রোমাঞ্চপ্রিয়দের জন্য দারুণ স্পট ‘লেক ভিউ আইল্যান্ড’

 রোমাঞ্চপ্রিয়দের জন্য দারুণ স্পট ‘লেক ভিউ আইল্যান্ড’

চোখ ফেরালেই ইদানীং সুঠামদেহী মানুষের অভাববোধ ভয়ানক পীড়া দিয়ে ওঠে। তবে সুস্থ মনের মানুষের অভাব প্রকট। আমরা কি দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছি? সর্বগ্রাসী দূষণের মাত্রাতিরিক্ত সংক্রমণে মানুষের শরীর-মন ঠিক রাখা বাস্তবিকই কঠিন। শরীরের সঙ্গে মনের যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, তার সূত্র ধরেই নাগরিক সভ্যতায় আজ দিনকে দিন সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একদিকে যেমন বেড়ে চলছে মানসিক অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে অতি দ্রুত ভেঙে পড়ছে সতেজ মনে সুস্থ থাকার নূ্ন্যতম ভারসাম্যও। শহর, বন্দর, গ্রামগঞ্জ থেকে একে একে বিলীন হয়ে যাচ্ছে চোখে নিবিড় আদর বুলানো সবুজ, বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার নির্মল বাতাস, বিশুদ্ধ পানীয় জলের স্বচ্ছতা, খেলার মাঠ আর আকাশে উদারতা, সুস্থ দেহে বেঁচে থাকার অনিবার্য শর্তগুলো। এ জন্য একটু স্বস্তির নিঃশাস ফেলতে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে বা দলবেঁধে কোনো মনোরম স্পট খুঁজে বেড়ায়।


বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এয়ার কমান্ডারের তত্ত্বাবধানে ২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে যাত্রা শুরু করে ‘লেক ভিউ আইল্যান্ড’। রোমাঞ্চপ্রিয় মানুষের জন্য বিনোদনের সেরা স্পট হতে পারে লেক ভিউ আইল্যান্ড। শারীরিক নানা কসরতের সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি এখানে আছে হাইকিং, ক্যাম্পফায়ার, জেট স্কুটার, ইডিং রুফ, হ্যাংগিং টায়ার, ঝুলন্ত ব্রিজ, হ্যাংগিং চেইন, স্টিল ওয়ার বার ও চেইন পাতাটন দোলনা। শিশু ও বড়দের জন্য আছে আলাদা ব্যবস্থা।

ঝুলন্ত ব্রিজের একটি অংশ আবার কাঁচের তৈরি। স্বচ্ছ কাঁচের ওপর হাঁটতে গিয়ে অন্যরকম অনুভুতি হবে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপরীত দিকে ৪ একর পাহাড়ি জমিতে অবস্থিত লেক ভিউ আইল্যান্ড পর্যটন কেন্দ্রে আছে রাত্রিযাপনের সুযোগ। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাঁধের পাশে পাবেন তিনটি রিসোর্ট, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘হিল টপ’। এক সময় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত লেক ভিউ স্পটের পুরোনো অবোকঠামোর আধুনিকায়ন করা হয়।

লেক ভিউ আইল্যান্ডকে হলুদ ও কমলা নামে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। দুই ভাগের জন্য আলাদা টিকেটের ব্যবস্থা রয়েছে।

হলুদ এলাকায় রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট, কিডস কর্নার ও বড়শি দিয়ে মাছ ধরার ব্যবস্থা আছে। আর কমলা এলাকায় আছে অ্যাডভেঞ্চারের ব্যবস্থা। লেকের স্বচ্ছ পানির উপর ভাসছে বোট হাউস "নীলকৌড়ি"। বেত ও কাঠের কারুকাজে লোকজ নকশায় তৈরী এ বোট হাউসে রাতে পরিবার নিয়ে থাকার ব্যবস্থা আছে। রাতে নীরব লেকের ভিউ উপভোগ করার জন্য এর চেয়ে ভালো কোনো ব্যবস্থা হয় না। বোটের ছাদে শুয়ে কবি মন জেগে উঠলে অস্বাভাবিক লাগবে না।

নীলকৌড়ির ভেতরে আছে দুটি ডাবল বেড ও শীতাতপ ব্যবস্থা। বিকাল ৪টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পার্যন্ত এ বোটে থাকা যাবে। ভাড়া পড়বে ১০ হাজার টাকা। এক ঘণ্টা লেক ভ্রমণ এতে ফ্রি থাকবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ভ্রমণের জন্য প্রতি ঘণ্টায় তিন হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে। ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫০ ফুট দীর্ঘ ও ২০ ফুট প্রস্থের নীলকৌড়ির নকশা ও নির্মাণে সহযোগিতা করেন তরুণ স্থপতি আদর ইউসুফ।


