পথেঘাটে ভোজনবিলাস: মাত্র ২০ টাকায় মজাদার কোয়েল পাখির ডিমের ঝালমুড়ি

Feeding-bhojanabilas-Only-20-taka-delicious-Koel-birds-egg-yolk-turnover 

সুপ্রিয় পাঠকেরা, প্রিয় লাইফে আপনাদের স্বাগতম। আপনাদের জীবনকে আরও একটু সহজ করতে, নানান রকম পণ্য ও সেবার রিভিউ ও খোঁজ-খবর তুলে ধরতে এখন থেকে আমাদের নিয়মিত আয়োজন থাকবে  । আমাদের আজকের রিভিউ ‘কোয়েল পাখির ডিমের ঝালমুড়ি’ নিয়ে। একজন খাদ্যপ্রেমীর দৃষ্টিকোণ থেকে খাবারটির ভালো-মন্দ তুলে ধরার চেষ্টা রইলো।


ভোজন বিলাসি কিংবা বাইরের খাবার খেতে পছন্দ করেন এমন সকলের কাছেই ‘ঝালমুড়ি’ পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি খাবার। রাস্তার মোড়ে ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে দেখলে ঝাল ঝাল ঝালমুড়ি খাবার লোভটা যেন কোনভাবেই সামলিয়ে রাখা যায় না! ঝালমুড়ি মাখানো থেকে পরিবর্তিত হয়ে এখন পাওয়া যায় মুড়ি মাখানো। চানাচুর, আলু, ডিম, কলিজা দিয়ে বানানো মজাদার ও মুখরোচক মুড়ি মাখানো পাওয়া যায় প্রায় সবখানেই। দামটাও থাকে হাতের নাগালের মাঝেই। তাইতো স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, সকালের চায়ের সাথে কিংবা বিকালের নাস্তায় অনেকেই বাইরের ঝালমুড়ি অথবা মুড়ি মাখানো খেতে পছন্দ করেন খুব।

বহু ধরণের ঝালমুড়িই নিশ্চয় খাওয়া হয়েছে, তবে কোয়েল পাখির ডিমের ঝালমুড়ি খেয়েছেন কি আদৌ? জ্বি, আপনি ঠিকই পড়েছেন। আজকে জানাবো এমন একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতার খোঁজ, যিনি মুরগির ডিমের পাশাপাশি কোয়েল পাখির ডিম দিয়েও ঝালমুড়ি বানিয়ে থাকেন।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি বিশ্বাবিদ্যালয়ের মহাখালি ক্যাম্পাসের সামনে গেলেই পাওয়া যাবে তার খোঁজ। অন্যান্য ঝালমুড়ি বিক্রেতার মতো নয় তিনি। মুড়ি ও মুড়ি মাখাবার সকল উপাদান তিনি ঘিরে রেখেছেন প্লাস্টিকের পর্দা দিয়ে। যেন যেকোন ধরণের ধুলাবালি ও ময়লামুক্ত থাকে তার খাবার! কোয়েল পাখির ডিমের মুড়ি ভর্তা অর্ডার দিয়ে গল্প করতে করতে জানলাম তার নাম মোঃ সাইদ। এই একই স্থানে বিগত প্রায় ২০ বছরের বেশী সময় ধরে ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ালেখাও করেছেন তিনি। এরপর দারিদ্র্যের জন্যে সেটা আর আগানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। বর্তমানে এই ঝালমুড়ি বিক্রি করেই নিজের এবং তার বোনের সংসার চালাচ্ছেন তিনি। জিজ্ঞেস করেছিলাম, “লাভ কেমন হয়?” উত্তরে একটা হাসি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, “এইটা দিয়েই তো সংসার চালাইতেছি দুইটা, অইরকমই লাভ হয় আরকি।”

মাত্র বিশ টাকার কোয়েল পাখির ডিমের ঝালমুড়িতে একসাথে তিনটা কোয়েল পাখির ডিম দিয়ে বানান ‘কোয়েল পাখির ঝালমুড়ি।’ একইসাথে মাত্র তিরিশ টাকায় কোয়েল পাখির ডিম ও কলিজা দেওয়া ঝালমুড়ি পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, জলপাই এর মৌসুমের জন্য রয়েছে জলপাইয়ের আচার আর সাথে রয়েছে ভেলপুরিও। অন্যান্য সকল ঝালমুড়ি বিক্রেতার মতো মোঃ সাইদও ঘুগনি, চানাচুর, কাঁচামরিচ-পেয়াজ সমেত ঝালমুড়ি বানিয়ে থাকেন। তবে কোন একটা আলাদা মশলা ও আচারের তেল সাথে যোগ করেন, যার জন্য তার বানানো ঝালমুড়ির স্বাদটাই হয়ে যায় একদম ভিন্ন! সাথে তো রয়েছেই কোয়েল পাখির ডিম। মাত্র বিশ টাকার মধ্যে মনে প্রশান্তি এনে দেওয়ার মতো পছন্দের খাবার পেলে হাতছাড়া করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। দুপুর তিনটা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত একই স্থানে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন তিনি। তাই এই সময়ের মাঝে গেলেই তার খোঁজ পাওয়া যাবে সহজেই।

সুপ্রিয় পাঠকেরা, প্রিয় লাইফে আপনাদের স্বাগতম। আপনাদের জীবনকে আরও একটু সহজ করতে, নানান রকম পণ্য ও সেবার রিভিউ ও খোঁজ-খবর তুলে ধরতে এখন থেকে আমাদের নিয়মিত আয়োজন থাকবে । আমাদের আজকের রিভিউ ‘কোয়েল পাখির ডিমের ঝালমুড়ি’ নিয়ে। একজন খাদ্যপ্রেমীর দৃষ্টিকোণ থেকে খাবারটির ভালো-মন্দ তুলে ধরার চেষ্টা রইলো।