জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভূমিকা রাখবে আইওটি

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভূমিকা রাখবে আইওটি 

ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি মানুষের জীবনকে আরও সুন্দর ও সহজ করে তুলবে। এই আইওটির ব্যবহার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।


২৩ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বেসিস আয়োজিত সফটএক্সপোর উইন্ডি টাউন হলে আইওটি-চেঞ্জিং লাইফস্টাইল: অ্যাপ্লিকেশনস ইন এনার্জি অ্যান্ড আদার ইউটিলিটি সার্ভিসেস শীর্ষক সেমিনারে এ কথা জানান বক্তারা।

বক্তারা বলেন, আইওটি এর ভেতর বিদ্যুৎ বিভাগে বিপ্লব সাধনের জন্য পার্ফেক্ট রেসিপি আছে বলে মনে করা হয়। ডেটা অ্যানালিটিক্সের সঙ্গে মিলে এটি নানা বিপ্লব সাধন এবং নানা সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান করছে। আইওটি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ অপচয়, সিস্টেম ক্ষতিসহ গ্যাস ইত্যাদি অপচয় কমিয়ে আনা সম্ভব।

সেমিনারে কি নোট উপস্থাপন করেন, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আকতার হোসেন ও ডাটা সফট সিস্টেমস বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তা সামি আল ইসলাম।

সামি ইসলাম তার বক্তব্যে আইওটির প্রসার ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশ আইওটিকে কতটুকু প্রাধান্য দিচ্ছে এবং বাংলাদেশে এর ব্যবহার শুরু হলে কেমন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে এর ওপর আলোকপাত করেন।

ক্যাক্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন মনিকোর পরিচালক ও সিওও মো. সাখাওয়াত সোবহান, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এর অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন এবং লিডসফটের সিটিও পাপিয়াস হাওলাদার।

সাজ্জাদ হোসেন তার বক্তব্য এনার্জি সেক্টরে ফান্ডিংয়ের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘এনার্জি সেক্টরে বিশাল বাজেট ও টাকা পয়সা রয়েছে। এর জন্য আরএনডি সেক্টরে ফান্ডিং প্রয়োজন। আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা এই সেক্টরে কাজ করার ক্ষমতা রাখে। শুধু তাদের উপর আমাদের ভরসা রাখা প্রয়োজন।’

আইওটি টেকনোলজিকে বাংলায় ট্রান্সফারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাংলায় এই টেকনোলজিতে কাজ করা গেলে সবার কাছে এই প্রযুক্তি পৌঁছে যাবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো টেন্ডারের আহ্বান করা হলে আমরা একটি হলেও লোকাল পার্টনার মাস্ট নিতে বলবো।'

এ সময় আইওটি নিয়ে তরুণদের আইডিয়া তৈরি থেকে শুরু করে তার বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সৈয়দ আকতার হোসেন বলেন, ‘আইওটি মূলত একটি ডাটা অ্যানালাইটিক প্রযুক্তি যার মাধ্যমে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের কার্যক্রমকে আরও সহজ ও গতিশীল করে। আইওটি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত প্রযুক্তি সেবাপণ্য এবং মাথাপিছু ব্যয় কমিয়ে সাহায্য করবে ব্যবসা কার্যক্রমকে। সেই সঙ্গে সেন্সর প্রযুক্তিই নেতৃত্ব দেবে আগামী দিনের প্রযুক্তির উন্নয়নকে। আইওটি সেবার ফলপ্রসূ ব্যবহারে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের সহজলভ্যতা, সঠিক নীতিনির্ধারণ এবং গণসচেতনতা সেইসাথে মেধাবী তরুণ সমাজের সম্পৃক্ততা।’

ডাটাসফটের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর সামি আল ইসলাম বলেন, ‘আইওটির বাজার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ২০২০ সালে এই প্রবৃদ্ধির হার ৩৮.৩% হবে। এ বাজার ২৬৭ বিলিয়নে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সারা বিশ্বে এনার্জি ম্যানেজমেন্ট, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, স্মার্ট সিটি, সোলার প্যানেল, স্মার্ট পেভমেন্ট, স্মার্ট ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, ইলেকট্রনিক কার, সেইফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ে আইওটির ব্যবহারে এসেছে সফলতা। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ ও এনার্জি ম্যানেজমেন্টে আইওটির ব্যবহারে এগিয়ে এসেছে ডেসা। এছাড়াও কৃষি খাতে আইওটির ব্যবহার এনেছে সফলতা।’

ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি মানুষের জীবনকে আরও সুন্দর ও সহজ করে তুলবে। এই আইওটির ব্যবহার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।