যে আচরণগুলো নিজের অজান্তেই আপনাকে করে তুলছে প্রতারক স্বামী বা স্ত্রী!

 যে আচরণগুলো নিজের অজান্তেই আপনাকে করে তুলছে প্রতারক স্বামী বা স্ত্রী!

 সম্পর্ক গড়ে তোলা, সম্পর্কে জড়ানো খুব একটা কঠিন কোন কাজ না হলেও, সম্পর্ককে রক্ষা করা বেশ কঠিন একটি কাজ। বিশেষ করে সেই সম্পর্কটি যদি হয় দাম্পত্যের! জীবন সঙ্গীর সাথে মিষ্টি মধুর সম্পর্কের পাশাপাশি থাকে কিছু সমস্যাও। তবে সকল কিছুর উর্দ্ধে গিয়ে, দাম্পত্যের মাঝে থাকতে হয় বিশ্বাস। একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ধরে রাখা সবচাইতে জরুরি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে। আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, দাম্পত্যের পুরোটা সময়ে জীবনসঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন কিনা, তবে উত্তর কী হবে? কিছুটা সময় নিয়ে ভেবে উত্তর দিন তো!


দাম্পত্য তো বটেই, যে কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রেই বিশ্বস্ততা নষ্ট হয়ে গেলে চোখের পলকে নষ্ট হয়ে যায় সম্পর্ক। হয়তো আপনি নিজের অজান্তেই এমন কিছু কাজ ও আচরণ করে ফেলছেন যা আপনাকে করে তুলছে অবিশ্বস্ত একজন মানুষ! জানেন, কী সেই সকল কাজগুলো?

ফ্লার্টিং


অফিসের কোন সহকর্মীর সাথে কিছুটা ভিন্ন আচরণ প্রকাশ করার অভ্যাস অনেকের মাঝেই থাকে। সহকর্মীর সাথে কিছুটা অন্যভাবে কথা বলা অথবা মজা করার ছলে কথা বলার ব্যাপারটি আপাত দৃষ্টিতে একেবারেই সাধারণ মনে হলেও সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটি ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ। ফ্লার্টিংকে আপনি কোন বিভাগের মাঝে ফেলবেন? খুব সহজভাবে কিছু কথা বলা যাক। দুইজন মানুষের প্রকৃত সম্পর্কের চাইতেও যখন বেশী ঘনিষ্টতা প্রকাশ পায় তাদের কথাবার্তা, আচরণ ও অঙ্গভঙ্গির মাঝে তখন তাকে ফ্লার্টিং বলা হয়ে থাকে। যা অন্যান্য সকলের কাছে দৃষ্টিকটু। অঙ্গভঙ্গির মাঝে রয়েছে চোখের ইশারা, হাত বিচিত্র ভঙ্গিতে নাড়া ইত্যাদি। যা অনেক ক্ষেত্রেই যৌনতার আবেদন প্রকাশ করে থাকে।

কোন বিবাহিত মানুষের কখনোই উচিৎ হবে না, জীবনসঙ্গী ব্যতীত অন্য যে কারোর সাথে এমন ধরণের আচরণ করা। এই অভ্যাস ও আচরণ সরাসরিভাবে একজনকে অবিশ্বস্ত করে তোলে। তার চাইতেও ভয়াবহ ব্যাপার হল, এমন ধরণের ঝুকিপূর্ণ আচরণের ফলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কের জড়িয়ে পরার মতো ব্যাপারও ঘটে থাকে। 

বিপরীত লিঙ্গের কারোর সাথে একাকী সময় কাটানো


কারোর সাথে একাকী দুপুরের খাবার খেতে যাওয়ার ব্যাপারটিকে হয়তো একেবারেই নির্দোষ একটি কাজ বলে মনে হতে পারে। তবে আপনার জীবনসঙ্গীকে ছাড়া অথবা তাকে না জানিয়ে কারোর বাসায় হুট করে চলে যাওয়া অথবা বাইরে দেখা করার ব্যাপারটি সম্পর্কের মাঝে তৈরি করে অবিশ্বস্ততা। এখানে হয়তো আপত্তি তুলতেই পারেন- 'আমরা পূর্ণবয়স্ক মানুষ। আমরা আমাদের আচরণ সম্পর্কে সচেতন এবং সংযত। অপ্রীতিকর কোন কিছু ঘটার সম্ভবনা একেবারেই নেই।' তবে এ কথাও সত্যি, যে কোন সময়ে ঘটে যেতে পারে অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তখন তার দায়ভার কে নিবেন?

