চারটি ধাপে বাড়িয়ে তুলুন মানসিক শক্তি

Raise-mental-strength-in-four-steps 

কোন চারটি ধাপে মানসিক শক্তি বাড়ানো সম্ভব সেটা জানার আগে আসুন জেনে নেই ছোট্ট একটি ঘটনা। আমেরিকা-কানাডিয়ান জনপ্রিয় খেলা কোয়ার্টারব্যাকস এর '২০১৭ সুপার বল' খেলা চলাকালীন সময়ে ইংল্যান্ডের খেলোয়ার টম ব্র্যাডি’র দলের পারফরম্যান্স খুব বাজে হয়ে যায়। সকলেই সেই ম্যাচে জেতার আশা একেবারেই ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু, খেলার প্রথম হাফের পর ম্যাচের দৃশ্য যেন একেবারেই পাল্টে যায়! ব্র্যাডি তার দলকে এমনভাবে গাইড করেন যে, তারা দূর্দান্ত পারফরম্যান্স করে খুব দারুনভাবে খেলায় জিতে যায়! যেটা সবাইকে অবাক করে দেবার মতোই একটি ঘটনা ছিল। 


জানতে চান কীভাবে ব্র্যাডি অতো বেশি মানসিক চাপের মুখে থেকেও দলকে জিতিয়ে নিয়ে ফিরেছিলেন? হ্যাঁ, অবশ্যই তার পেছনে রয়েছে ঘন্টার পর ঘন্টা মাঠে প্র্যাকটিস করা। তবে ব্র্যাডি আরো জানিয়েছেন এর সাথে রয়েছে 'ব্রেইন এক্সসারসাইজ।' যেটা সিদ্ধান্ত তৈরির ক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করেছে। তার এই ব্রেইন এক্সসারসাইজ তাকে সাহায্য করেছে খেলা চলাকালীন সময়ে খুব কঠিন এবং অনেক জটিল ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে।

এখন হয়তো ভাবতে পারেন, আপনি তো কোন খেলোয়াড় নন। তবে কেনো আপনার মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন! সেক্ষেত্রে জেনে রাখা জরুরি, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এবং প্রতিটি ধাপেই নিজের মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয় সবচাইতে বেশী। সফলতা অর্জনের জন্যে মানসিক শক্তির কোন বিকল্প একেবারেই নেই। তাই জেনে নিন চারটি দারুণ ব্রেইন এক্সসারসাইজের মাধ্যমে কীভাবে মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করা যায়।

জেতার জন্যে লড়তে হবে


ইন্সটিটিউট অফ স্পোর্ট ইন ইংল্যান্ড এর গবেষকেরা তাদের গবেষণা থেকে বের করেছেন- একজন মানুষ তার মাথার ভেতরে পরবর্তী সময়ের ঘটতে চলা ঘটনাগুলো নিয়ে যেভাবে চিন্তা করেন এবং ভাবেন, সেটা তার কাজের ক্ষেত্রে অনেকখানি প্রভাব ফেলে থাকে। যার ফলে তার কাজ অথবা পারফরম্যান্সের উপরে অনেকখানি পরিবর্তন চলে আসে। যে কারণে, কোন কাজ শুরু করার আগে যদি নিজেকে নিজেই বলা হয়, “আশা করি কাজটা করতে পারব” অথবা “এই খেলাতে জিততেই হবে” তবে সেক্ষেত্রে এই  ইতিবাচক মনোভাব মানসিক শক্তিকে বাড়িয়ে দেয় অনেকখানি। নিজের চিন্তাধারার মাঝে খুব ছোট্ট এই পরিবর্তনটাই এনে দিতে পারে অনেকখানি সফলতা।

