লুকিয়ে হলেও বই পড়তে হবে: ড. জাফর ইকবাল

লুকিয়ে হলেও বই পড়তে হবে: ড. জাফর ইকবাল 

ছোট বড় সকলকে বই পড়ার প্রতি গুরত্বআরোপ করে লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, লুকিয়ে হলেও সকলকে বই পড়তে হবে।


৮ ডিসেম্বর শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭ এর তৃতীয় দিনে অনুষ্ঠিত চিলড্রেন’স ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড শীর্ষক সেমিনারে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাফর ইকবাল বলেন, বাবা-মাকে খুশি রেখে বই পড়তে হবে।  লুকিয়ে হলেও বই পড়তে হবে। মা-বাবা যদি বই পড়তে না দেন তাহলে রাতে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে বা বাথরুমে গিয়েও বই পড়তে হবে। পাশাপাশি কোডিংয়ের কাজ করা যেতে পারে। বাবা-মা চান ভালো রেজাল্ট এর। এইটা কোনো ব্যাপার না। একটু ভালো করে পড়লেই ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব।

প্রোগ্রামিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রোগ্রামিং করতে দুই থেকে তিনটি স্টেটমেন্ট জানলেই হয়। প্রোগ্রামিং মজার একটি বিষয়।
 
       কোডিংয়ের বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলছেন এক খুদে শিক্ষার্থী

ফেসবুক ও যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সময়ের ফাঁদে পড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সময় নষ্ট করছে। এসব শিক্ষার্থীদের সময় আটকে রাখছে। টেকনোলজি ব্যবহার করতে হবে কিন্তু টেকনোলজিকে আমাদের ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না।

এদিকে সেমিনারের শুরুতে দুই খুদে বক্তা কোডিংয়ের বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানায়।

নাশিতা জাইনা রহমান নামে ৫ম শ্রেণীর এক খুদে শিক্ষার্থী বলে, আমি ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড এর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এটি আমার প্রথম স্পিস। আমি রোবট সোফিয়াকে দেখতে পারিনি। কারণ আমার পরীক্ষা চলছিল। আমার অনেক মন খারাপ হয়েছিল। আমি অনেক বই পড়তে ভালোবাসি। হার্ড কপি ছাড়াও আমার সফটকপি পড়তে ভালো লাগে। আমি চাই আমাদের বাংলাদেশি প্রকাশকরা যেনো সফট কপিরও ব্যবস্থাও করে। আমি অনেক সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালোবাসি। 

           কোডিংয়ের বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলছেন এক খুদে শিক্ষার্থী
 
নাশিতা তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলে, আম্মুকে কম্পিউটারে কাজ করতে দেখতাম। আমি মনে করতাম এসব কাজ বোরিং। আমি গেম খেলতাম। একদিন আমি আম্মুকে বললাম আমার একটি শুটিং গেম চাই যেখানে সিন্ডারেলা থাকবে। আমি ভেবেছিলাম মা আমার কথা ভুলে গেছে বা মা পারে না। এর কিছুদিন পর আমি যে গেমটি চেয়েছিলাম, মা তা বানিয়ে আমাকে দিল। আমি তো অবাক হলাম। মা বললো কোডিং করে মা গেমটি বানিয়েছে। আমি তখন কোডিং শিখতে চাইলাম। এ থেকেই আমার কোডিংয়ের শুরু।

৬ষ্ঠ শ্রেণীর খুদে বক্তা আনুভা চৌধুরী বলে, আমার প্রোগ্রামিং করতে অনেক ভালো লাগে। আমি একটি স্কুলে গিয়েছিলাম সেখানে গিয়ে অনেক শিশুকে প্রোগ্রামিং করতে দেখেছি। তার এর জন্য স্ক্রাচ নামে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। আমি প্রোগ্রামিং আরও ভালো করে শিখব।

সেমিনারে অংশ নেওয়া বক্তারা জানান, প্রোগ্রামিং কোনো বিষয় নয়। একটু চেষ্টা করলে শিশুরা প্রোগ্রামিং করতে পারবে।

ছোট বড় সকলকে বই পড়ার প্রতি গুরত্বআরোপ করে লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, লুকিয়ে হলেও সকলকে বই পড়তে হবে।