এমন চা যার স্বাদ নিতে হবে জীবনে একবার হলেও!

এমন চা যার স্বাদ নিতে হবে জীবনে একবার হলেও! 

চা ছাড়া কি চলে? যারা চা ভালোবাসেন তাদের কাছে চা ছাড়া একটি দিন যেন বিভীষিকা। আর তাই যেখানেই যান না কেন আর যে অবস্থাতেই থাকুক না কেনো চা তাদের চাই। আর এই চা-কে ঘিরেই যখন গড়ে উঠেছে চা এর রাজধানী শ্রীমঙ্গল তখন এটি তো চা প্রেমীদের তীর্থস্থান।


ভেবে দেখুন তো চায়ের রাজধানীতে চা বাগানের মধ্যে বসে এক কাপ অসাধারণ চায়ে চুমুক দেওয়ার অনুভূতি কেমন হতে পারে? ঠিক যে অসাধারণ অনুভূতিটি আপনার কল্পনায় ভাসছে তাকে অন্তত আরও ৭ গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে ‘নীলকণ্ঠ টি কেবিন’। জানতে চান কীভাবে? এখানে আপনি পাবেন ১২ বছরের বেশি সময় ধরে চায়ের জগতে বিস্ময় সৃষ্টি করে চলা ৭ রঙের চা।

না, মোটেও ৭ টি আলাদা কাপে ৭ রং এর চা নয়। এই চা পরিবেশিত হয় একই গ্লাসে ৭ টি আলাদা আলাদা স্তরে। এই স্তরগুলো একটির উপর একটি একেবারে আলাদা আলাদা ভাবে থাকে। এর প্রতিটি স্তরের স্বাদ ভিন্ন।। এর স্বাদের পাশাপাশি যে বিষয়টি ভিন্ন তা হলো আপনি বাংলাদেশে মাত্র ৩ জায়গায় পাবেন এই ৭ রঙ্গয়ের চা। এর মধ্যে ২ টি জায়গাই সিলেটের শ্রীমঙ্গলে। ১ টি হলো শ্রীমঙ্গলের রামনগর আর অন্যটি হলো ১৪ রাইফেল ব্যাটালিয়ন ক্যান্টিন যা শ্রীমঙ্গলের কালীঘাটে অবস্থিত।

এই ২টির মালিক একই ব্যক্তি আর তিনি হলেন বাংলাদেশে ৭ সাত রঙয়ের চায়ের উদ্ভাবক জনাব রমেশ রাম গৌড়। তার এই দুইটি চায়ের দোকানের নামই নীলকণ্ঠ টি কেবিন। এগুলোকে অবশ্য দোকান বলা যায় না। বেশ বড় বড় জায়গার উপর গড়ে তোলা এই নীলকণ্ঠ টি কেবিনে আছে ভেতরে ও বাইরে বসার ব্যবস্থা। আর একটি তো চা বাগানের ঠিক মাঝখানে। এমন আসাধরণ একটি স্থানে বসে সাত রঙের চায়ে চুমুক দিতে দিতে আপনি হারিয়ে যেতে পারবেন এক মনোমুগ্ধকর অনুভূতির জগতে।

যেভাবে যাবেন:


ঢাকা থেকে ট্রেনে যেতে পারেন শ্রীমঙ্গল। আছে কালনি, জয়ন্তিকা, পারাবত, উপবনসহ বিভিন্ন ট্রেন আছে এই রুটে। তাই আপনার সময়মতো যেকোনোটিতে চড়ে চলে আসুন শ্রীমঙ্গল। আপনি চাইলে বাসেও আসতে পারবেন। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে রিকশায় যেতে পারবেন নীলকণ্ঠ টি কেবিন। আর ভাড়া পড়বে ১৪ রাইফেল পর্যন্ত ২০ টাকা। যদি আপনি রামনগরে চা বাগানের পরিবেশ বেছে নেন তাহলে রিকশা ভাড়া পড়বে ৪০-৫০ টাকা। নীলকণ্ঠ টি কেবিনে ৭ রং ছাড়াও নানা ধরনের চা পাওয়া যায়। প্রতি কাপ চায়ের মূল্য তাদের মূল্য তালিকায় দেওয়া থাকে। তাই এই নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য জন্য রয়েছে সব ধরনের ব্যবস্থা। গ্র্যান্ড সুলতান, লেমন গার্ডেনের মতো রিসোর্টের পাশাপাশি আছে অনেক সাধারণ মানের হোটেল।

চা ছাড়া কি চলে? যারা চা ভালোবাসেন তাদের কাছে চা ছাড়া একটি দিন যেন বিভীষিকা। আর তাই যেখানেই যান না কেন আর যে অবস্থাতেই থাকুক না কেনো চা তাদের চাই। আর এই চা-কে ঘিরেই যখন গড়ে উঠেছে চা এর রাজধানী শ্রীমঙ্গল তখন এটি তো চা প্রেমীদের তীর্থস্থান।