জানেন কী কোন মেকআপ সামগ্রীর মেয়াদ কতদিন?

 

প্রতিদিনের অনুষঙ্গ তো বটেই যেকোন অনুষ্ঠান ও উপলক্ষ্যের জন্যে মেকআপ করাটা খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার নারীদের জন্য। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় হালকা রঙের লিপস্টিক ও কাজল ব্যবহার করা এবং জমকালো কোন বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার সময় জমকালো ভাবে নিজেকে সাজানোর ধরণের জন্য বিভিন্ন ধরণের মেকআপ পণ্য ও সামগ্রীর প্রয়োজন হয়ে থাকে। এই সকল মেকআপ পণ্যের মাঝে রয়েছে কনসিলার, ফাউন্ডেশন, লিপস্টিক, ব্লাশ প্রভৃতি।


নিত্যদিনের ব্যবহার্য এই সকল পণ্যের মেয়াদকাল সম্পর্কে কতটুকু জানি আমরা? ত্বকের প্রতি যত্নবান হওয়ার জন্য শুধুমাত্র রূপচর্চা করাই কিন্তু যথেষ্ট নয়। মুখের ত্বকে নিত্যদিন যে সকল মেকআপ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে তা ব্যবহার করা নিরাপদ কিনা, পণ্যের মেয়াদ রয়েছে কিনা সেটা সম্পর্কেও সম্যক ধারণা রাখা প্রয়োজন। কারণ সকল মেকআপ পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল জাতীয় উপাদান। যার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাবার পরে পণ্যগুলো একেবারে বিষাক্ত হয়ে পরে। ভুলবশত এই সকল পণ্য ব্যবহার করে ফেললে ত্বকের বড় ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিটি মেকআপ পণ্য ব্যবহারের নিরাপদ বয়সকাল জেনে রাখা প্রয়োজন নিজের ত্বকের ভালোর জন্য।

লিপস্টিক


অন্যান্য সকল ধরণের মেকআপ পণ্যের মাঝে লিপিস্টিক হলো সবচাইতে বেশীবার ব্যবহৃত পণ্য। সকল নারী নিয়মিত লিপিস্টিক ব্যবহার করলেও খুব কম সংখ্যক নারীই জানেন যে, যেকোন লিপিস্টিক এক বছরের বেশী সময় ধরে ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত। মেয়াদ উত্তীর্ণ লিপিস্টিক ব্যবহারের ফলে ঠোঁটের ত্বকে অনেক বেশী বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

কন্সিলার


কন্সিলার হলো স্কিন-টোন-স্পেসিফিক ঘরানার মেকআপ সামগ্রী। যেটা বেশীরভাগ নারী নিয়মিত ব্যবহার করে থাকেন। মুখের ত্বকের অনাকাঙ্ক্ষিত দাগ ঢাকার জন্যে এই পণ্যটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ত্বকের যেকোন প্রকার সমস্যা ও অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব এড়াতে চাইলে এক-দেড় বছর পর্যন্ত একটি কন্সিলার ব্যবহার করা উচিৎ। তার বেশি সময় ধরে একই কন্সিলার ব্যবহার করলে সেটা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

ব্লাশার


মুখমণ্ডলে গালের দুইপাশে হালকা গোলাপি আভা নিয়ে আসার জন্যে যে পন্যটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে সেটা হলো ব্লাশার। প্রতিটি ব্লাশার এক বছর পর্যন্ত খুব দারুণ থাকে। তবে এক বছর পার হয়ে যাবার পরে সেটা ব্যবহার না করাই ত্বকের জন্য উত্তম।

লিপ গ্লস


ঠোঁটে চকচকে ভাব আনার জন্যে লিপস্টিক এর পাশাপাশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে লিপ গ্লস। এটা হলো অন্যতম আরেকটি জনপ্রিয় মেকআপ পণ্য যা প্রায় সকল নারীর কাছেই থাকে। তবে যেহেতু লিপ গ্লস বেশীরভাগ সময়েই ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেহেতু প্রথম ব্যবহারের সময় থেকে দেড় বছর পর্যন্ত একটি লিপ গ্লস ব্যবহার করা নিরাপদ।

