‘মুরুব্বির দরকার ছিল, এখন তা পেয়ে গেছি’

‘মুরুব্বির দরকার ছিল, এখন তা পেয়ে গেছি’ 

দেশে 'মুরুব্বি' বলে একটি শব্দ প্রচলিত রয়েছে। অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ ব্যক্তিরাই পড়ে থাকেন মুরব্বিদের কাতারে। কেউ কোনো সমস্যায় পড়লে তারা সমাধান সহজেই করে দিতে পারেন। দেশের প্রাইভেট সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে মোস্তাফা জব্বার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তারা এমনই একজন মুরুব্বি পেয়েছে।


প্রাইভেট সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতি নির্ধারকরা বলছেন, বেসিস সভাপতির পদে থাকা অবস্থায় ছায়ার মতো দেশের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপদে আপদে এগিয়ে আসতেন মোস্তাফা জব্বার। প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি-দাওয়া নিয়ে তিনি যেতেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে। এখন তিনি নিজেই দায়িত্বে। ফলে তার হাত ধরে আরো সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে দেশের প্রাইভেট সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো।

সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ডাটা এজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফুজ্জামান বলেন, ‘আইটি খাত থেকে একজন মন্ত্রী হলেন তা অবশ্যই আশাব্যঞ্জক বিষয়। আমরা অনেক ফোরামে অংশ নিয়ে অনেক কিছু বলার চেষ্টা করি। তবে সেগুলোর কাজ হতে খুব একটি দেখিনি আগে। তিনি যেহুতু একজন মন্ত্রী হয়েছেন, তিনি যদি আইসিটি পলিসির দিকে একটু নজর দেন, তবে আমাদের একটু উপকারই হবে। পলিসি লেভেলে কাজ করলে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে।’

ব্রাইট টেকনোলজিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ রোকন বলেন, ‘জব্বার ভাইয়ের মন্ত্রীত্ব পাওয়াতে আমরা অনেক খুশি। প্রযুক্তি খাতে বাইরের বিদেশের ওপর থেকে আমাদের নির্ভরতা কমাতে চাই। এতে আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।’

ম্যাগনিটো ডিজিটাল লিমিটেডের সিইও রিয়াদ এসএ হুসেইন বলেন, ‘জব্বার ভাই মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি আমি অনেক ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। তিনি বেসিসের সভাপতি ছিলেন, ফলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে তার ভালো ধারণা রয়েছে। এছাড়া আইসিটি নিয়ে তার ধারণা থাকায় আমাদের জন্য এই বিষয়টি পজিটিভ।’

‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রির ইম্প্রুভমেন্ট অনেক হয়েছে। আমাদের ইন্টারনেট প্রয়োজন। এর মধ্যে ইন্টারনেটের স্পিড, কাভারেজ ও মূল্যের দিকে লক্ষ্য রাখলে আমাদের আরো সুবিধা হবে। এছাড়া আমাদের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু লিমিটেশন রয়েছে, সেগুলোর যদি ইম্প্রুভমেন্ট নিয়ে আনতে পারেন তিনি তবে আমরা আরো এগিয়ে যাবো,’ বলেন রিয়াদ। 

ক্রিস্টাল টেকনোলজি লিমিটেডের সিওও আমামুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিজয় আমাদের বিজয়। মোস্তাফা জব্বার ভাইকে আগের মতো এখনো কাছে পেতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘লোকাল সফটওয়্যারের প্রতি বেশি নজর দেয়া তার দাবি ছিল। আমারা হসপিটিলাটি সফটওয়্যার নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে কাজ করছি। তবে ২০১৩ এর পরে আমরা সরকারের কাছ থেকে কোনো টেন্ডার পাই নাই। আমাদের মতো যারা সফটওয়্যার ডেভলপ করে বসে আছি তারা এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। আমরা চাই দেশীয় প্রযুক্তিতে আমাদের অংশ নেয়ার দরজা খুলে দেয়া হোক।’

আমামুল ইসলামের প্রত্যাশা, ‘আগে তিনি (মোস্তাফা জব্বার) লোকাল মার্কেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সিনিয়রদের কাছে ফরওয়ার্ড করে দিতেন। এখন তার আর ফরওয়ার্ড করার প্রয়োজন নেই। তিনি নিজেই এখন ডিসিশন মেকার। আমরা এখন নিজেদের গার্ডিয়ান পেয়েছি নিজেদের কথা বলার জন্য। আশা করি তিনি লোকাল সফটওয়্যারের প্রতি আগের মতো নজর রাখবেন।’

বিজেআইটি লিমিটেডের সিওও মেহেদি মাসুদ বলেন, ‘আমরা এই সংবাদে অনেক এক্সসাইটেড। এটি আমাদের কাছে খুব খুশির সংবাদ। আমাদের মতে তাকে সিলেকশন করা বর্তমান সরকারের রাইট সিলেকশন।’

মেহেদির চাওয়া, ‘তিনি (মোস্তাফা জব্বার) বেসিসের সভাপতি থাকা অবস্থায় আমাদের মতো সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন। তিনি আমাদের অনেক চাওয়া নিয়ে কথা বলতেন। আমাদের চাওয়া নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। আমরা আশা করছি আমাদের দেশের সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি দাওয়াগুলো তিনি সমাধান করবেন।’

‘প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে সরকারের সেতুবন্ধন তিনি গতিশীল করতে পারবেন। আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের যে পরিকল্পনা এর জন্য একজন মুরুব্বির দরকার ছিল। মোস্তাফা জব্বার আসার পর আমরা এখন তা পেয়ে গেছি,’ বলেন মেহেদি মাসুদ। 

দেশে 'মুরুব্বি' বলে একটি শব্দ প্রচলিত রয়েছে। অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ ব্যক্তিরাই পড়ে থাকেন মুরব্বিদের কাতারে। কেউ কোনো সমস্যায় পড়লে তারা সমাধান সহজেই করে দিতে পারেন। দেশের প্রাইভেট সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে মোস্তাফা জব্বার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তারা এমনই একজন মুরুব্বি পেয়েছে।