সত্যিকারের ভালোবাসায় পুরুষের ১৩টি বিশেষ আচরণ

সত্যিকারের ভালোবাসায় পুরুষের ১৩টি বিশেষ আচরণ 

নারীদের মনে সবচাইতে বেশি প্রশ্ন তার ভালোবাসার পুরুষটিকে নিয়েই থাকে। ‘সে কি আমাকে সত্যি ভালোবাসে? নাকি পুরোটাই বানোয়াট?'- এই প্রশ্নগুলো নারীর মনের মাঝে প্রতিনিয়তই বিভ্রান্তি তৈরি করে। উত্তরগুলো জানা নেই বলেই হয়তো কখনো ঠিক মানুষটিকেও দূরে ঠেলে দেওয়া হয়, কখনো আবার ভুল মানুষের প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে জীবন বরবাদ হয়ে যায় মুহূর্তে।


প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে বুঝবেন? কীভাবে জানবেন যে পছন্দের পুরুষটি আপনাকে সত্যি সত্যি ভালোবেসে ফেলেছে? আন্দাজ করার উপায় আছে বৈকি, একটু খেয়াল করলেই সম্পর্ক থেকে বুঝে নেওয়া যায় অনেক কিছু।

‘সে আমাকে ভালোবাসে, কিন্তু সময় দেয় না কেন? সে আমার পরিবারকে এড়িয়ে চলে কেন? আমার কথার দাম দেয় না কেন?'- ইত্যাদি অসংখ্য প্রশ্নের জবাব থাকছে আজকের ফিচারে।

সত্যিকার অর্থে প্রেমে পড়ে গেলে সব পুরুষই কম-বেশি এই আচরণগুলো প্রদর্শন করে থাকেন-

১) তিনি সঙ্গিনীর কথা শুনবেন এবং মন দিয়ে শুনবেন। সঙ্গিনীর ছোট-বড় সব কথাই তার কাছে জরুরি হবে, ঠিক যেভাবে তার কথাগুলো সঙ্গিনীর কাছে জরুরি। স্ত্রী বা প্রেমিকাকে যখন গভীরভাবে ভালোবাসেন পুরুষেরা, তখন সেই নারীর জীবনের সবকিছুকেই নিজের একান্ত আপন করে নেন।

২) পুরুষেরা ভুল স্বীকার করতে পছন্দ করে না মোটেই। কিন্তু ভালোবাসার নারীর সামনে তাদের এই অস্বস্তিটুকুন থাকে না। ভুল হলে তারা স্বীকার করেন, মেনে নেন এবং শুধরে নেওয়ার চেষ্টাও করে। সত্যিকার অর্থেই করেন, স্ত্রী বা প্রেমিকাকে ধোঁকা দেওয়ার মিথ্যে চেষ্টা করে নয়।

৩) ভালোবাসার নারীর জীবনের যেকোনো সমস্যা সমাধানে পুরুষরা তৎপর থাকেন, তা সে যত ছোট সমস্যাই হোক না কেন। অন্যদিকে, ভালোবাসা না থাকলে ঘটে ঠিক উল্টোটা।

৪) ভালোবাসার নারীর পরিবার বা বন্ধুদের সাথে মেলামেশায় নিজ থেকেই তারা আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সঙ্গিনীর পরিবারকে সময় দিতে তার কোনো আপত্তি থাকে না। প্রেমিক বা স্বামী আপনার পরিবারকে এড়িয়ে চলে? এই লক্ষণটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিৎ।

৫) নিজের পোশাক-আশাকের বা ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে তিনি সঙ্গিনীর পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

৬) কে বলেছেন পুরুষরা শপিং করা বা টুকিটাকি সাধারণ কাজ করায় আগ্রহ পান না? অবশ্যই পান, যদি সঙ্গিনীর প্রতি থাকে গভীর ভালোবাসা। তখন সঙ্গিনীর সাথে সাধারণ টুকিটাকি কাজকর্ম বা শপিং এর মত বিষয়গুলোও তারা উপভোগ করেন।

৭) তিনি সঙ্গিনীর কষ্ট কম করার এবং তাকে খুশি রাখার সমস্ত চেষ্টা করে থাকেন। রান্নায় সাহায্য, ঘরের কাজ করে দেওয়া ইত্যাদিতে তাদেরকে পাওয়া যায় শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও।

৮) সঙ্গিনীকে নিয়ে বেড়াতে যেতে তিনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তারিখ বা উপলক্ষ্য, কিছুই পুরুষেরা ভোলেন না যদি সঙ্গিনীর প্রতি থাকে গভীর ভালোবাসা। শত ব্যস্ততার মাঝেও সঙ্গিনীর সাথে যোগাযোগে তাদের ভুল হয় না। তারা নিজেরাই বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান করেন, এক সাথে সময় কাটাবার প্ল্যান করেন।

৯) তিনি মনে করেন ভালোবাসার মেয়েটি সুন্দর। যেকোনো ভাবে, যেকোনো সাজপোশাকে সুন্দর। যত যাই হোক না কেন, সৌন্দর্য পুরুষের চোখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১০) সত্যিকারের ভালোবাসার সম্পর্কে সমঝোতা ও ত্যাগ থাকবেই। পুরুষ যখন কোনো নারীর প্রেমে সত্যিকার অর্থেই পড়ে যান, তিনিও যেকোনো রকমের ত্যাগ স্বীকারের জন্য তৈরি থাকেন।

১১) সঙ্গিনীকে তারা দাবিয়ে রাখতে চান না। বরং সঙ্গিনীর যেকোনো অর্জনে গর্বিত বোধ করেন, আরও সামনে চলার অনুপ্রেরণা দেন। সঙ্গিনী তার চাইতে বেশি যোগ্য হলে বা অধিক উপার্জন করলেও।

১২) ভালোবাসা অর্জন ও ধরে রাখার চেষ্টা তারা সব সময়েই করেন। ভালোবাসার মেয়েটির ছোটখাট বিষয়েও তারা দুশ্চিন্তা করেন।

১৩) নিজের দুর্বলতা, কষ্ট, ত্রুটি, বিচ্যুতি প্রকাশ করতে তারা সংকোচ বোধ করেন না ভালোবাসার মেয়েটির সামনে। কতটা ভালোবাসেন, সেটা প্রকাশে তাদের বিন্দুমাত্র সংকোচ থাকে না।

ভালোবাসা শুভ্র, ভালোবাসা সুন্দর। দুজন মানুষ যখন পরস্পরকে ভালোবাসা ঠিক সমান সমান, তখনই তৈরি হয় ভালোবাসার মিষ্টি কাব্য।

নারীদের মনে সবচাইতে বেশি প্রশ্ন তার ভালোবাসার পুরুষটিকে নিয়েই থাকে। ‘সে কি আমাকে সত্যি ভালোবাসে? নাকি পুরোটাই বানোয়াট?'- এই প্রশ্নগুলো নারীর মনের মাঝে প্রতিনিয়তই বিভ্রান্তি তৈরি করে। উত্তরগুলো জানা নেই বলেই হয়তো কখনো ঠিক মানুষটিকেও দূরে ঠেলে দেওয়া হয়, কখনো আবার ভুল মানুষের প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে জীবন বরবাদ হয়ে যায় মুহূর্তে।