দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছাই থেকে উঠে আসা এই সুন্দরীকে চেনেন কি?

 

 অভিনয় জগতে অড্রে হেপবার্নের নাম জানেন না, এমন কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। ১৯৯৩ সালে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে ক্যান্সারের কাছে হার মানেন তিনি। কিন্তু এই সময়ের মাঝেই তিনি এত বিচিত্র এক জীবন যাপন করে গেছেন, যা মনে হতে পারে রূপকথার মত।


আইকনিক অড্রে হেপবার্ন ছিলেন বিশ্বখ্যাত ডিজাইনার জিভনশে (Givenchy) এর মূল অনুপ্রেরণা। ইউনিসেফের জন্য কাজ করতে অভিনয় জগত থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তার ব্যাপারে এমন ছোট ছোট তথ্য অনেকেই জানেন বটে। কিন্তু তার জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটে, যা জানেন না অনেকেই।

১) তার পিতামাতা ছিলেন নাৎসি সমর্থক

অড্রে হেপবার্নের অনেক ভক্ত জানেন, তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে নাৎসিদের বিরুদ্ধে গোপনে কাজ করেছেন। কিন্তু তার পিতামাতা কিন্তু প্রথমে নাৎসি সমর্থক ছিলেন। অড্রে হেপবার্নকে নিয়ে তার মা হল্যান্ডে চলে আসেন কারণ সে সময়ে হল্যান্ড ছিল নিরপেক্ষ। তিনি ভেবেছিলেন যুদ্ধের উত্তাপ এতদুরে পৌঁছাবে না। কিন্তু সেখানেও ঘাঁটি গেড়ে বসে জার্মানরা।

কম বয়স থেকেই নাৎসিদের বিপক্ষে কাজ করেন হেপবার্ন। শিশু-কিশোরদেরকে রাস্তায় দেখলে তেমন কিছু বলত না নাৎসিরা। এ কারণে লুকিয়ে লুকিয়ে মোজার ভেতরে করে গোপন তথ্য চলাচলের কাজ করতেন তিনি।

                                                    তরুণী হেপবার্ন। 
 
শুধু তাই নয়, হেপবার্ন এ সময়ে ব্যালে নাচ করতেন এবং তা থেকে পাওয়া অর্থ দান করতেন নাৎসিদের বিপক্ষে থাকা রেজিস্টেন্সের কল্যাণে। তার দর্শকরা নাৎসিদের ভয়ে হাততালি পর্যন্ত দিতে পারতো না। সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ অবস্থায় নাচতেন হেপবার্ন।

এ সময়ে প্রচন্ড খাদ্যের অভাব ছিল। অপুষ্টিতে ভুগে ভুগে একটা সময়ে তিনি জানতে পারেন, তিনি আর ব্যালে নাচ করতে পারবেন না শারীরিক অসুস্থতার কারণে। তার যে ছিপছিপে শরীরের জন্য তিনি বিখ্যাত, তা ছিল এই অপুষ্টির ফল।

হেপবার্নের গোপন পরকীয়া

‘সাবরিনা’ সিনেমাটির মাধ্যমে অনেক ভক্তের হৃদয়ে ঠাঁই করে নেন হেপবার্ন। কিন্তু সহ-অভিনেতা উইলিয়াম হোল্ডেনের  সাথে তার সম্পর্কের ব্যাপারটা বেশ গোপন। হোল্ডেন নারীঘটিত ব্যাপারে বেশ কুখ্যাত ছিলেন। তার স্ত্রী আর্ডিস জানতেন যে তিনি অন্য নারীদের সাথে জড়িত, কিন্তু সাধারণত এসব সম্পর্কের ব্যাপারে তিনি তেমন চিন্তিত ছিলেন না। 

                                        হামফ্রে বোগার্ট এবং উইলিয়াম হোল্ডেনের সাথে হেপবার্ন।
 
তবে শিক্ষিত, রূপবতী হেপবার্নকে দেখেই আর্ডিস বুঝে ফেলেন, তার এবং তার স্বামীর সম্পর্কে ফাটল ধরল বলে। উইলিয়াম হোল্ডেন নিজের স্ত্রীকে ফেলে অড্রে হেপবার্নকে বিয়ে করতেও রাজি ছিলেন। এই পথে বাধ সাধে একটিমাত্র ব্যাপার। হেপবার্নের সন্তানের খুবই শখ ছিল। কিন্তু উইলিয়াম হোল্ডেন জানান, তিনি একটি ভ্যাসেকটমি করিয়েছিলেন কিছু বছর আগে, ফলে তিনি কোন সন্তানের পিতা হতে অক্ষম। এ ব্যাপারে জানার সাথে সাথেই হেপবার্ন তার সাথে সম্পর্ক ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে মেল ফেরারকে বিয়ে করেন তিনি।

মেরিলিন মনরো এবং অড্রে হেপবার্ন দুজনেরই প্রেমিক ছিলেন এক ব্যক্তি

মেরিলিন মনরো এবং অড্রে হেপবার্ন দুজনেই বিখ্যাত ছিলেন, কিন্তু দুজনের ইমেজ ছিল একেবারেই আলাদা। যেখানে মনরো ছিলেন সেক্স সিম্বল, সেখানে হেপবার্ন ছিলেন অভিজাত এবং লাবণ্যময়ী। তবে দুজনের মাঝেই একটা ব্যাপারে মিল ছিল। জন এফ কেনেডির সাথে প্রেম করেছিলেন দুজনেই। কেনেডি যখন অবিবাহিত ছিলেন তখন তার প্রেমিকা ছিলেন অড্রে হেপবার্ন। কিন্তু তাদের এই প্রেম মোটেই মেরিলিন মনরোর সাথে কেনেডির প্রেমের মত বিতর্কিত ছিল না। 

                                    স্বামী মেল ফেরার এবং সন্তান শনের সাথে হেপবার্ন।
 
অড্রে হেপবার্নের EGOT সম্মাননা

EGOT বলতে এমন সব ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যারা এমি,গ্র্যামি, অস্কার এবং টোনি- এই চারটি সম্মাননাই পেয়েছেন। পৃথিবীতে মাত্র ১৪ জন মানুষ এই কাজটি করতে পেরেছেন এবং তার মাঝে একজন হলেন অড্রে হেপবার্ন।

অড্রে হেপবার্নের নামে ফুল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে খাবারে অভাবে অনেক সময়েই পানি পান করে এবং টিউলিপের মূল খেয়ে পেট ভরাতে হত হেপবার্নকে। পরবর্তীতে একটি টিউলিপের নাম রাখা হয় তার নামে। ১৯৯০ সালে টিউলিপের নতুন একটি হাইব্রিড প্রজাতির নাম রাখা হয় অড্রে হেপবার্ন। মূলত তার ক্যারিয়ার এবং ইউনিসেফের জন্য তার কাজের সম্মাননা হিসেবে তা করা হয়েছিল।

অভিনয় জগতে অড্রে হেপবার্নের নাম জানেন না, এমন কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। ১৯৯৩ সালে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে ক্যান্সারের কাছে হার মানেন তিনি। কিন্তু এই সময়ের মাঝেই তিনি এত বিচিত্র এক জীবন যাপন করে গেছেন, যা মনে হতে পারে রূপকথার মত।