প্রেমিকের যেসব আচরণ তার নিখাদ ভালোবাসার প্রমাণ

 

‘একজন পুরুষের ব্যবহার সেটিই যা সে করে, বরং সেটি নয় যা সে ভাবে, অনুভব করে কিংবা বিশ্বাস করে’ বলেছেন এমিলি ডিকেনসন। কথাটি কিন্তু একেবারে সত্য। পুরুষ এবং নারীরা বিভিন্ন উপায়ে তাদের ভালোবাসা এবং মমতা প্রকাশ করেন। কিছু কিছু মানুষ একদম সংবেদনশীল হয়ে থাকেন, কিন্তু সত্য তো সত্যই। একজন নারী মাঝেমধ্যেই দ্বিধায় পড়ে যেতে পারেন যে, ‘গতকালই সে ছিলো পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট পুরুষ। কিন্তু আজই তার এতো পরিবর্তন কেন?’ এমন ভাবনায় ভুল কিছু নেই। একজন পুরুষ যা বলেন এবং যা করেন- দুটোর মধ্যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন থাকতেই পারে।


সত্যতা হলো, একজন নারী এবং একজন পুরুষ সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে চিন্তা করেন। সাধারণত, নারীরা প্রচন্ড সংবেদনশীল এবং অমায়িক হয়ে থাকেন। তাই বলে কী পুরুষদের কোন নির্দিষ্ট অভ্যাস কিংবা বৈশিষ্ট্য নেই যেগুলো পর্যবেক্ষণ করলেই একজন নারী তার সঠিক রূপ বুঝতে পারবেন?

অবশ্যই আছে। এবং এগুলো সাতটি লক্ষণে বিভক্ত করা হয়েছে। জানতে চান প্রিয় মানুষটি আপনাকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে কী না? চলুন তবে জেনে আসা যাক-

তিনি মনোযোগ দিয়ে আপনার কথা শোনেন

সাধারণত, নারীরা পুরুষদের তুলনায় ভালো শ্রোতা হয়ে থাকেন। কিছু কিছু পুরুষ শ্রোতা হিসেবে একেবারেই খারাপ!  মজার ব্যাপার হলো, বেশিরভাগ পুরুষেরা শুধুমাত্র সেটিই শোনেন যে বিষয়ে তারা আগ্রহী বোধ করেন। সুতরাং, যখন আপনি দেখবেন একজন পুরুষ আপনার কথা শুধু শুনছেই না, সেটিতে পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে তাহলেই আপনি ধরে নিতে পারেন যে তিনি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আপনার কথার একটি মূল্য আছে তার কাছে।

বিসর্জন করতে তিনি মোটেই ভীতু নন

ভালোবাসার মানুষের জন্য ব্যক্তিগত ত্যাগ কিংবা বিসর্জন কমবেশি সকলেই করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে, কোন পুরুষ যদি টের পান যে তার সঙ্গী মনঃকষ্টে ভুগছে তাহলে তিনি সেখান থেকে কিভাবে তাকে বের করে আনবেন, এ ব্যাপারে যথেষ্ট চেষ্টা করে থাকেন।  আপনার খুশির জন্য তিনি ছোটখাটো বিসর্জন করেছেন কি? তিনি যদি আপনাকে সর্বাগ্রে রাখেন, আপনার জন্যে তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে প্রস্তুত থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চিন্তে ধরে নিতে পারেন যে তিনিই সেই একজন।

তিনি দুর্বলতা প্রদর্শন করেন

আপনাকে যখন তিনি সত্যিকার অর্থে ভালোবাসবেন, তখন তিনি দুর্বলতা প্রদর্শন করতেও দ্বিধা বোধ করবেন না। এতে করে ভালোবাসা গভীর হয় এবং সম্পর্কের স্থায়িত্ব বাড়ে।