মনযোগী হবার চেষ্টা করতে হবে


বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা যায়, মনযোগী হলে মানসিক চাপের সময়ে মস্তিষ্ক অন্যভাবে কাজ করে থাকে। যে কারণে মিলিটারিতে সকল শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়ানোর প্রতি বিশেষভাবে যত্ন নেওয়া হয়। কারণ, ভবিষ্যৎ সময়ে অনেক বেশী কঠিন এবং ঝামেলাযুক্ত পরিস্থিতিতে তাদের মানসিক চাপমুক্ত হয়ে সিদ্ধান্ত তৈরি করতে হবে। এছাড়াও বিভিন্ন খেলার কোচ জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের মনযোগী করে তুলতে পারলে সেটা তাদের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে অনেক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মূল কথা- বর্তমান সময়ে যে কাজটি করা হচ্ছে, সেটার প্রতি পরিপূর্নভাবে মনোযোগ দিতে পারলে ফলাফলের ক্ষেত্রে সবসময়ই বড় ধরণের একটা ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

কার্যকলাপ সম্পর্কে আগে থেকেই কল্পনা করতে হবে


অলিম্পিক স্বর্ণবিজয়ী লিন্ডসে ভন ‘মাইন্ড বডি গ্রিন’ এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "দৌড় দেওয়ার জন্য যতক্ষনে আমি স্টার্ট গেইটে যাই, ততক্ষনে আমি নিজের মনের মধ্যে ১০০ বারের বেশী দৌড়ে ফেলেছি এবং আমি ভেবে রেখেছি কীভাবে প্রতিটি বাঁকে টার্ন নেবো।" এই কারণেই,মানসিক কল্পনার সাথে শারীরিক কার্যকলাপের সংযোগ থাকে অনেক বেশী।

এমনকি গবেষণা থেকে বহুবার একই ফল দেখা গেছে। কোন কাজের ক্ষেত্রে কারোর দক্ষতার মাত্রা যত বেশিই হোক না কেন, নিজেকে সেই অবস্থানে আগে থেকে ভেবে রাখা, কল্পনা করা ফলাফলের ক্ষেত্রে অনেক ভালো প্রভাব ফেলে। কর্মক্ষেত্রে এই ব্যাপারটি অনেক বেশী ভালো কাজ করে থাকে। কোন জরুরি মিটিং কীভাবে সম্পাদন করা হবে, কাউকে কোন গুরুত্বপূর্ন ব্যাপারে কীভাবে জানালে ভালো হবে- এমন সকল ব্যাপারে আগে থেকে ভেবে রাখলে এবং প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে কাজটি সহজে এবং সফলভাবে করা সম্ভব হয়।

নিজের নাম উল্লেখ করে নিজের স্বপক্ষে ইতিবাচক কথা বলতে হবে


গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, নিজের নাম নিয়ে কোন কাজের ক্ষেত্রে নিজেকে অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে মানসিক দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ কমানো সম্ভব হয় অনেকখানি। শুধু তাই নয়, এতে করে নিজের মাঝে বিশ্বাস তৈরি করাও সম্ভব হয়। যার ফলে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সহজ হয়ে যায়। যার ফলাফল হিসেবে দেখা দেয় সফলতা। এতোদিন ধরে নিশ্চয় এইভাবে নিজেকে বলে এসেছেন, “আমি এই কাজটি করতে পারব”, তবে এখন থেকে এই কথাটিই নিজের নাম নিয়ে বলা শুরু করুন। ‘আমি’র সাথে নিজের নামটি যতবার ভাববেন এবং উচ্চারণ করবেন, সেটা মস্তিষ্কে সেভাবেই প্রভাব ফেলবে।

কোন চারটি ধাপে মানসিক শক্তি বাড়ানো সম্ভব সেটা জানার আগে আসুন জেনে নেই ছোট্ট একটি ঘটনা। আমেরিকা-কানাডিয়ান জনপ্রিয় খেলা কোয়ার্টারব্যাকস এর '২০১৭ সুপার বল' খেলা চলাকালীন সময়ে ইংল্যান্ডের খেলোয়ার টম ব্র্যাডি’র দলের পারফরম্যান্স খুব বাজে হয়ে যায়। সকলেই সেই ম্যাচে জেতার আশা একেবারেই ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু, খেলার প্রথম হাফের পর ম্যাচের দৃশ্য যেন একেবারেই পাল্টে যায়! ব্র্যাডি তার দলকে এমনভাবে গাইড করেন যে, তারা দূর্দান্ত পারফরম্যান্স করে খুব দারুনভাবে খেলায় জিতে যায়! যেটা সবাইকে অবাক করে দেবার মতোই একটি ঘটনা ছিল।