জানেন কি? মোবাইল ফোন ব্যবহারেও হতে পারে পিঠে ব্যথা!

জানেন কি? মোবাইল ফোন ব্যবহারেও হতে পারে পিঠে ব্যথা! 

 পিঠে ব্যথা খুবই সাধারণ ও পরিচিত একটি শারীরিক সমস্যা। সাধারণত বয়স্ক মানুষদের বয়স বৃদ্ধির ফলে হাড় ক্ষয় হওয়া শুরু করে বলে পিঠে ব্যাথার লক্ষণ দেখা দিতে থাকে। তবে এখনকার সময়ে অল্প বয়স্ক অনেকের মাঝেই পিঠে ব্যথার প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে এবং যার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যে কারণে পিঠে ব্যথার সমস্যাটি কে গুরুতর সমস্যা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এমনকি NHS England (National Health care Service) এর তথ্য মতে লন্ডনের শারীরিক অক্ষমতার একটি বড় কারণ হলো এই পিঠে ব্যথা! নিশ্চয় মনে প্রশ্ন জাগছে, কী কারণে পিঠে ব্যথার মতো শারীরিক সমস্যাটি তৈরি হয়ে থাকে এবং কী করলে এই সমস্যাটির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে? লন্ডনে অবস্থিত স্বনামধন্য ফিজিওথেরাপি ক্লিনিক ‘চার্টার্ড সোস্যাইটি অফ ফিজিওথেরাপি’র কনসাল্টেন্ট, সার্জন এবং প্রথম সারির ফিজিওথেরাপিস্ট স্যামী মার্গো জানিয়েছেন প্রাত্যহিক কোন কাজগুলো আপনার পিঠে ব্যথা তৈরি করছে এবং কী করলে পিঠে ব্যথার উপশম পাওয়া সম্ভব হবে।


ঘুমের শেষে বিছানা থেকে ওঠা

"মেরুদণ্ডের চাকতিগুলো সারা রাতের মাঝে পানি দ্বারা পূর্ণ হয়ে থাকে, যা আমাদের লম্বা হতে সাহায্য করে থাকে। একইসাথে এর কারণে গুরুতর সমস্যা তৈরি হবার সম্ভবনাও দেখা দিয়ে থাকে।" বলেছেন ফিজিওথেরাপিস্ট স্যামী মার্গো। এমনকি তিনি আরও বলেছেন, "শুয়ে থাকা অবস্থা থেকে একবারে খাড়া বসে পড়ার ভঙ্গীর জন্য অথবা শোয়া অবস্থা থেকে মোচড় দিয়ে পা বিছানার বাইরে নেওয়ার ভঙ্গীর ফলেও পিঠে ব্যথার সমস্যা তৈরি হয়ে থাকে। একইসাথে ঘড়ির অ্যালার্ম বন্ধ করার জন্য ঘুমের মাঝেই বাঁকা হয়ে শরীরের একপাশ ঘোরানোর ফলে মেরুদণ্ডের উপর চাপ পড়ে থাকে। যা থেকে পিঠে ব্যথার মতো সমস্যাগুলো দেখা দেওয়া শুরু হয়।"

সমাধান: স্যামী জানিয়েছেন, ঘুম ভাঙার পর বিছানা থেকে ওঠার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ঘুরে (Rolling) বিছানা নামার চেষ্টা করা। প্রথমে ঘুরে পিঠের দিক থেকে শরীরের একপাশে যেতে হবে, এরপর বিছানা থেকে এক পা নামিয়ে নিতে হবে।

দাঁত মাজার সময়

সাধারণত বাথরুমের সিংকগুলো আমাদের কোমরের উচ্চতার চাইতে বেশ কিছুটা নীচে হয়। যার ফলে প্রতিবেলায় দাঁত মাজার সময়ে আমরা সিংকের দিকে খানিকটা ঝুঁকে এরপর দাঁত মেজে থাকি। এতে করে আমাদের ঘাড়ের উপরে চাপ সৃষ্টি হয়। স্যামী জানান, এর ফলেই আমাদের ঘাড় থেকে পিঠের দিকে ব্যাথা প্রবাহিত হয়ে থাকে।

সমাধান: এক্ষেত্রে স্যামী জানান, দাঁত মাজার সময়ে সরাসরি আয়নার দিকে তাকিয়ে এবং পিঠ টানটান করে দাঁড়িয়ে দাঁত মাজতে হবে। এছাড়াও দাঁত মাজার সময়ে এক পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এক মিনিট সময় নিয়ে। এতে করে ব্যালান্স ভালো হয়।

মোবাইল ফোন বারবার ব্যবহার করা

স্যামী বলেন, "মোবাইল ফোন অথবা ট্যাব ব্যবহারের জন্য ঘাড় বাঁকা করার ফলে ঘাড়ের পেশীতে টান পড়ে।" গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, মাথা প্রতি ইঞ্চি সামনের দিকে ঝোঁকার জন্য সাধারণ মাথার ভর (১২ পাউন্ড-৬ কেজি) এর সাথে বাড়তি ১০ পাউন্ড যোগ হয়ে থাকে। যে কারণে, মাথা তিন ইঞ্চি পরিমাণ ঝোঁকানোর ফলে প্রায় ৪২ পাউন্ড পরিমাণ বাড়তি ভর ঘাড়ের উপর পড়ে। যা ঘাড় ও পিঠে ব্যথা তৈরির ক্ষেত্রে ক্ষতিকর ভূমিকা পালন করে থাকে।

