তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আগামী দিনে আরও যা আসছে

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আগামী দিনে আরও যা আসছে 

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত আগামী দিনে আরও উজ্জ্বল ও চমকপ্রদ হবে। দেশে অগ্রসর প্রযুক্তি (অ্যাডভান্সড টেকনোলজি) আসছে এবং সেই প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম জনবলও গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সফটওয়্যার ফিনিশিং স্কুল, মডার্নাইজেশন অব রুরাল অ্যান্ড আরবান লাইভস, স্মার্ট সিটি, আইটি ফরেনসিক ল্যাবের মতো প্রকল্প গ্রহণ সেই উদ্যোগেরই ফসল।


আগামী দিনের উজ্জ্বল প্রযুক্তির আগমনের ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছে গত চার বছরে নেওয়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিভিত্তিক (আইসিটি) বিভিন্ন প্রকল্প। প্রকল্পগুলোর অন্তর্ভুক্তি, আলোচনা ও প্রায়োগিক কৌশলের কারণে গত চার বছর সময়কে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য সফল সময় বলে দাবি করেছে আইসিটি বিভাগ।

আইসিটি বিভাগের দাবি, গত চার বছরে সাফল্য ও অগ্রগতির তালিকায় যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ঘটনা। এর মধ্যে রয়েছে— ১২ ডিসেম্বরকে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) দিবস হিসেবে ঘোষণা, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে (২০১৭) মানবিক রোবট সোফিয়াকে এনে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিভিত্তিক উন্নয়ন সম্পর্কে দেশের মানুষকে পরিচিত করা, এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়ান্স অ্যাওয়ার্ড (এপিআইসিটি)-২০১৭ আয়োজন, জাতীয়ভাবে জরুরি সেবা দিতে ৩৩ লাখ ফোনকলের বিশ্লেষণ করে ‘৯৯৯’ চালু, পেপ্যাল-জুম সেবা চালু, ডিজিটাল মিডিয়ায় বাংলার ব্যবহারকে সমৃদ্ধ করার প্রকল্প, অ্যাপ ও গেম ডেভেলপারদের জন্য গুগল মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট চালু হওয়া।

এছাড়া, ৯৪টি আইসিটি পণ্য আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার, আইসিটি পণ্য রফতানিতে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা, হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ ঘোষণা, প্রতিবন্ধী ও শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য চাকরি মেলার আয়োজন করে যোগ্যদের চাকরির সুযোগ করে দেওয়া, দেশের ৬৪ জেলার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্পের আয়োজন করে তরুণ শিক্ষার্থীদের আইসিটিতে ক্যারিয়ার গড়ে তোলায় উদ্বুদ্ধ করার প্রকল্প ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রফেশনাল আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৩ হাজার তরুণের মধ্যে ১২ হাজার ৭৬৮ জনের অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে ১৫ লাখ ৭২ হাজার ৫৮২ মার্কিন ডলার আয়ের ঘটনাটিও একটি বড় সাফল্য।

জানা গেছে, ভবিষ্যতের জন্য আইসিটি বিভাগ আরও বেশকিছু উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— টেকসই উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম তৈরি, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উদ্যোগ উন্নয়ন, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও সংযোগকরণ, তরুণ উদ্ভাবকদের সক্ষমতা বাড়ানো, ভালো ধারণাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর পরিচর্যা ও উন্নয়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি এবং উদ্ভাবনী সামগ্রীর বাণিজ্যিকীকরণ ও ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউর একাডেমি (আইডিয়া) প্রতিষ্ঠা।

অন্যদিকে, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তুলতে দেশে ২৮টি হাই-টেক বা আইটি পার্ক নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পার্কগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২৮ লাখ ৭২ হাজার বর্গফুট ফ্লোর স্পেস বরাদ্দ প্রদান করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

এছাড়াও আসছে টেকনোলজি ল্যাব অ্যান্ড সফটওয়্যার ফিনিশিং স্কুল, মডার্নাইজেশন অব রুরাল অ্যান্ড আরবান লাইভস, স্মার্ট সিটি প্রকল্প, ইন্টিগ্রেটেড ই-গভর্মেন্ট প্রকল্প, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিএলএসআই ল্যাব, জাতীয় নিরাপত্তা কেন্দ্র ও ফরেনসিক ল্যাব, আইটি পার্ক ফর এমপ্লয়মেন্ট প্রজেক্ট, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একাডেমি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইসিটি সেন্টার, জাতীয় সার্টিফিকেশন পদ্ধতি, জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি এবং ভার্চুয়াল ইউনিভার্সিটি অব মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ইনোভেশন প্রকল্প ও উদ্যোগ।

আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে দারিদ্র্যমুক্ত এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে এ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা, ই-সেবা ও সরকারের অভ্যন্তরীণ তথ্যপ্রবাহে ইলেকট্রনিক পদ্ধতি প্রবর্তনের উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে আইসিটি বিভাগসহ এর অধীন সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প/কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

জুনাইদ আহমেদ পলক  বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এভাবেই বাংলাদেশ শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতিতে উত্তরণে নতুন মাইলফলক অতিক্রম করবে এবং বাংলাদেশ ঘোষিত সময়ের আগেই উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে।’

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত আগামী দিনে আরও উজ্জ্বল ও চমকপ্রদ হবে। দেশে অগ্রসর প্রযুক্তি (অ্যাডভান্সড টেকনোলজি) আসছে এবং সেই প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম জনবলও গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সফটওয়্যার ফিনিশিং স্কুল, মডার্নাইজেশন অব রুরাল অ্যান্ড আরবান লাইভস, স্মার্ট সিটি, আইটি ফরেনসিক ল্যাবের মতো প্রকল্প গ্রহণ সেই উদ্যোগেরই ফসল।