নিজের ঠোঁট যখন রং-তুলির ক্যানভাস!

মাত্র ২৫ বছর বয়সে জ্যাজমিনা ড্যানিয়েল এর ব্রেইন টিউমার ধরা পরে। যার ফলে তাকে পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয় তাৎক্ষণিকভাবে। আমেরিকার লস এঞ্জেলেসে বসবাসরত অস্ট্রেলিয়ান জ্যাজমিনা সারাদিন বাসাতে বসে থেকে খুব বিরক্ত বোধ করতেন। সময় যেন তার একেবারেই কাটতে চাইত না। নিজের অসুখের ব্যাপার, বিরক্তিবোধ, একাকীত্বকে কাটানোর জন্য তিনি ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠলেন। তবে রং-তুলি দিয়ে মনের ইচ্ছেমত ছবিকে ফুটিয়ে তোলার জন্য কাগজ নয়, বেছে নিলেন নিজের ঠোঁটকে! জ্বি, শুধুমাত্র নিজের ঠোঁটের উপরেই মেকআপ ও অন্যান্য রং ব্যবহার করে দারুণ সকল ছবি আঁকেন জ্যাজমিনা। সম্প্রতি তাঁর আঁকা ‘প্র্যেগ্নেন্ট বিয়ন্সে’ -এর আঁকা ছবিটা দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।



জ্যাজমিনা বলেন, "২০০৬ সালে আমার ব্রেইন টিউমার ধরা পড়ে। যার ফলে আমাকে স্কুল থেকে চলে আসতে হয়। এরপর আমাকে দিনের বেশীরভাগ সময় ঘরের মাঝে বন্দী সময় কাটাতে হত। তখন আমি আনন্দে থাকার জন্যে ছবি আঁকার প্রতি মনযোগী হয়ে উঠি। প্রথম দিকে ছবি আঁকার জন্য ক্যানভাস হিসেবে আমি আমার চেহারা বেছে নেই। সেখান থেকেই আগ্রহী হয়ে বেশ কিছু মেকআপের কোর্স করে ফেলি আমি। এরপর থেকে আমি একজন মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করা শুরু করি। তবে এর কিছুদিন পরেই আমি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং আমার ব্রেইন টিউমার অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকেই আমি আঁকাআঁকি শুরু করি আমার ঠোঁটে। নিজের ঠোঁটের উপরে আঁকার ব্যাপারটি আমাকে দারুণ আনন্দ দেয়। এর ফলে আমি অনেক বেশী প্রশান্তি অনুভব করি এবং আমার মানসিক চাপ একদম কমে যায়।"


ঠোঁটে আঁকাআকির ক্ষেত্রে জ্যাজমিনা কখনোই খুব সাধারণ কোন দৃশ্যপট বেছে নেননি। যত বেশী জটিল ও কঠিন দৃশ্যপট বা ছবি, তত বেশী আগ্রহী তিনি! তার প্রিয় সিনেমার চরিত্র বাদ যায়নি মোটেও। এক্ষেত্রে জ্যাজমিনা বলেন, "মাঝে মাঝে আমি হতাশ হয়ে পড়ি যখন আমার পছন্দমতো ছবি ঠোঁটে আঁকতে পারি না। কন্তু আমি পছন্দসই কোন আইডিয়া ফেলে দেই না। সেটা পূরণ করার জন্য বারংবার চেষ্টা করেই যেতে থাকি। আমার ধারণা প্রতিটি আর্টিষ্ট এমনই হয়ে থাকেন। তারা নিজেদের পছন্দমতো নিখুঁত ডিজাউন না পাওয়া পর্যন্ত সেই কাজটি নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন।"


জ্যাজমিনা আরো জানান, তার আঁকা প্রতিটি ছবি নিজের কাছে অনেক বেশী স্পেশাল। কারণ প্রতিটি ছবি আনন্দ ও ভালোবাসার প্রতীক তার কাছে। প্রতিটি ছবি আঁকার সময়েই তিনি খুব উপভোগ করেছেন এবং অনেক আনন্দ নিয়ে নিজের ঠোঁটে ছবি একেছেন যত্ন করে। জ্যাজমিনার ইন্টাগ্রাম আইডি ঘুরে দেখা গেলো তার রয়েছে অনেক বড় অংকের ফলোয়ার। তার ফলোয়ার সংখ্যা বর্তমানে ১.২ মিলিয়ন, অর্থাৎ বারো লাখ। জ্যাজমিনার ইন্সটা আইডি ঘুরে তার নিজের ঠোঁটে আঁকা বেশ কিছু দারুণ ছবি দেখা গেলো। তেমনই দারুণ কিছু ছবি এখানেও তুলে ধরা হলো।

ঠোঁটের মাঝে টাইটানিকের বিষাদের ছায়া।

 

ভয়ঙ্কর হাঙ্গর অথবা নিমো সবাই যখন জ্যাজমিনার ঠোঁটে।

 

বিয়ন্সে থেকে মেরিলিন মনরো, কাউকেই ভোলেনি জ্যাজমিনা। 
 
আপ সিনেমার কথা মনে আছে? বেলুনসহ বাড়ি উড়ে যাবার ঘটনাটা? 

 

মাত্র ২৫ বছর বয়সে জ্যাজমিনা ড্যানিয়েল এর ব্রেইন টিউমার ধরা পরে। যার ফলে তাকে পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয় তাৎক্ষণিকভাবে। আমেরিকার লস এঞ্জেলেসে বসবাসরত অস্ট্রেলিয়ান জ্যাজমিনা সারাদিন বাসাতে বসে থেকে খুব বিরক্ত বোধ করতেন। সময় যেন তার একেবারেই কাটতে চাইত না। নিজের অসুখের ব্যাপার, বিরক্তিবোধ, একাকীত্বকে কাটানোর জন্য তিনি ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠলেন। তবে রং-তুলি দিয়ে মনের ইচ্ছেমত ছবিকে ফুটিয়ে তোলার জন্য কাগজ নয়, বেছে নিলেন নিজের ঠোঁটকে! জ্বি, শুধুমাত্র নিজের ঠোঁটের উপরেই মেকআপ ও অন্যান্য রং ব্যবহার করে দারুণ সকল ছবি আঁকেন জ্যাজমিনা। সম্প্রতি তাঁর আঁকা ‘প্র্যেগ্নেন্ট বিয়ন্সে’ -এর আঁকা ছবিটা দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।