অন্যের কাছে জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করা


কারোর সত্যিকারের বন্ধু হলে কোন ক্ষেত্রেই অন্যের কাছে তার সম্পর্কে নেতিবাচক কোন মন্তব্য করতে পারবেন না আপনি। ঠিক একই ব্যাপারটি ঘটবে জীবনসঙ্গীর ব্যাপারেও। বিশেষ করে, জীবনসঙ্গী এমন একজন মানুষ যার সম্পর্কে যেকোন খারাপ কিছু অথবা নেতিবাচক মন্তব্য অন্যের কাছে করা একেবারেই উচিৎ নয়। সম্পর্কের মাঝে ভালো ও খারাপ দিক উভয়ই থাকবে। সেটা ঠিক করে নিতে হবে দু’জনে মিলে। কিন্তু বাইরের কারোর কাছে নিজের জীবনসঙ্গী সম্পর্কে অপ্রীতিকর কোন মন্তব্য করা কখনোই কাম্য নয়। দিনশেষে সে আপনার জীবনসঙ্গী এবং তার সাথে আপনি নিজেও জড়িত। বিব্রতকর এই অভ্যাসটি খুব দ্রুত আপনাকে অবিশ্বস্ত করে তোলে জীবনসঙ্গীর নিকট। 

ইন্টারনেটে বিপরীত লিঙ্গের কারোর সাথে অনবরত চ্যাট করা


ইন্টারনেটের বিভিন্ন সোশ্যাল সাইটের কল্যানে সকলের সাথে যোগাযোগ রাখার ব্যাপারটি এখন খুব সাধারণ হয়ে গিয়েছে। তবে একবার ভাবুন তো বিবাহিত হবার পরেও কোন সোশ্যাল সাইটে বিপরীত লিঙ্গের কারোর সাথে প্রতিদিন ও প্রতিনিয়ত কথা বলার অভ্যাসটা কি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য? দাম্পত্যে জীবনসঙ্গী হলো সবচাইতে কাছের মানুষ। যার সাথে দিনের পর দিন কথা বলা যায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব অথবা পরিচিত কারোর সাথেই কিন্তু প্রতিদিন ইন্টারনেটে চ্যাট করা হয় না এবং হয়ে ওঠেও না। যোগাযোগ রক্ষার জন্য হলেও, তার প্রয়োজন পরে না। কিন্তু কারণ অথবা অকারণে প্রতিদিন বিপরীত লিঙ্গের কারোর সাথে চ্যাট করার অভ্যাসটি কিন্তু খুব একটা স্বাভাবিক এবং গ্রহনযোগ্য কোন আচরণ নয় একেবারেই।

জীবনসঙ্গী ব্যতীত অন্যদের আকর্ষন করার উদ্দেশ্যে পোশাক পরা


জীবনসঙ্গীর জন্য অথবা জীবনসঙ্গীকে আকর্ষিত করার উদ্দেশ্যে আকর্ষণিয়ভাবে পোশাক পরার ব্যাপারটি খুব সাধারণ একটি ব্যাপার। তবে আকর্ষণীয়ভাবে পোশাক পরার উদ্দেশ্য যদি থাকে অন্য কাউকে নিজের প্রতি আকর্ষিত করা- সেক্ষেত্রে নিজেকে পুনরায় প্রশ্ন করা উচিৎ! কারণটা খুবই সহজ। বিবাহিত জীবনে প্রিয় মানুষটার কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা থাকবে। এক্ষেত্রে বিপরীত লিঙ্গের কাউকে আকর্ষন করার কোন উদ্দেশ্য ও আকাঙ্ক্ষা থাকার প্রশ্ন একেবারেই থাকে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, শুধুমাত্র জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে প্রশংসা সূচক বাক্য শোনার মধ্যেই থাকে অনেকখানি মানসিক পরিতৃপ্তি। এক্ষেত্রে অন্য কোন ব্যক্তির কথা মাথায় একেবারেই আসার কথা নয়!

অন্য কাউকে ব্যক্তিগত নোটস অথবা চিঠি লেখা


কাউকে চিঠি লেখার অভ্যাস অবশ্যই দোষের কিছু নয়। শুভেচ্ছা জানিয়ে, উপহার স্বরূপ অথবা সমবেদনা জানিয়ে যে কাউকে চিঠি লেখা স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। কিন্তু এই স্বাভাবিক ব্যাপারটি অস্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায় যখন কেউ জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে লুকিয়ে অন্য কাউকে চিঠি লেখেন। দাম্পত্যের মাঝে দুইজন মানুষের মাঝে কোন লুকোছাপা রাখা উচিৎ নয় মোটেও। সামান্য একটা চিঠি তবে জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে লুকিয়ে লেখা লাগবে কেন? যদি লুকিয়ে লেখার প্রয়োজন পড়ে, তবে বুঝতে হবে তার পেছনে রয়েছে কোন অস্বচ্ছতা। আর কে না জানে, সম্পর্কের মাঝে অস্বচ্ছতাই তৈরি করে অবিশ্বস্ততা!

সম্পর্ক গড়ে তোলা, সম্পর্কে জড়ানো খুব একটা কঠিন কোন কাজ না হলেও, সম্পর্ককে রক্ষা করা বেশ কঠিন একটি কাজ। বিশেষ করে সেই সম্পর্কটি যদি হয় দাম্পত্যের! জীবন সঙ্গীর সাথে মিষ্টি মধুর সম্পর্কের পাশাপাশি থাকে কিছু সমস্যাও। তবে সকল কিছুর উর্দ্ধে গিয়ে, দাম্পত্যের মাঝে থাকতে হয় বিশ্বাস। একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ধরে রাখা সবচাইতে জরুরি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে। আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, দাম্পত্যের পুরোটা সময়ে জীবনসঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন কিনা, তবে উত্তর কী হবে? কিছুটা সময় নিয়ে ভেবে উত্তর দিন তো!