যুক্তরাজ্যের কেক ইন্টারন্যাশনালে পদক পেয়েছে তাসনুতার 'বাংলাদেশী বৌ'!

UKs-Cakes-International-got-the-title-of-Bangladeshi-boy-in-Tasnutar 

নানান সময়ে বিভিন্ন কেক-আর্টিস্টের তৈরি দারুণ সব কেক দেখে অবাক হতে হয়েছে বহুবার। একটি কেক যেন এখন শুধুমাত্র একটি কেক-ই নয়, শিল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে রীতিমত। বিভিন্ন আঙ্গিকে, বিভিন্ন ঢঙে মনোমুগ্ধকর কেক বানিয়ে চমকে দিয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত দিচ্ছেন বহু কেক-আর্টিষ্টরা। আজ আমাদের কাছে আছে এই কেক তৈরি নিয়েই দারুণ একটি খবর। চমৎকার কারুকাজসহ কেক বানিয়ে ও নিজের দক্ষতার প্রমাণ রেখে দেশের বাইরেও প্রশংসা ও পদক কুড়িয়েছেন আমাদের দেশের মেয়ে তাসনুতা আলম।


গেলো ৩ থেকে ৫ নভেম্বর ২০১৭ তে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টার বার্মিংহোম এ অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো “কেক ইন্টারন্যাশনাল।” যেখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৫০০ প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। তার মাঝে “ক্লাস এন: স্মল ডেকোরেটিভ এক্সহিবিট” ক্যাটাগরিতে তাসনুতা ব্রোঞ্জ পদক জয়ী হন। প্রতিযোগিতায় তিনি যে কেকটি বানিয়েছিলেন সেটি ছিল “বাংলাদেশী বৌ।” বাংলাদেশী বৌ নিয়ে এটাই তার প্রথম কাজ করা। অসাধারণ ডিটেইলিং এবং ফিনিশিং এর চমৎকার এই কেকটি বানাতে তার সময় লেগেছিল চার দিন! ইতিপূর্বে ২০১৩ সালে ইউকের আবেরডিনে একটি এলাকা ভিত্তিক কেক তৈরির প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে তাসনুতা প্রথম হয়েছিলেন।

                     সার্টিফিকেট হাতে শিল্পী।   তাসনুতা আলম
 
পদক জেতার পরে তার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, “আমি অনেক আনন্দিত । আমার কাজের মাপকাটি আন্তর্জাতিক ভাবে কতটুকু সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এটা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার।” উল্লেখ্য, এই প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ জেতার পূর্বেই ইউকেতে ‘কেক ইন্সট্রাকটর’ হিসেবে যোগদান করার অফার পেয়েছেন তাসনুতা।

তাসনুতা পেশাগতভাবে কেক তৈরি শুরু করেন চার বছর আগে থেকে। তবে একদম প্রথম কেক বানানোর হাতেখড়ি হয়েছে তার মা কাওসার আলম এর কাছ থেকে। তাসনুতা জানান তিনি জনপ্রিয় কেক আর্টিষ্ট ডন বাটলার, পল ব্রাডফোর্ড, রবার্ট হায়নেস এর কাছ থেকে কেক তৈরি শিখেছেন। শুধু তাই নয়। ২০১৭ সালে তিনি কেক ডেকোরেটিং এর উপরে “মাষ্টার্স অফ কেক ডেকোরেটিং” কোর্স করেছেন PME লন্ডন ইউকে থেকে।


তাসনুতা’র কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল কেক তৈরির ক্ষেত্রে তার অনুপ্রেরণা কে! উত্তরে তিনি জানান, স্বামী আহমেদ সাদিক তার প্রথম অনুপ্রেরণা। তার কাছ থেকে শতভাগ সহযোগিতা না পেলে তিনি কখনই এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারতেন না বলে জানান। এছাড়াও তার মা, শাশুড়ি এবং বন্ধু-বান্ধবরাও তার কাজের ক্ষেত্রে অনেক অনুপ্রেরণা দেন।

বাংলাদেশ থেকে ২০০৮ সালে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ থেকে অ্যাকাউন্টিং এ ফার্ষ্ট ক্লাস ফার্ষ্ট হয়েছিলেন তাসনুতা। বর্তমানে প্রবাসে স্বামী  এবং তার একমাত্র সন্তান পাঁচ বছরের আদিয়ান সাদিককে নিয়ে বসবাস করছেন তাসনুতা। ছোটবেলা থেকেই আঁকাআকির প্রতি ঝোঁক ছিল তার। যেটা দেশের বাইরে যাবার পর কেক ডেকোরেশনের দিকে মোড় নেয় এবং সেটাই তার প্যাশন হয়ে দাঁড়ায়। ভবিষ্যতে তার ইচ্ছা ফার্মস কেক আর্টিষ্টদের সাথে কাজ করার। তার ইচ্ছার পেছনের কারণটি হলো, কেক এর উপরে কোলাবরেশন ওয়ার্ক হলে বাংলাদেশের নাম যেন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে।

তাসনুতা’র জন্য অফুরান শুভেচ্ছা। তিনি যে স্বপ্ন নিয়ে পথ চলা শুরু করেছেন সেটা যেন পরিপূর্ণ হয়।  কামনা রইল তার প্রতি, ভালোবাসার কাজ নিয়ে তিনি আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবেন এবং নিজের সাথে দেশের নামটাও উজ্জ্বল করবেন।

নানান সময়ে বিভিন্ন কেক-আর্টিস্টের তৈরি দারুণ সব কেক দেখে অবাক হতে হয়েছে বহুবার। একটি কেক যেন এখন শুধুমাত্র একটি কেক-ই নয়, শিল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে রীতিমত। বিভিন্ন আঙ্গিকে, বিভিন্ন ঢঙে মনোমুগ্ধকর কেক বানিয়ে চমকে দিয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত দিচ্ছেন বহু কেক-আর্টিষ্টরা। আজ আমাদের কাছে আছে এই কেক তৈরি নিয়েই দারুণ একটি খবর। চমৎকার কারুকাজসহ কেক বানিয়ে ও নিজের দক্ষতার প্রমাণ রেখে দেশের বাইরেও প্রশংসা ও পদক কুড়িয়েছেন আমাদের দেশের মেয়ে তাসনুতা আলম।