভালো কোনো ঋতু নয়। এসময় প্রচুর ধুলা ওড়ে, আবহাওয়ার শীতলতা এবং উষ্ণতার তারতম্য ঘটে। আর আমাদের দেশের জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়া আগে থেকে বোঝা আরও কঠিন হয়ে গেছে। তাই নিজেই সতর্ক হোন। খোঁজ নিন।

থাকার জায়গা এবং অন্যান্য


আপনার ভ্রমণ যদি হয় কোনো জনপ্রিয় জায়গায় তাহলে অবশ্যই থাকার জায়গা আগে থেকে বুকিং দিন। যাওয়ার টিকিটটিও কেটে ফেলুন। ধরুন, কক্সবাজার যাবেন। এই সময় কিন্তু কক্সবাজারে খুব ভিড়। এটাই অখানকার ট্যুরিস্ট সিজন। তাই আগে থেকে বুকিং না দিলে হোটেলে হোটেলে ঘুরে অনেক সময় নষ্ট হবে আপনার। আর শীতের সময় থাকার জায়গাটা ভালো না হলে কিন্তু চলে না।

চেকলিস্ট


উপরের প্রত্যেকটি বিষয় মাথায় রেখে একটি তালিকা তৈরি করুন। তারপর ব্যাগ গোছানো শেষে তালিকা ধরে মিলিয়ে নিন সব নিয়েছেন কিনা। আপনি হয়ত ভাবছেন, মনে থাকবে। কিন্তু মনে থাকা অনেক কিছুই কাজের সময় মনে থাকে না। তাই চেকলিস্ট খুবই দরকারি। উপরের বিষয়গুলো ছাড়াও আপনার চেকলিস্টে রাখুন দরকারি কাগজপত্রের তালিকা। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্টের ফটোকপি, ট্রাভেল ইন্সুরেন্সসহ এসকল যাবতীয় কাগজের ফটোকপি সাথে রাখুন।

সব গোছগাছ শেষ? এবার তবে বেরিয়ে পড়ুন। উপভোগ করুন শীতের পিঠাপুলি আর প্রকৃতির শুষ্ক কিন্তু ভিন্ন আরেক রূপ। শুভ ভ্রমণ।

আসছে শীত। হিমেল শান্ত হাওয়া মনে করিয়ে দিচ্ছে সে কথা। শীত মানে যেমন আলসেমি, কিছু না করে চুপচাপ লেপের নিচে শুয়ে, বসে থাকার ইচ্ছা আবার শীত মানেই অনেকের কাছে ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। হ্যাঁ, এখন আর আগের মতো কনকনে শীত পড়ে না। শৈতপ্রবাহ ছাড়া শীতের অস্তিত্বও নেই বললেই চলে। তবে এই চিত্র কিন্তু শুধু ঢাকায়। গ্রামের মাঠে এক পায়ে দাঁড়ানো তাল গাছের মাথা বেয়ে ঠিকই শীত বুড়ি নেমে আসে। তার দীর্ঘশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। তার ঝাপসা দৃষ্টি সকাল সন্ধ্যায় কুয়াশাচ্ছন্ন করে দেয় দৃষ্টিকে। তাও ঘর থেকে বেরিয়ে যেদিকেই যান না কেন প্রয়োজন হবে বাড়তি প্রস্তুতির। খেজুরের রসে চুমুক দিয়ে শীত উপভোগ করতে হলে একটু উষ্ণতা তৈরি করে নিতে হবে। নইলে ঠান্ডা, জ্বর, কাশি এইসবকিছু আপনাকে কাবু করে, ভ্রমণের আনন্দ নষ্ট করে ছাড়বে।