দেশি পার্টিতে নারী ডিজে'র চাহিদাই বেশি

Desi-Partys-demand-for-womens-DJ-is-more 

‘ডিস্ক জকি’ সংক্ষেপে ডিজে। মিউজেকের নানা ফর্মের মধ্যে বর্তমানে এর জনপ্রিয়তা বেশ তুঙ্গে, এমন কি ব্যান্ড সঙ্গীতকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে ‘ডিজে’ মিউজিক। এই ফর্মে কাজ করে দেশ বিদেশে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন কেউ কেউ। তাদের মধ্যে ডিজে রাহাত, ডিজে সনিকা এবং ডিজে সুমি’র নাম প্রথম তালিকায় রাখা যায়। মিউজেকের এ ঘরানার প্রতি তরুণেরা বিশেষ আগ্রহী হয়ে উঠছে দিনকে দিন। আর তাই ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারে গড়ে উঠেছে ডিজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডিজে রাহাতের ‘গ্যারেজ’, মিরাজের ‘মিউজিক অব নিউ রিদম’ এবং ‘আইস গিয়ার’ নামের প্রতিষ্ঠানগুলো বিস্তৃতি লাভ করেছে। মিউজিকের এ ধারার ক্রমবিকাশ, এর উপর ক্যারিয়ার নির্মাণ, এ বিষয়ে নারীদের আগ্রহ, একটি পার্টির জন্য নারী ডিজেরা কত টাকা নেন, বাংলাদেশে নির্দিষ্ট ডিজে ক্লাব আছে কি-না- এসব বিষয়ে কথা বলেছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ডিজেদের সঙ্গে।


                                          ডিজে সনিকা
মূলত ঢাকা কিংবা বিভাগীয় শহর ছাড়া গ্রামগঞ্জে ডিজে’র প্রসার ঘটেনি, এমন বিবৃতি নাকচ করে দিয়ে ডিজে সুলতানা রাজিয়া সুমি প্রিয়.কমকে বলেছেন, ‘বিষয়টি সঠিক নয়। ঢাকা কিংবা বিভাগীয় শহরের বাইরেও ডিজে’র প্রসার রয়েছে। আমি নিজেও প্রায়শই ঢাকার বাইরে প্রোগ্রাম করি। এমন কি গ্রামাঞ্চলের লোকজনও বেশ আগ্রহী। তারা এখন আন্তর্জাতিক সঙ্গীতের খোঁজ খবর রাখেন। কোন গান বাজাতে হবে, সেটি তারা নির্ধারণ করে দিতে পারেন। হিন্দি হোক কিংবা ইংরেজি, সকল সঙ্গীত ও সঙ্গীতশিল্পীদের সম্পর্কে ধারণা রয়েছে তাদের। সম্প্রতি আমি মাদারীপুরে যে পার্টি করেছি, সেখানে কম করে হলেও হাজার খানেক মানুষের সমাগম ঘটেছিল’।

বর্তমানে যে কোনো কমার্শিয়াল কিংবা প্রাইভেট ইভেন্টে ডিজে পার্টি থাকেই। কেন অবধারিত হয়ে উঠেছে? কী আবেদন রয়েছে এই ডিজে পার্টির মধ্যে? কেন ব্যান্ড সঙ্গীত ছাপিয়ে বিভিন্ন পার্টিতে ডিজের কদর বাড়ছে? এর খুব যৌক্তিক একটি উত্তর দিয়েছেন ডিজে সনিকা। তিনি  বলছেন, মূলত ব্যান্ড হচ্ছে একটি দলীয় প্রয়াস, অনেকগুলো বাদ্য যন্ত্রের সমাগম। কিন্তু ডিজে একটি একক প্রয়াস, একটি মাত্র যন্ত্র নিয়ে একজন মাত্র মানুষ মাতিয়ে তুলতে পারেন পুরো পার্টিকে। আর তাই ব্যান্ড পার্টি থেকে ডিজে পার্টির কদর কিছুটা বাড়ন্ত’। এ বিষয়ে ডিজে সুমি 
 