তিনি সকল অবস্থায় আপনাকে আপন করে নিতে প্রস্তুত

আপনার মনে আছে সম্পর্কের শুরুর দিকে যখন আপনারা কোথাও বেড়াতে যেতেন, তখন তার সামনে নিজেকে সুন্দর দেখানোর জন্য আপনি যথাসাধ্য চেষ্টা করতেন। আমরা প্রত্যেকেই নিজের সঙ্গীর সামনে সুন্দর দেখাতে পছন্দ করি এবং এটিই স্বাভাবিক।

কিন্তু প্রকৃত সম্পর্কে একটু ভিন্নতা আছে। আপনার পছন্দের মানুষ যখন আপনার পোশাক, সাজ, বাহ্যিক রূপ দ্বারা বিচার না করে আপনার অন্তর, আত্মা ও মানসিকতা বিচার করবেন তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে তিনি সত্যিই আপনার পাণিপ্রার্থী।

তিনি আপনাকে নিয়ে গর্বিত

ভালোবাসায় অবস্থানকালে একজন প্রকৃত পুরুষ কখনো আপনাকে নিয়ে গর্ববোধ করতে দ্বিধা করবেন না। আপনি দারুণ একজন মা, কর্মঠ নারী কিংবা লক্ষ্যে পৌছনোর চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে থাকুন না কেন, আপনার সঙ্গী আপনাকে নিয়ে গর্ববোধ করবেনই। আপনি প্রশংসার দাবিদার যে সকল কাজই করেন না কেন সবকিছুতেই তিনি খুব খুশি হয়েই আপনাকে নিয়ে কথা বলবেন এবং ভালোবাসবেন।

তিনি আপনার সঙ্গে ঝগড়া করেন

একজন পুরুষ যদি সত্যিকার অর্থে আপনাকে ভালোবাসে এবং মানসিকভাবে আপনার সম্পর্কে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন তবে আপনাকে আপন করে রাখার জন্য তিনি সব রকম চেষ্টা করবেন। এমনকি দরকার পড়লে তিনি ভালোবাসার মানুষের সঙ্গেও কলহে লিপ্ত হতে পারেন।  কেননা, যেখানে ভালোবাসার বসতি সেখানে কেউ না চাইলেও কলহ বসতি গড়বেই। এ ঝগড়া-বিবাদ কিন্তু সম্পর্ককে শক্তিশালী করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আপনার বন্ধু ও পরিবারকে তিনি আপন করে নেন

সত্যিকার অর্থে আপনার ভালোবাসার মানুষ আপনার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদেরও গভীরভাবে আপন করে নিতে সচেষ্ট থাকেন। তাদের প্রতিনিয়ত খোঁজ-খবর নেওয়া, তাদের যত্ন-আত্তি করা, তাদের সম্মান করা সবদিকেই সমান গুরুত্ব প্রদর্শন করা হয়।

আপনার সঙ্গীর সঙ্গে কি এ লক্ষণগুলো পুরোপুরি মিলে যায়? তবে আপনি ধরে নিতেই পারেন যে আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষের দেখা পেয়ে গেছেন। প্রতিনিয়ত সম্পর্ককে যত্ন করার চেষ্টা করুন এবং স্থায়ী করার প্রতি সচেষ্ট থাকুন।

‘একজন পুরুষের ব্যবহার সেটিই যা সে করে, বরং সেটি নয় যা সে ভাবে, অনুভব করে কিংবা বিশ্বাস করে’ বলেছেন এমিলি ডিকেনসন। কথাটি কিন্তু একেবারে সত্য। পুরুষ এবং নারীরা বিভিন্ন উপায়ে তাদের ভালোবাসা এবং মমতা প্রকাশ করেন। কিছু কিছু মানুষ একদম সংবেদনশীল হয়ে থাকেন, কিন্তু সত্য তো সত্যই। একজন নারী মাঝেমধ্যেই দ্বিধায় পড়ে যেতে পারেন যে, ‘গতকালই সে ছিলো পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট পুরুষ। কিন্তু আজই তার এতো পরিবর্তন কেন?’ এমন ভাবনায় ভুল কিছু নেই। একজন পুরুষ যা বলেন এবং যা করেন- দুটোর মধ্যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন থাকতেই পারে।