বিয়ের আংটি কেন বাম হাতের অনামিকায় পরা হয়?

বিয়ের আংটি কেন বাম হাতের অনামিকায় পরা হয়? 

শখ করে আঙ্গুলে আংটি পরেন অনেকেই। হাতের সবগুলো আঙ্গুলে আংটি পরা, তারমানে মানুষটি অলংকার ভালোবাসেন। কিন্তু বাম হাতের অনামিকায় আংটি মানেই মানুষটি বিবাহিত, নিদেনপক্ষে বাগদান হয়ে গেছে তার। কিন্তু শুধু এই আঙ্গুলটিই কেন ‘রিং ফিঙ্গার’ বলে পরিচিত? অন্য কোন আঙ্গুল কেন নয়? এর পেছনে আছে লম্বা ইতিহাস।


বাগদান অথবা বিয়ের রিং পরার চল এসেছে প্রাচীন মিশর থেকে। হায়ারোগ্লিফিকস থেকে দেখা যায়, তৎকালীন কনেদের আঙ্গুলে ছিল একটা করে আংটি। চিরন্তন ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে তারা বিয়ের আংটি পরতে শুরু করে, তারা বিশ্বাস করত অনামিকা থেকে একটি স্পর্শকাতর স্নায়ু চলে গেছে হৃদয় পর্যন্ত। এখন আমরা জানি হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সংবহনের অঙ্গ। তখন আবার মনে করা হতো হৃদয় আমাদের সব অনুভুতির উৎস।

শুধু মিশরীয় নয়, গ্রিক এবং রোমান সভ্যতায় দেখা যায় বাম হাতের অনামিকায় আংটি পরার প্রচলন। এর পেছনেও কারণটি ছিল একই ধরণের। তারা বিশ্বাস করত, একটি ‘ভেনা আমোরি’ (ল্যাটিন যে কথাটির অর্থ হলো ভালোবাসার ধমনী) ওই আঙ্গুল থেকে সরাসরি হৃৎপিণ্ডে চলে গেছে।

সেই বিশেষ স্নায়ু অথবা বিশেষ ধমনী আসলে নেই, কিন্তু তারপরেও পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে রয়ে গেছে বাম হাতের অনামিকায় আংটি পরিয়ে ভালোবাসাকে শক্তপোক্ত করে নেবার এই প্রথা। অন্যান্য কিছু দেশে আবার ডান হাতে বিয়ের আংটি পরা হয়, যেমন ডেনমার্ক, পোল্যান্ড এবং কিউবা।

এ ব্যাপারে আরো একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, আগে শুধু বিয়ের কনেকে পরতে হতো আংটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে তারা স্ত্রী ও সন্তানদের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে বিয়ের আংটি পরতে শুরু করে।

শখ করে আঙ্গুলে আংটি পরেন অনেকেই। হাতের সবগুলো আঙ্গুলে আংটি পরা, তারমানে মানুষটি অলংকার ভালোবাসেন। কিন্তু বাম হাতের অনামিকায় আংটি মানেই মানুষটি বিবাহিত, নিদেনপক্ষে বাগদান হয়ে গেছে তার। কিন্তু শুধু এই আঙ্গুলটিই কেন ‘রিং ফিঙ্গার’ বলে পরিচিত? অন্য কোন আঙ্গুল কেন নয়? এর পেছনে আছে লম্বা ইতিহাস।