                                                    ডিজে সুমি
 বলেছেন, এটি একটি ওয়েস্টার্ন কালচার। আমাদের দেশের তরুণেরা এর প্রতি আগ্রহী। ডিজে পার্টির মধ্যে তারা নতুনত্ব খুঁজে পায়। আর তাই ডিজে পার্টির একটি বিশেষ চাহিদা তৈরি হয়েছে। শুধু তরুণ তরুণীরাই নন, ডিজে পার্টির কদর রয়েছে শিশু কিংবা বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেও। ডিজে পার্টিতে পুরনো দিনের কোনো গান মিক্সিং করে প্লে করলে বয়োজ্যেষ্ঠরাও রেসপন্ড করে। শিশুতোষ গান প্লে করলে শিশুরাও হেলে দুলে নাচে। গেল হ্যালোইনেও ডিজে পার্টিতে এ ঘটনা ঘটেছে  এমনটাই জানিয়েছেন ডিজে সুমি।


আফসোসের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কোনো ডিজে ক্লাব নেই। একটু খুলে বললে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ধরুন, আপনার ইচ্ছা জাগল যে, আজ আপনি একটি ডিজে পার্টি উপভোগ করবেন। সেটা হবার জো নেই। কেননা দেশে কেবল ডিজে পার্টির জন্য নির্দিষ্ট কোনো ক্লাব বা জায়গা নেই। একটি ক্লাব থাকা খুবই জরুরি, যেখানে মানুষ যেদিন খুশি সেদিনই গিয়ে ডিজে উপভোগ করতে পারবে। এ প্রস্তাবে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন- ডিজে সনিকা, ডিজে সুমি এবং মিউজিক অব নিউ রিদম এর মেরাজ। সনিকা বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্টধারীরা বিশেষ বিশেষ ডিজে পার্টিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু জনসাধারণের সেই সুযোগ নেই। থাকলেও সেটি ব্যয়বহুল। ঢাকার বেশ কিছু ক্লাবে ডিজে পার্টি হয়, তবে সেগুলোকে নিয়মিত বলা চলে না। অনিয়মিতভাবে কিন্তু হতেই থাকে’।  ডিজে সুমির কণ্ঠেও শোনা গেল একই কথা। তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, দেশে ডিজে পার্টির জন্য ফিক্সড কোনো লোকেশন নেই। আগে কিছু জায়গা ফিক্সড ছিল। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক কিছু কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নিয়মিত ডিজে পার্টি আয়োজনের উদ্দেশ্যে একটি ফিক্সড জায়গা কেবল আমিই নই, সবাই-ই চায়’।

এ বিষয়ে  কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন মিউজিক অব নিউ রিদম’র প্রতিষ্ঠাতা ডিজে মেরাজ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কালচারাল গেজেটে ডিজে’র অন্তর্ভুক্তি নেই। সর্বোচ্চ ব্যান্ড মিউজিক পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে’। মেরাজ ডিজে শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে যে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেখানে একটি সময় মেয়েরা ডিজে শিখতে এলেও বর্তমান মেয়েদের আসার পরিমাণ কমে গিয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি রেস্তোরাঁর একটি পার্টিতে কয়েক মাস আগে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার জের টেনে বলেন, ‘মূলত ২০০৭ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করি। ২০১০ সালের পর থেকে মেয়েদের আগমন ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু ২০১৬-১৭ সালের দিকে বিষয়টি উল্টে গিয়েছে। মেয়েরা আর তেমনভাবে আসছে না’। উল্লেখ করার মতো বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশে পুরুষ ডিজে’র চেয়েও নারী ডিজে’র জনপ্রিয়তা বেশি। এ তথ্য প্রিয়.কমকে জানিয়েছেন ডিজে সুমি নিজেই। কারণ হিসেবে তিনি ব্যক্ত করেছেন ডিজে পার্টিতে একজন নারী ডিজের মুভমেন্টের বিষয়টি।

