বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় জেসিয়ার অগ্নিপরীক্ষা

Pregnant-pregnant-again

নাচের মহড়া, বেড়ানো, নতুন নতুন পদের খানাপিনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করা; চীনে যাওয়ার পর থেকে কতো কিছুই না করেছেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জেসিয়া ইসলাম।


এবার সময় নিজেকে প্রমাণের। বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অগ্নিপরীক্ষার সামনে তিনি। বুধবার (১ নভেম্বর) রাতে তাকে অংশ নিতে হচ্ছে হেড টু হেড চ্যালেঞ্জে। এই আয়োজন সরাসরি দেখা যাবে মিস ওয়ার্ল্ড ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।
‘হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ-এর জন্য বাংলাদেশসহ ১২০ দেশের প্রতিযোগীকে ভাগ করা হয়েছে ২০টি দলে। প্রতি গ্রুপে আছেন ছয় জন। এর মধ্যে গ্রুপ-সিক্সে রয়েছে জেসিয়ার নাম। এই গ্রুপে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা, ইথিওপিয়া ও বটসওয়ানার সুন্দরীরা। অনুষ্ঠান শেষে জানানো হবে প্রতিযোগীদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া।
কে কোন গ্রুপে থাকবেন তা নির্ধারিত হয়েছে ড্রয়ের মাধ্যমে। মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) ওভারসিস চাইনিজ টাউন ইস্ট শেনজেনে ‘হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ’-এর ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এবারই প্রথম বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়েছে এই বিভাগ। এই বিভাগের ফল থেকেই চূড়ান্ত হবে শীর্ষ ৪০ প্রতিযোগী। তাদের বলা হবে ‘ফাইনাল ফোর্টি’।
* মিস ওয়ার্ল্ড ‘হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ’ ড্র অনুষ্ঠানে জেসিয়াকে দেখুন:




শীর্ষ ৪০-এ গেলে জেসিয়া অংশ নেবেন টপ মডেল, ট্যালেন্ট, মাল্টিমিডিয়া, স্পোর্ট, বিউটি উইথ অ্যা পারপাস বিভাগগুলোতে। এরপর গালা রাউন্ডে যাবেন সেরা ২০ প্রতিযোগী।


গত ২৯ অক্টোবর হুয়াংশানের ইয়েলো মাউন্টেনে মিস ওয়ার্ল্ড উৎসবের ৬৭তম আসরের উদ্বোধন হয়। এই জায়গাটি চীনের সবচেয়ে সুন্দর পাহাড়ি এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ইউনেস্কোর দৃষ্টিতে বিশ্বের ঐতিহাসিক স্থানের স্বীকৃতি পেয়েছে এটি।

আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা উৎসব উদ্বোধন করেন মিস ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান জুলিয়া মোরলে। এ সময় আরও ছিলেন হুয়াংশানের মেয়র ডেভিড লি ও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে প্রত্যেক প্রতিযোগী উচ্ছ্বাস ও গর্ব প্রকাশ করেন এখানে।

ইয়েলো মাউন্টেনের ‘দ্য গ্রিটিং পাইন’-এ অনুষ্ঠান শুরুর আগে পাহাড়ের এক চূড়া থেকে অন্যটিতে তারের সাহায্যে চলা গাড়িতে চড়েছেন প্রতিযোগীরা। এ সময় পাহাড়ের নয়নাভিরাম দৃশ্যগুলো উপভোগ করেন তারা।


গত ২৬ অক্টোবর চীনের শেনজেন শহরে মিস ওয়ার্ল্ড দাতব্য নিলাম অনুষ্ঠানে জেসিয়াসহ সব প্রতিযোগীকে মঞ্চে স্বাগত জানান বর্তমান বিশ্বসুন্দরী

পুয়ের্তোরিকোর স্টেফানি দেল ভালে। তারা সম্মিলিত কণ্ঠে গেয়েছেন মিস ওয়ার্ল্ডের থিম সং ‘লাইট দ্য প্যাশন, শেয়ার দ্য ড্রিম’। এরপর প্রতিযোগীদের দেশের নাম বলা হয় ইংরেজি ও চীনা ভাষায়। নিলামের জন্য নিজ নিজ দেশের একটি করে উপহার নিয়ে যান প্রত্যেক প্রতিযোগী।

গুয়াংজু থেকে হংজো শহরে গিয়ে সেখানকার ওয়েন্সলি সিল্ক কালচারাল মিউজিয়াম ঘুরে দেখেছেন প্রতিযোগীরা। বেসরকারি সিল্ক জাদুঘরটিতে তাদের প্রত্যেককে দেওয়া হয় সিল্কের তৈরি একটি করে স্কার্ফ।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর জেসিয়াসহ সব প্রতিযোগী ঘুরে বেড়িয়েছেন শেনজেন শহরের পূর্বাঞ্চলে ওভারসিস চাইনিজ টাউনে। ঘোরাঘুরির পর ওসিস ও. সিটির মঞ্চে শেনজেন থিয়েটারের পরিবেশনায় চীনের বৈচিত্রময় সংস্কৃতি উপভোগ করেন তারা।

এদিকে অবসর পেলে বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার দিচ্ছেন জেসিয়া। তাকে শুভকামনাও জানাচ্ছেন পরিচিত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

‘মিস ওয়ার্ল্ড’-এর ৬৭তম আসরে অংশ নিতে গত ২০ অক্টোবর চীনের গুয়াংজু বিমানবন্দরে পৌঁছান জেসিয়া। এরপর বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এসেছে তার পরিচিতি ভিডিও। মিস ওয়ার্ল্ড-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও যুক্ত হয় ১৮ বছর বয়সী এই তরুণীর ছবি। তার মাধ্যমে ১৬ বছর পর বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় দেখা যাচ্ছে লাল-সবুজ পতাকা।

আগামী ১৮ নভেম্বর চীনের সানাইয়া সিটি এরেনায় হবে প্রতিযোগিতার ফাইনাল। ওইদিন নতুন মিস ওয়ার্ল্ডের মাথায় মুকুট পরিয়ে দেবেন বর্তমান বিশ্বসুন্দরী স্টেফানি দেল ভালে।

নাচের মহড়া, বেড়ানো, নতুন নতুন পদের খানাপিনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করা; চীনে যাওয়ার পর থেকে কতো কিছুই না করেছেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জেসিয়া ইসলাম।