জল কিন্নরী, সাম্পান ও জলকৌড়ি-তিনটি ইঞ্জিন বোটে করে লেক ভ্রমণ করতে পারবেন। এ জন্য প্রতি ঘণ্টায় প্রতি পরিবারকে ৫০০ টাকা হারে ভাড়া দিতে হবে। শিশুদের জন্য বিশেষ বিনোদনের ব্যবস্থা আছে লেক ভিউ আইল্যান্ডে। একটি মিনি পার্ক ছাড়াও হরেক রকমের খেলনা গাড়িতে খেলতে পারবে শিশুরা। নিরাপত্তার জন্য আছে সার্বক্ষণিক সিসি টিভি ব্যবস্থা। যারা সাঁতার জানেন না বা লেকে সাঁতার কাটতে পারবেন না বলে আক্ষেপ আছে, তাদের জন্য একটি মিনি সুইমিং পুল আছে এখানে। এ সুবিধা নিতে হলে জনপ্রতি ঘণ্টায় ১০০ টাকা দিতে হবে। ‘হিল টপ’ রিসোর্টে পুলটি অবস্থিত।

লেক ভিউ আইল্যান্ডের প্রবেশপথেই রয়েছে ‘নিসর্গ নীলিমা’ নামের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক রেস্তোঁরা। দাম হাতের নাগালে। চাইলে আগে থেকে রেস্তোঁরাটি বুকিং দেওয়া যাবে। লেকে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সুবিধা আছে। এর জন্য দিতে হবে সামান্য ফি। জনপ্রতি তিনটি ছিপ ফেলার সুবিধাসহ ফি পড়বে ৫০০ টাকা।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে আসতে পারবেন পর্যটকরা। তবে আগে বুকিং দিলে নিশ্চিন্তে এ স্পটগুলো ঘুরে দেখা ও থাকতে পারবেন বিনোদনপ্রেমীরা।

চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে কাপ্তাই যাওয়ার বাস রয়েছে। ভাড়া পড়বে ৬০ টাকা। ‘হিল টপ’ ও লেক ভিউ আইল্যান্ড স্পটে আছে সাতটি রিসোর্ট। হিল টপে আছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তিনটি রিসোর্ট। প্রতি রাতের জন্য রিসোর্টের ভাড়া চার হাজার টাকা।

লেক ভিউতে আছে চারটি রিসোর্ট। এর মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দুটি, প্রতিটির ভাড়া চার হাজার টাকা। অন্যগুলো ২০০০ টাকা।

লেক ভিউ আইল্যান্ডের দুটি জোনের টিকিট আসা-যাওয়ার নৌকা ভাড়াসহ ২২৫ টাকা। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, রেস্তোঁরা, রুম সার্ভিস ও ডিশ সুবিধা আছে রিসোর্টে। আগ্রহী পর্যটকরা ০১৭৬৯৩২২১৮২ নম্বরে কল করে বুকিং নিতে পারবেন। এ ছাড়া ‘লেক ভিউ আইল্যান্ড’ নামে একটি ফেসবুক পেজ আছে।

চোখ ফেরালেই ইদানীং সুঠামদেহী মানুষের অভাববোধ ভয়ানক পীড়া দিয়ে ওঠে। তবে সুস্থ মনের মানুষের অভাব প্রকট। আমরা কি দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছি? সর্বগ্রাসী দূষণের মাত্রাতিরিক্ত সংক্রমণে মানুষের শরীর-মন ঠিক রাখা বাস্তবিকই কঠিন। শরীরের সঙ্গে মনের যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, তার সূত্র ধরেই নাগরিক সভ্যতায় আজ দিনকে দিন সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একদিকে যেমন বেড়ে চলছে মানসিক অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে অতি দ্রুত ভেঙে পড়ছে সতেজ মনে সুস্থ থাকার নূ্ন্যতম ভারসাম্যও। শহর, বন্দর, গ্রামগঞ্জ থেকে একে একে বিলীন হয়ে যাচ্ছে চোখে নিবিড় আদর বুলানো সবুজ, বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার নির্মল বাতাস, বিশুদ্ধ পানীয় জলের স্বচ্ছতা, খেলার মাঠ আর আকাশে উদারতা, সুস্থ দেহে বেঁচে থাকার অনিবার্য শর্তগুলো। এ জন্য একটু স্বস্তির নিঃশাস ফেলতে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে বা দলবেঁধে কোনো মনোরম স্পট খুঁজে বেড়ায়।