রোহিঙ্গাদের দেখে গেলেন ব্রিটিশ গায়িকা

 রোহিঙ্গাদের দেখে গেলেন ব্রিটিশ গায়িকা

ব্রিটিশ গায়িকা জেসি ওয়্যার একেবারে নির্বাক! মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন তিনি।


কিন্তু সেখানকার শরণার্থী ক্যাম্পে স্বজনহারা ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের কথা বলে চোখে জল ধরে রাখতে পারেননি ৩২ বছর বয়সী এই তারকা। রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরতার ঘটনা শুনে থমকে গেছেন তিনি।

নিজ দেশে ফিরে বার্তা সংস্থা বিবিসিকে জেসি ওয়্যার বলেছেন, ‘নিজেদের পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীর সঙ্গে রাখাইনে যে বর্বরতা হতে দেখেছে রোহিঙ্গারা, তা অবর্ণনীয়। কল্পনাও করা যায় না তারা কী ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। কক্সবাজারে আমি শিশু-কিশোরদের সঙ্গে বেশি সময় থেকেছি। মা-বাবা হারা অন্য শিশুদের কোলে রাখে এই শিশু-কিশোররাই।’

১৬ বছর বয়সী কিশোরী মিনারার সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন জেসি। তিনি বলেন, ‘এই মেয়েটি তার মা-বাবাকে খুন হতে দেখেছে। এরপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর তাণ্ডব থেকে বাঁচতে নিজের ছোট ভাইবোনকে হারিয়েছে সে। তার মনে হচ্ছে, ভাইবোনের সঙ্গে আর কখনোই দেখা হবে না।’

ইউনিসেফের জন্য কাজের অংশ হিসেবে গত বছরের ডিসেম্বরে রোহিঙ্গাদের দেখে গেছেন জেসি। তবে শরণার্থীদের জন্য খাবার, আশ্রয় ও শিক্ষায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেছেন তিনি।

জেসির বর্ণনায়, ‘ক্যাম্পে শিশুবান্ধব পরিবেশে আঁকাআঁকি করছে ওরা। শুরুর দিকে বেশিরভাগ শিশুর আঁকায় উঠে এসেছে বাড়িঘরে আগুন আর বন্দুক ও ছুরি হাতে দুর্বৃত্তদের দৃশ্য। এগুলো মনকে বিষণ্ন করে দেয়। তবে এখন তাদের ছবিতে ফুটে ওঠে ফুল ও রোদ্দুর। আঁকাআঁকির চর্চা শিশুমন নিয়ে বেড়ে উঠতে সহায়ক হচ্ছে ওদের জন্য।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্তত ২০ শিশু-কিশোর জেসি ওয়্যারকে গান গেয়ে শোনানোর অনুরোধ জানায়। তার সঙ্গে ‘উই শ্যাল ওভারকাম’ গানে গলা মিলিয়েছে শিশুরাও। ‘আমি তখন খুশিতে কেঁদেছি। ওদের হাসিমুখ দেখতে খুব ভালো লাগছিল। ক্যাম্পে এমন মুহূর্ত খুব কমই আসে’- বললেন জেসি।

ইংরেজ গায়িকা জেসি ওয়্যারের প্রথম অ্যালবাম ‘ডিভোশন’ প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে। তার অন্য দুই অ্যালবামের মধ্যে ‘টাফ লাভ’ ২০১৪ সালে ও ‘গ্লাসহাউস’ গত বছর বাজারে আসে।

ব্রিটিশ গায়িকা জেসি ওয়্যার একেবারে নির্বাক! মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন তিনি।