ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের বিরুদ্ধে ফেসবুক গ্রাহকদের তথ্য অপব্যবহারের অভিযোগ

ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের বিরুদ্ধে ফেসবুক গ্রাহকদের তথ্য অপব্যবহারের অভিযোগ 

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক তথ্য বিশ্লেষণী সংস্থা ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে ৫০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ সংস্থাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারকাজে যুক্ত ছিল। ট্রাম্পের জয়ের পেছনে এর বড় ভূমিকা ছিল বলে অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন। শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার পেছনে যে গণভোট (ব্রেক্সিট) হয়েছিল, তার পেছনেও সংস্থাটির ভূমিকা ছিল।


প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসে শনিবার এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। অন্যদিকে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনে ফেসবুক তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ও স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন অ্যালায়েন্স (এসসিএল) নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করেছে।

এ ঘটনায় নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে ফেসবুক ও ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা। শেষের প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন ট্রাম্পের সাবেক মুখ্য নীতিনির্ধারক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভ ব্যানন।

যেভাবে গ্রাহকের তথ্য চুরি

প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা’ হলেও বিশ্বখ্যাত ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। বিশাল আকারের এই তথ্যচুরির মূলে রয়েছেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আলেকসান্দার কোগান। তিনি ২০১৫ সালে ‘দিস ইজ ইউর ডিজিটাল লাইফ’ নামের একটি অ্যাপ তৈরি করেন, যেটিতে ক্লিক করে ব্যবহারকারী তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন।

ফেসবুক দিয়ে অ্যাপটিতে লগইন করতে হতো। ব্যবহারকারীর অবস্থান, সে কোন ধরনের পোস্টে লাইক দিচ্ছে, সেসব তথ্যের অ্যাকসেস দিয়েই অ্যাপটিতে লগইন করতে হতো।

কোগানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মনোবিজ্ঞানের গবেষণার কাজে এসব তথ্য ব্যবহার করার কথা বললেও তিনি মার্কিন ভোটারদের মানসিকতা বোঝার কাজে অ্যাপটিকে কাজে লাগিয়েছেন। পরে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করতেন তিনি। ফেসবুকের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে এ ধরণের অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকের যেসব ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়, সেগুলো সঙ্গে সঙ্গেই ডিলিট করে দিতে হয়। কিন্তু অধ্যাপক কোগান সেসব ডিলিট না করে মার্কিন নির্বাচনের আগে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে দেন। তার কাছ থেকে গ্রাহকদের এসব ব্যক্তিগত তথ্য কিনে নেয় ক্যমব্রিজ অ্যানালিটিকা, স্ট্র্যাটিজিক কমিউনিটকেশন অাল্যায়েন্স ও ইউনিয়া টেকনোলজিসের একজন কর্মী।

ফেসবুকের উপ-আইনি পরামর্শক পল গ্রিওয়াল ১৭ মার্চ শনিবার এক ব্লগপোস্টে বলেন, ‘যদিও সে সময় এ ধরনের অ্যাপ নির্মাতাদের জন্য ফেসবুকের যেসব নিয়ম-নীতি ছিল, অধ্যাপক কোগান সেসব নিয়ম-নীতি মেনেই গ্রাহকদের ওই সব তথ্যের প্রবেশাধিকার পেয়েছিল। কিন্তু তারপরও তিনি যথাযথভাবে সব নিয়ম মানেননি।’

গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সাথে সাথে মুছে ফেলতে এই ধরনের অ্যাপ নির্মাতাদের প্রতি ফেসবুকের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু গ্রিওয়াল বলেন, ‘কিছুদিন আগেই আমরা জানতে পারি কেউ কেউ আমাদের এ নির্দেশনা মানেননি এবং গ্রাহকের ব্যক্তিগত সব তথ্য পুরোপুরি ডিলিট করে দেননি।

‘আমরা (ফেসবুক) খুব জোরালোভাবে এ ধরনের অভিযোগগুলো যাছাই-বাছাই করে দেখছি। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে সেটি হবে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।’

তবে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা তাদের ওপর আসা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ফেসবুকের নিয়ম লঙ্ঘন করে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এমন তথ্য জানার পর তারা গ্রাহকের সব ব্যক্তিগত তথ্য সম্পূর্ণ মুছে দিয়েছে। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অধ্যাপক কোগানের কাছ থেকে পাওয়া কোনো তথ্য ব্যবহার করা হয়নি।

যুক্তরাজ্যে অবস্থিত ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অধ্যাপক কোগান গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সুযোগ ব্যবহার করেছেন, এমন প্রমাণ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়টির একজন মুখপাত্র গণমাধ্যমকে বলেন, অধ্যাপকরা তাদের পেশাগত কাজের বাইরে নিজস্ব ব্যবসা করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বাধা নেই।

বিষয়টি নিয়ে বিবিসি, নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম অধ্যাপক কোগানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক তথ্য বিশ্লেষণী সংস্থা ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে ৫০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ সংস্থাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারকাজে যুক্ত ছিল। ট্রাম্পের জয়ের পেছনে এর বড় ভূমিকা ছিল বলে অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন। শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার পেছনে যে গণভোট (ব্রেক্সিট) হয়েছিল, তার পেছনেও সংস্থাটির ভূমিকা ছিল।