সোফিয়ার চেয়ে কোনো অংশে কম না আমাদের ব্যাংরো

 Our-bankers-are-no-less-than-Sophia

গত বছরের শেষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে অংশ  নিয়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল ভিনদেশি রোবট সোফিয়া। তবে এবারের বেসিস সফট এক্সপোতে আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে রোবট ব্যাংরো।


দেশের একটি পলিটেনিক ইন্সটিটিউটের একদল শিক্ষার্থী তৈরি করেছে এই রোবটটি, যা সোফিয়ার থেকে কোনো অংশে কম নয়।

ব্যাংরো, সে কথা বলতে পারে, দিতে পারে তথ্য, চলতে পারে, এমন কি মানুষকে চিনতেও পারে। বাংলা শব্দ থেকে ‘ব’ অক্ষর, ‘ব্যাংক’ শব্দ থেকে -্যাং ও রোবট শব্দ থেকে ‘রো’ নেওয়া হয়েছে। রোবটটির নির্মাতারা জানিয়েছেন, রোবটটির কাছে রয়েছে বিভিন্ন তথ্য। তাই ব্যাংরোর কাছে থাকা এই তথ্য ভাণ্ডারকে বোঝাতে ব্যাংক বিষয়টি এসেছে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বেসিস আয়োজিত সফট এক্সপোতে উদ্ভাবনী জোনে অংশ নিয়েছে ব্যাংরো। দেখা যায়, ব্যাংরো নামে ডাক দিলেই ব্যাংরো বলছে জ্বি। ব্যাংরোকে প্রশ্ন করা হয়, হাউ আর ইউ? উত্তর দেয় ব্যাংরো। শুধু ইংরেজি নয়, বাংলাতেও পারদর্শী ব্যাংরো। বাংলায় ব্যাংরোকে সামনে যেতে বলা হলে সে সামনে এগিয়ে যায়, পিছিয়ে যেতে বলা হলে সে পিছিয়ে যায়। দিতে পারে বিভিন্ন তথ্যও।

পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ব্যাংরোর মূল নির্মাতা ফরিদ হোসেন। তিনি জানান, রোবট নিয়ে তার আগে থেকেই এক প্রকারের দুর্বলতা ছিল। এ থেকেই রোবট তৈরির চিন্তাভাবনা মাথায় আসে। সুযোগ হয়ে ওঠে গত বছরের নভেম্বরে। সেই সময় থেকেই ব্যাংরো নিয়ে কাজ করতে থাকেন তারা।

তিনি বলেন, ‘রোবট কথা বলবে, সে মানুষকে সাহায্য করবে এই জন্যই রোবট নিয়ে ভাবি আমি। শুধু রোবট না, ইন্ডাস্ট্রিতে রোবটিকস অনেক প্রভাব ফেলবে। যেমন কোনো ভারি জিনিষপত্র অন্য স্থানে রাখতে বা সরাতে এই রোবটিকস আর্ম অনেক প্রভাব রাখবে। ওই থেকে চিন্তা ঘোরে আমার মাথায়। এ থেকেই রোবট নিয়ে আগ্রহ আমার।’

ব্যাংরো কি করতে পারে জানতে চাইলে ফরিদ হোসেন বলেন, ‘ব্যাংরোকে বাংলা বা ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারে। ওর হাত থাকায় সে হ্যান্ডশেক করতে পারে। সামনে থাকা মানুষের ছবি তুলতে পারে। কমান্ড অনুযায়ী সামনে, পেছনে, ডানে বামে যেতে পারে, হাত নাড়াতে পারে।’

‘এখন আমরা আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স নিয়ে কাজ করছি। এর প্যাটার্ন সাজাচ্ছি। অতি শিগগিরই আমরা ব্যাংরোর ভেতরে আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স ডেভলপ করতে পারব। এই কাজটি সম্পন্ন হলে ব্যাংরো ডায়নামিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে।’

ফরিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যাংরো বর্তমানে অফলাইনে কমান্ডের মাধ্যমে এসব কাজ করতে পারে। এর সঙ্গে ইন্টারনেট যুক্ত নেই। তবে তারা বাংলা ভয়েস রিকগনিশনের এপিআই নিয়ে কাজ করছেন। তারা সফল হলে ব্যাংরো ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং বাংলায় কথা বলা থেকে শুরু করে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে।

ফরিদ জানান, বর্তমানে তারা ৮ থেকে ১২ জনের একটি দল কাজ করছেন। আর যারা কাজ করছেন সবাই ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ইলেক্ট্রনিক বিভাগের শিক্ষার্থী। আর এই দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি নিজেই। এ ছাড়া তাদের এই প্রকল্পে সার্বিক সহযোগিতা করছে ইনোভেশন প্রতিষ্ঠান মাস্টার ল্যাবস।

এই রোবট নির্মাণে কত খরচ হয়েছে জানতে চাইলে ফরিদ বলেন, ‘এটির অর্থায়ন আমাদের নিজেদেরই। রোবটে থাকা ল্যাপটপ, ক্যামেরা আমাদের। এই খরচ বাদে আমাদের পকেট থেকে খরচ হয়েছে ২৫ থেক ৩০ হাজার টাকা। তবে অর্থায়ন পেলে ব্যাংরোকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

দেশে কেউ রোবট নির্মাণ করতে চাইলে তাকে টেকনিক্যাল লাইন এবং প্রোগ্রামিংয়ের বিষয়ে দক্ষ হতে হবে। এ ছাড়া টিম ওয়ার্ক তাদের সফলতায় পৌঁছাতে অনেক সাহায্য করবে বলেও জানান তিনি।

গত বছরের শেষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে অংশ নিয়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল ভিনদেশি রোবট সোফিয়া। তবে এবারের বেসিস সফট এক্সপোতে আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে রোবট ব্যাংরো।