শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের সমস্যা এড়াতে প্রাকৃতিক উপাদান

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের সমস্যা এড়াতে প্রাকৃতিক উপাদান 

 ত্বকের কোমলতা ও আর্দ্রতা কমে যাবার ফলে ত্বক অনেক বেশী রুক্ষ হয়ে ওঠে। ত্বকের এই রুক্ষতা থেকেই দেখা দেয় ব্রণসহ ত্বকের নানা ধরণের সমস্যা। ত্বকের রুক্ষতার এই সমস্যা দেখা দিতে পারে শরীরের কোন সমস্যার জন্য, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার জন্য, অনিয়মিত জীবনযাপনের জন্য। বলার অপেক্ষাই রাখে না, ত্বকের এমন ধরণের সমস্যার ক্ষেত্রে সমাধান সঠিক সমাধান খুঁজে পাওয়াটা বেশ কষ্টকর হয়ে ওঠে। এমনকি বিজ্ঞাপনে দেখানো দামী সকল কসমেটিকস পণ্যে এক্ষেত্রে অনেক সময় তেমন কোন কাজেই লাগে না! যে কারণে, ত্বকের যে কোন ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে সবসময় বলা হয়ে থাকে একদম প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য।


আজকের ফিচার থেকে জেনে নিন এমন কিছু দারুণ প্রাকৃতিক উপাদানের নাম যার সঠিক ব্যবহার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ত্বকে কোমল ভাব বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

অলিভ অয়েল


অন্যান্য যেকোন কসমেটিকস পণ্যের চাইতেও ত্বকের জন্যে বেশী ভালো কাজ করে থাকে অলিভ অয়েল। পুষ্টিকর অলিভ অয়েল ব্যবহারে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে থাকে এবং ত্বককে পরবর্তী সময়ে শুষ্ক হয়ে যাওয়া থেকে প্রতিরোধ করে থাকে।

ত্বকে ব্যবহারের জন্য, কিছু পরিমাণ অলিভ অয়েল নিয়ে ত্বকের উপর লাগিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ৫-১০ মিনিট এর জন্য ম্যাসাজ করতে হবে। এতে করে ত্বকের নীচে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে। সপ্তাহে ৩-৪ বার অলিভ অয়েল ব্যবহারে ত্বকের আর্দ্রতা ভাব পুরোপুরি বজায় থাকবে এবং নতুন করে শুষ্ক ও রুক্ষ ভাব দেখা দেবে না।

মধু


মধু ত্বকের আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেন একদম প্রাকৃতিকভাবে। ঐতিহ্যবাহী এবং নানান গুণ সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক উপাদান মধুতে এমন কিছু ভিন্নধর্মী ও মিশ্র পদার্থ রয়েছে যা ত্বককে নরম করতে ও ত্বকের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

মধু ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু পরিমাণ মধু ত্বকে লাগিয়ে অন্তত ১০-১৫ মিনিট সময়ের জন্য রেখে দিতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

শসা


ত্বকের যত্নের জন্য শসা যেন অনবদ্য এক উপাদান। কারণ শসাতে রয়েছে অনেক উচ্চ মাত্রায় পানি এবং ত্বকের জন্য উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ। যেগুলো ত্বকে আর্দ্রতা তৈরি করতে ও বজায় রাখতে সাহায্য করে।

শসা ব্যবহারের সবচাইতে ভালো উপায় হলো, কিছু পরিমাণ শসা ভর্তা করে সেটা পুরো মুখের উপরে দিয়ে রাখতে হবে ১০-১৫ মিনিট সময়ের জন্য। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

গোলাপজল


ত্বকের অসংখ্য সমস্যার ক্ষেত্রে যে উপাদানটি সবচাইতে বেশী ব্যবহৃত হয় সেটা হলো গোলাপজল। এই উপাদানটি একদম প্রাকৃতিকভাবেই ত্বকের আর্দ্রতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও, গোলাপজল ত্বকে লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে।

গোলাপজল ব্যবহারের জন্য সবচাইতে উপযুক্ত সময় হলো রাত। রাতে তুলার সাহায্যে ত্বকে গোলাপজল লাগিয়ে রেখে সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত এই উপায়ে গোলাপজল ব্যবহার করলে ত্বকে কোন ধরণের সমস্যা দেখা দেবে না।

দই


শুধুমাত্র খাদ্য হিসেবে নয়,  ত্বকের যত্নেও দই খুব চমৎকার একটি উপাদান। ত্বক অনেক বেশী শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে উঠলে দই এর ব্যবহারে ত্বকের আর্দ্রতা ফিরে আসে অনেকখানি। দই ত্বকে ব্যবহারের জন্য, কিছু পরিমাণ দই নিয়ে ত্বকের উপরে প্রলেপ দিয়ে রেখে দিয়ে ১৫ মিনিট পরে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ত্বকের কোমলতা ও আর্দ্রতা কমে যাবার ফলে ত্বক অনেক বেশী রুক্ষ হয়ে ওঠে। ত্বকের এই রুক্ষতা থেকেই দেখা দেয় ব্রণসহ ত্বকের নানা ধরণের সমস্যা। ত্বকের রুক্ষতার এই সমস্যা দেখা দিতে পারে শরীরের কোন সমস্যার জন্য, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার জন্য, অনিয়মিত জীবনযাপনের জন্য। বলার অপেক্ষাই রাখে না, ত্বকের এমন ধরণের সমস্যার ক্ষেত্রে সমাধান সঠিক সমাধান খুঁজে পাওয়াটা বেশ কষ্টকর হয়ে ওঠে। এমনকি বিজ্ঞাপনে দেখানো দামী সকল কসমেটিকস পণ্যে এক্ষেত্রে অনেক সময় তেমন কোন কাজেই লাগে না! যে কারণে, ত্বকের যে কোন ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে সবসময় বলা হয়ে থাকে একদম প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য।