ছেলে হোক কিংবা মেয়ে, ডিজে শিখে ক্যারিয়ার গড়া, অর্থাৎ জীবিকা নির্বাহ করা কতটা সম্ভব? ডিজে সুমির ভাষ্য- ‘অবশ্যই সম্ভব। আমরা যখন ডিজে’র সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলাম, তখন তো এ বিষয়ে তেমন জানাশোনা কিংবা জনপ্রিয়তা ছিল না। এখন তো জনপ্রিয়তা রয়েছে। আর তাই এখন ডিজে শিখে জীবিকা নির্বাহ সম্ভব। তবে হ্যাঁ, সেই শিক্ষা যদি প্রাতিষ্ঠানিক হয়, তাহলে ভালো হবে। কেননা, ডিজে’র সঙ্গে ড্রেসআপের একটি বিষয় জড়িত রয়েছে’। এদিকে ডিজে সনিকা বলেছেন, ডিজেতে ক্যারিয়ার গড়ার এটিই উপযুক্ত সময়।

পরিশেষে ডিজে সনিকা ও ডিজে সুমি- উভয়ের কাছে প্রশ্ন ছিল, একটি পার্টি করতে তারা কে কত পারিশ্রমিক নেন। সনিকা বলেছেন, এটি মূলত পার্টি বুঝে ফিক্সড করা হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে ঢাকার ভেতরে সাধারণ কোনো দিনে ঘণ্টা প্রতি ২০ হাজার টাকা করে নেই। তবে বিশেষ দিনে, যেমন থার্টি ফার্স্ট নাইটে এক লাখ টাকা নেই। আর ঢাকার বাইরে নেই ডাবল। অর্থাৎ সাধারণ পার্টিতে ৪০ হাজার এবং বিশেষ পার্টিতে দুলাখ। ডিজে সুমি বলেছেন, ‘ঢাকার ভেতরে হলে ১০ হাজার নেই। আর বাইরে হলে ৫০ হাজার টাকা’।


ডিজে বিষয়ে আরও কিছু তথ্যাদি জানতে  যোগাযোগ করতে চেষ্টা করেছিল ডিজে রাহাতের সঙ্গে। কিন্তু তিনি বর্তমানে রয়েছেন দেশের বাইরে, ফিরবেন এ মাসের ১২ তারিখে। আর তাই আমাদের আজকের ডিজে পার্টির ফিরিস্তিতে পাওয়া হলো না তাকে। ডিজে রাহাত প্রতিষ্ঠিত ডিজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম গ্যারেজ। ১৫ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যেই বিভিন্ন কোর্সে ডিজে শিক্ষার সুযোগ রয়েছে সেখানে।

‘ডিস্ক জকি’ সংক্ষেপে ডিজে। মিউজেকের নানা ফর্মের মধ্যে বর্তমানে এর জনপ্রিয়তা বেশ তুঙ্গে, এমন কি ব্যান্ড সঙ্গীতকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে ‘ডিজে’ মিউজিক। এই ফর্মে কাজ করে দেশ বিদেশে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন কেউ কেউ। তাদের মধ্যে ডিজে রাহাত, ডিজে সনিকা এবং ডিজে সুমি’র নাম প্রথম তালিকায় রাখা যায়। মিউজেকের এ ঘরানার প্রতি তরুণেরা বিশেষ আগ্রহী হয়ে উঠছে দিনকে দিন। আর তাই ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারে গড়ে উঠেছে ডিজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডিজে রাহাতের ‘গ্যারেজ’, মিরাজের ‘মিউজিক অব নিউ রিদম’ এবং ‘আইস গিয়ার’ নামের প্রতিষ্ঠানগুলো বিস্তৃতি লাভ করেছে। মিউজিকের এ ধারার ক্রমবিকাশ, এর উপর ক্যারিয়ার নির্মাণ, এ বিষয়ে নারীদের আগ্রহ, একটি পার্টির জন্য নারী ডিজেরা কত টাকা নেন, বাংলাদেশে নির্দিষ্ট ডিজে ক্লাব আছে কি-না- এসব বিষয়ে কথা বলেছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ডিজেদের সঙ্গে।