আইলাইনার


লিপিস্টিক ও লিপ গ্লসের পরে সর্বাধিক ব্যবহৃত মেকআপ পণ্য হলো আইলাইনার। সাধারণ আইলাইনার বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। জেল আইলাইনার এর ক্ষেত্রে একই পণ্য ৩-৪ মাসের বেশি সময় ধরে ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত। তবে পেন্সিল আইলাইনার হলে চিন্তার কিছু নেই। একই পেন্সিল আইলাইনার টানা দুই বছর ধরে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যাবে।

মাশকারা




আইলাইনার সবসময় ব্যবহার করা না হলে প্রতিটি নারীই বেশীরভাগ সময় মাশকারা ব্যবহার করে থাকেন। মাশকারা ব্যবহারের ফলে চোখে পাপড়ি ঘন ও লম্বা দেখায়। তবে দুঃখের কথা হচ্ছে, প্রথম ব্যবহারের পর একটি মাশকারা ৩-৪ মাসের বেশী সময় নিয়ে কখনোই ব্যবহার করা উচিৎ নয়। চোখের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে বিধায়, চোখের জন্য ব্যবহৃত পণ্যের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

ফেসপাউডার


প্রতিদিনের বিউটি রুটিনের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রয়োজনীয় মেকআপ উপাদান হলও ফেসপাউডার। ভালো মানে ও ব্র্যান্ডের ফেস পাউডার সাধারণ দুই বছর সময় পর্যন্ত খুব ভালো থাকে। তবে যেকোন প্রকারের ফেসপাউডারই দুই বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা নিরাপদ।

আইশ্যাডো


আইশ্যাডো সাধারণ দুই ধরণের হয়ে থাকে- ক্রিম এবং পাউডার। আপনি যদি ক্রিম আইশ্যাডো ব্যবহার করে থাকেন তবে সেটা এক বছর সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা নিরাপদ। তবে পাউডার আইশ্যাডোর ক্ষেত্রে সেটার মেয়াদকাল হবে দুই বছর পর্যন্ত। তবে যেকোন ধরণের আইশ্যাডোই হোক না কেন, নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে যে, আইশ্যাডোর মেয়াদ উত্তীর্ণ যেন না হয়ে যায়।

ফাউন্ডেশন


ভারী মেকআপের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে মেকআপ করার জন্য ফাউণদেশন ব্যবহার করা খুবই জরুরি। এতে করে মুখে মেকআপ সুন্দরভাবে ও সঠিকভাবে সেট হয়। যেহেতু ত্বকের উপরে এটা সরাসরি লাগানো হয় সেহেতু ফাউনডেশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মেয়াদের ব্যাপারে বেশী সচেতন হওয়া প্রয়োজন। স্কিম ফাউন্ডেশন দেড় বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা নিরাপদ। অন্যদিকে অয়েল-ফ্রি ফাউন্ডেশন এক বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা উচিৎ।

ব্রোঞ্জার


ফাউন্ডেশন ক্যাটাগরির মাঝে পড়া এই মেকআপ পণ্য ব্রঞ্জার দুই বছর ধরে ব্যবহার করা যাবে। মূলত ব্রোঞ্জার ব্যবহার করা হয়ে থাকে ত্বকের রঙ ও টোন ঠিক করার জন্য। তবে একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। দুই বছরের মাঝে ব্রঞ্জার ব্যবহারে যদি ত্বকে অ্যালার্জির উপদ্রব দেখা দেয় তবে তাৎক্ষনিকভাবে সেটা ফেলে দিতে হবে।

প্রতিদিনের অনুষঙ্গ তো বটেই যেকোন অনুষ্ঠান ও উপলক্ষ্যের জন্যে মেকআপ করাটা খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার নারীদের জন্য। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় হালকা রঙের লিপস্টিক ও কাজল ব্যবহার করা এবং জমকালো কোন বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার সময় জমকালো ভাবে নিজেকে সাজানোর ধরণের জন্য বিভিন্ন ধরণের মেকআপ পণ্য ও সামগ্রীর প্রয়োজন হয়ে থাকে। এই সকল মেকআপ পণ্যের মাঝে রয়েছে কনসিলার, ফাউন্ডেশন, লিপস্টিক, ব্লাশ প্রভৃতি।