টক-মিষ্টি-ঝাল

টক-মিষ্টি-ঝাল 

থরে থরে কাঁচামরিচ, পুদিনা, গুড়, চিনি, আদা, লেবু, জলপাই, কমলা, বিলম্বি, কামরাঙা, আমড়া, তেঁতুল সাজানো। পাশে হামানদিস্তাও আছে।  নির্ঘাত ভেবে বসেছেন আচারের দোকান। আমিও তাই ভেবেই এগিয়ে গিয়েছিলাম। তবে সারি সারি গ্লাস সাজানো দেখে ভাবলাম জ্যুস বোধহয়। সেটিও ভুল ভাবনা। আসলে কী আছে এখানে সেটি দেখতেই যাওয়া।


গত চার বছর ধরে পান্থপথ বসুন্ধরা সিটির উলটো পাশে, কালভার্ট রোডের কোনায় বসেন জুরুল ভাণ্ডারি। পেশা চা বিক্রি। ১৪ বছর ধরে পান্থপথের এই সড়কদ্বীপের নানা স্থানে চা বিক্রি করছেন, ছিলো কলা, বিস্কুট, সিগারেটের পশরা। তবে চার বছর ধরে হরেকরকম চা বিক্রি করছেন।

চায়ে এমন টক-ঝাল মিষ্টি ব্যবহার কেনও প্রশ্নের উত্তরে হাসলেন। বললেন, মানুষ আজিব জিনিস পছন্দ করে। আর খাইতে তো খারাপ না। তেতুল-পুদিনা- কাঁচামরিচ হামানদিস্তায় ছেঁচে নিয়ে চায়ের লিকার মিশিয়ে খেয়ে দেখার অনুরোধ করলেন। দারুণ নাকি এই টক-ঝাল চা।

বললেন, আপনে আদা চিনি দেওয়া রং চায়ে লেবুর টক খান না? তেঁতুলের টকেও স্বাদ সমান। আরও বেশি।


জুরুলের দোকানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ঘন দুধ দেওয়া গুড়ের চা। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে টক-মিষ্টি-ঝাল চা।  তৃতীয় মালটা-পুদিনা চা এবং চতুর্থ আদা দিয়ে দুধ চা।

তবে সব কিছু খুব ভালোভাবে মেলাতে হবে। এমনি কুচিকুচি করে আদা- তেতুল ছেড়ে দিলেই হবে না। যে মিকচারই খেতে চান লাগবে আসল নির্যাস। তাই হামান দিস্তায় ভালোমতো ছেঁচে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন জুরুল ভাণ্ডারি। কড়া লিকারের চায়ের সঙ্গে নাকি জমে দারুণ।

রাত প্রায় ১০টা বাজলেও প্রচুর ভিড় চায়ের দোকানে। ভিড়-বাট্টা সরিয়ে মামার একটা ক্লোজআপ ছবি তোলা হলো। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে এই শীতের রাতে খেজুরের গুড়ের কিংবা টক মিষ্টি চা মন্দ লাগবে না।

থরে থরে কাঁচামরিচ, পুদিনা, গুড়, চিনি, আদা, লেবু, জলপাই, কমলা, বিলম্বি, কামরাঙা, আমড়া, তেঁতুল সাজানো। পাশে হামানদিস্তাও আছে। নির্ঘাত ভেবে বসেছেন আচারের দোকান। আমিও তাই ভেবেই এগিয়ে গিয়েছিলাম। তবে সারি সারি গ্লাস সাজানো দেখে ভাবলাম জ্যুস বোধহয়। সেটিও ভুল ভাবনা। আসলে কী আছে এখানে সেটি দেখতেই যাওয়া।