সমাধান: এক্ষেত্রে প্রথমেই স্যামী পরামর্শ দিয়েছেন একদম সোজা হয়ে বসার অভ্যাস গড়ে তোলার। বিশেষ করে মোবাইল ও ট্যাব ব্যবহারের সময় সেটা উঁচু করে তুলে ধরে এরপর ব্যবহার করতে হবে। ল্যাপটপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বালিশ ও কুশনের সাহায্যে উঁচু স্থান তৈরি করে এর উপরে ল্যাপটপ রেখে ব্যবহার করতে হবে। একইসাথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, হাত ব্যস্ত থাকায় অনেকে কাঁধ ও কানের মাঝে মোবাইল ফোন ধরে খুবই বিপদজনক ভঙ্গীতে মোবাইলে কথা বলেন। এই অভ্যাস সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে। কারণ, এতে করে কাঁধ, ঘাড় ও পিঠের উপরে অনেক বেশী চাপ পড়ে থাকে।

গাড়িতে কোন ভারী জিনিসপত্র তোলা

গাড়িতে ছোট বাচ্চাদের তোলা এবং কোন ভারী জিনিসপত্র তোলার সময়ে পিঠ বাঁকিয়ে রাখতে হয় অনেকক্ষন। যা মেরুদণ্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করে ফেলে বলে পিঠে ব্যথার সৃষ্টি হয়।

সমাধান: ছোট বাচ্চাদের যথাযম্ভব নিজের কাছে নিয়ে এরপর গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। ভারী কোন বস্তু গাড়িতে তোলার ক্ষেত্রে কোমরের নীচের অংশ এবং হাতে কনুইতে বেশীরভাগ ভর দিতে হবে। এতে করে পিঠের ওপর চাপ কম পড়বে।

ভারী কোন ব্যাগ বহন করা

স্যামী সতর্ক করে দিয়ে জানান, "এক কাঁধের উপর ব্যাগ তুলে নিয়ে বহন করা অথবা, শুধুমাত্র এক হাতে এবং কনুইয়ের ভাঁজে ব্যাগ ঝুলিয়ে বহন করলে Asymmetrical Stress তৈরি হয়ে থাকে। কারণ এমনভাব ব্যাগ বহন করার ফলে শরীরের একপাশের পেশীর উপরে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়, যেখানে অন্যপাশে কোন বাড়তি চাপ একেবারেই নেই। এর ফলে শরীরের দুই পাশে ভরের মাঝে অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয়।"

সমাধান: শরীরের ভারসাম্য যেন ঠিক থাকে সে দিকে লক্ষ্য রেখে চেষ্টা করতে হবে সবসময় পিঠে ঝোলানো ব্যাগ (ব্যাকপ্যাক) ব্যবহার করার জন্য। এতে করে একই সাথে অনেক ভারী জিনিসও বহন করা যাবে এবং শরীরে ভরের কোন তারতম্য ঘটবে না।

গাড়ি চালানোর ভঙ্গী

স্যামী বলেন, "বেশীরভাগ ক্ষেত্রে গাড়ি চালানর ক্ষেত্রে আমরা সচেতন থাকি না, সঠিক অঙ্গভঙ্গীর মাধ্যমে গাড়ি চালাই না। যার ফলে শরীরের পেছনের অংশে চাপ পড়ে থাকে।"

সমাধান: গাড়ি চালানোর সময় স্টিয়ারিং হুইল পর্যন্ত দুই হাত পৌঁছানো প্রয়োজন। একইসাথে দুই হাতের কনুই কোন একটি স্থানে রাখারও প্রয়োজন। এই সকল কিছু একসাথে করা সম্ভব যদি ড্রাইভিং সিটের নীচের অংশে পাতলা কুশন দিয়ে রাখা সম্ভব হয়। একইসাথে মনে রাখতে হবে, গাড়ি চালানোর সময়ে মাথা যেন সিটের হেড রেস্টিং এর সাথে স্পর্শ করে থাকে।

পিঠে ব্যথা খুবই সাধারণ ও পরিচিত একটি শারীরিক সমস্যা। সাধারণত বয়স্ক মানুষদের বয়স বৃদ্ধির ফলে হাড় ক্ষয় হওয়া শুরু করে বলে পিঠে ব্যাথার লক্ষণ দেখা দিতে থাকে। তবে এখনকার সময়ে অল্প বয়স্ক অনেকের মাঝেই পিঠে ব্যথার প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে এবং যার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যে কারণে পিঠে ব্যথার সমস্যাটি কে গুরুতর সমস্যা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এমনকি NHS England (National Health care Service) এর তথ্য মতে লন্ডনের শারীরিক অক্ষমতার একটি বড় কারণ হলো এই পিঠে ব্যথা! নিশ্চয় মনে প্রশ্ন জাগছে, কী কারণে পিঠে ব্যথার মতো শারীরিক সমস্যাটি তৈরি হয়ে থাকে এবং কী করলে এই সমস্যাটির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে? লন্ডনে অবস্থিত স্বনামধন্য ফিজিওথেরাপি ক্লিনিক ‘চার্টার্ড সোস্যাইটি অফ ফিজিওথেরাপি’র কনসাল্টেন্ট, সার্জন এবং প্রথম সারির ফিজিওথেরাপিস্ট স্যামী মার্গো জানিয়েছেন প্রাত্যহিক কোন কাজগুলো আপনার পিঠে ব্যথা তৈরি করছে এবং কী করলে পিঠে ব্যথার উপশম পাওয়া সম্ভব হবে।