দেউলিয়া থেকে ১০ কোটির মালিক!

দেউলিয়া থেকে ১০ কোটির মালিক! 

উদ্যোক্তা হবার সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব একটা সহজ নয়। কারণ এতে লাভবান হবার সম্ভবনার চাইতেই নিঃস্ব হবার ঝুঁকি থাকে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। উদ্যোক্তা হতে গিয়ে সর্বস্ব হারাতে হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তবে সব কিছু হারিয়ে একেবারেই শূণ্য থেকে শিখরে উঠতে পারেন খুব কম সংখ্যক মানুষ। এই কম সংখ্যক মানুষের মাঝে একজন হলেন দীপ্তি আওয়াস্থি শর্মা।


দীপ্তির জন্ম দিল্লিতে। নদীয়ার অ্যামিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে পড়ালেখা করেছেন তিনি। এরপর সিএ পড়ার মাঝে হুট করেই বাদ দিয়ে দেন পড়াশোনা। বাদ দেওয়ার পূর্বে দুই বছর ধরে আর্নেষ্ট এবং ইয়ংয়ের কাছে প্রশিক্ষণ লাভ করেছিলেন তিনি।

বর্তমানে তিনি একজন সফল হোর্ডিং ব্যবসায়ী। ‘গোহোর্ডিং’ নামে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। অতীতে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসাতে যিনি ভয়াবহ লোকসানের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

দীপ্তি বলেন, 'গোহোর্ডিং খোলার আগে আমি একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম চালাতাম। সহকর্মীদের সঙ্গে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় মাত্র চার মাসের মাথাতেই বন্ধ হয়ে যায় সেটা। যার ফলে আমি একেবারে দেউলিয়া হয়ে যাই এবং আমার প্রায় ৪০ লাখ টাকা লোকসান হয় এবং আমার আয় শূণ্যের নিচে নেমে আসে। একটি ইভেন্টে ভেন্ডরদের পাওনা টাকা দেওয়ার জন্যে বাবাকে তার সম্পত্তি বিক্রি করে দিতে হয়। কিন্তু সেই ইভেন্টের টিকিট একেবারেই বিক্রি হয়নি এবং ভয়াবহভাবে সেই ইভেন্টটি লোকসানের মুখোমুখি হয়। তার চেয়েও বড় কথা ইভেন্টের কোনো স্পন্সর ছিল না এবং আমার ওপরে ছিল সকল দায়িত্ব। সে সময়টা আমার জন্য খুব জঘন্য ছিল।'

এমন বাজেভাবে লোকসানের মুখোমুখি হবার পরেও দিল্লির মেয়ে দীপ্তি থেমে থাকেননি। তিনি আব্রো ঘুরে দাঁড়াবার জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করেন।

২০১৫ সালে বিয়ে করার পরের বছর ২০১৬ সালে দীপ্তি তার স্বামী বিকাশ শর্মার সঙ্গে গোহোর্ডিংয়ের ব্যবসা শুরু করেন। গোহোর্ডিং একটি আউটডোর অ্যাডভার্টাইজমেন্ট কোম্পানি। দীপ্তির চমৎকার কিছু ইচ্ছাটি পূরণ হয় তার স্বামীর সহযোগিতায়। তারা একসঙ্গে এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন যা শুধু তাদের স্বপ্নই পূরণ করবে না, তাদের আত্মাকেও তুষ্ট করতে সাহায্য করবে।

দীপ্তি বলেন, ‘ব্যবসায়িক সফলতার জন্য কর্মঠ সদস্য প্রয়োজন। আমি ভাগ্যবতী সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আমার স্বামীকে পেয়েছি। তিনি সবসময় আমাকে অনুপ্রাণিত করেন। আমাদের ব্যবসায়িক সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো সন্তুষ্টি। আউটডোর অ্যাডভার্টাইজমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে নিয়মানুবর্তী এবং ভালো কাজ উপস্থাপন করতে হয়।‘

বর্তমানে তিনি নিজের ওয়েবসাইটে Integrating AR (Augmented Reality) এবং VR (Virtual Reality) সেবা নিয়ে আসার জন্য কাজ করছেন। এই টেকনোলোজির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আউটডোর ক্যাম্পেইন তৈরিতে তুলনামূলক কম সমস্যার মুখোমুখি হবেন।

এক সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- 'কী তাকে অনুপ্রাণিত করে?' উত্তরে তিনি মিষ্টি হেসে বলেছিলেন, 'আমার অনুপ্রেরণা হলো- আমি নিজেকে আরও উন্নত একজন মানুষ হিসেবে দেখতে চাই। প্রতিটি ঘটনাকেই আমি ইতিবাচকভাবে দেখার চেষ্টা করি এবং সেভাবেই আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে চেষ্টা করি। ব্যবসার শুরুতে আমাদের কোনো টাকা ছিল না। তবে ভাগ্যক্রমে একটি বড় ধরনের চুক্তি পেয়ে যাই। বলতে পারেন, কঠিন পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস হলো আমার সফলতার প্রধান অস্ত্র।'

কর্মচারী নির্ধারণ ও নিয়োগের ক্ষেত্রে দীপ্তি কর্মদ্যোম মানুষকে বেছে নিতে পছন্দ করেন কিন্তু অতিরিক্ত কর্মচারী নিয়োগ দিতে চান না। বর্তমানে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে মাত্র ১০ জন কর্মী রয়েছে। অথচ বিগত এক বছরের মাঝে তার বাৎসরিক আয় ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে!

সফলতার ক্ষেত্রে দীপ্তির মূলমন্ত্র হলো- 'কখনোই হাল ছাড়া যাবে না।' তার দৃঢ় বিশ্বাস, এমন ইতিবাচক মনোভাব মনের মাঝে ধারণ করলে এবং পরিশ্রমী হলে সকল বাধা পার হয়ে সফলতা অর্জন করা যাবে। তিনি বলেন, 'লক্ষ্য সবসময় উপরের দিকে রাখতে হবে, সেটা অর্জন হয়ে গেলে আরও উপরের দিকে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। স্বপ্ন দেখতে হবে অনেক বড়।'

উদ্যোক্তা হবার সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব একটা সহজ নয়। কারণ এতে লাভবান হবার সম্ভবনার চাইতেই নিঃস্ব হবার ঝুঁকি থাকে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। উদ্যোক্তা হতে গিয়ে সর্বস্ব হারাতে হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তবে সব কিছু হারিয়ে একেবারেই শূণ্য থেকে শিখরে উঠতে পারেন খুব কম সংখ্যক মানুষ। এই কম সংখ্যক মানুষের মাঝে একজন হলেন দীপ্তি আওয়াস্থি শর্মা।