মুসলমান না হয়ে এবং হিজাব ছাড়াই রোবট নারী ‘সোফিয়া’ কীভাবে পেল সৌদি নাগরিকত্ব

How-did-the-Sophia-robot-woman-without-being-a-Muslim-and-without-hijab-Saudi-Saudi-Arabia 

 মধ্য প্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে কঠিন ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা হয়। দেশটিতে নারীরা হিজাব ছাড়া কিংবা পুরুষ সঙ্গী ছাড়া চলাচলে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এমনকি সৌদি আরবে নন-মুসলিম কাউকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না। তবে এত আইন-কানুন থাকা সত্ত্বেও গত ২৫ অক্টোবর সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পেয়েছে ‘সোফিয়া’ নামের নারী রোবট।


নাগরিকত্ব দেওয়ার সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, রোবট সোফিয়া কি তাহলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে? আবার অনেকেই প্রশ্ন তোলেন সৌদি নাগরিক সোফিয়ার মাথায় হিজাব নেই কেন? আর ‘সোফিয়া’ যদি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করত তাহলে কি সে এভাবে নাগরিকত্ব পেত? সৌদি নারীর তুলনায় কীভাবে ‘সোফিয়া’ এত বেশি অধিকার ভোগ করছে বলে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।

পরে শুরু হয় এটি নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ‘সোফিয়া কলস ফর ড্রপিং গার্ডিয়ানশীপ’ অর্থাৎ সোফিয়া তার ওপর অভিভাবকের খবরদারি তুলে নেয়ার দাবি জানাচ্ছে বলে আরেকটি বিদ্রুপাত্মক পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এ নিয়ে সাংবাদিক মুর্তজা হোসেন লিখেন, ‘কাফালা’ (অভিবাসী) শ্রমিকরা তাদের প্রায় পুরোটা জীবন এখানে কাটাচ্ছেন কিন্তু তাদের আগেই এই রোবট সৌদি নাগরিকত্ব পেয়ে গেল?’

ইন্সটিটিউট অব গালফ অ্যাফেয়ারের পরিচালক আলী আল-আহমেদ নিউজউইকে বলেন, সৌদি নারীরা আত্মহত্যা করবে কারণ তারা বাড়ির বাহিরে যেতে পারে না কিন্তু সোফিয়া সর্বত ঘুরে বেড়াচ্ছে।

হ্যানসন রোবটিকস এর ডেভিড হ্যানসন এই রোবটটি তৈরি করেছেন। এর আগে ২০১৬ সালে এসএক্সএসডব্লিউ সম্মেলনে পরিচয় করে দেয়া হয় এই সোফিয়াকে। এবং এসময় রোবটটিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল সে কী মানবজাতিকে ধ্বংস করতে চায়? তাকে না বোধক উত্তর দিতে বলা হয়েছিল। তবে সোফিয়ার উত্তর ছিল, আমি মানবজাতিকে ধ্বংস করব।

মধ্য প্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে কঠিন ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা হয়। দেশটিতে নারীরা হিজাব ছাড়া কিংবা পুরুষ সঙ্গী ছাড়া চলাচলে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এমনকি সৌদি আরবে নন-মুসলিম কাউকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না। তবে এত আইন-কানুন থাকা সত্ত্বেও গত ২৫ অক্টোবর সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পেয়েছে ‘সোফিয়া’ নামের নারী রোবট।