‘মিয়ানমারে ফেসবুক পশুতে পরিণত হয়েছে’

 

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা জাগিয়ে তুলতে ফেসবুক একটি 'নির্ধারনকারী ভূমিকায়' খেলছে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের একটি তদন্তকারী দল।  


১২ মার্চ, সোমবার জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন অন মিয়ানমার তাদের তদন্তের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ কথা বলে। সংবাদ সম্মেলনে এই মিশনের চেয়ারম্যান মারজুকি দারুসম্যান বলেন, ‘রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিখুঁতভাবে ঘৃণা তৈরিতে সোশ্যাল মিডিয়া বিশাল ভূমিকা রেখেছে।’

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিতে ফেসবুক ব্যবহার করা হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ফেসবুক ব্যবহার করে দেশটিতে রোহিঙ্গাদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিয়েছে। যদিও ফেসবুকের নীতিতে ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচারের কোন স্থান নেই। 

এমনকি মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কিত বিশেষ সহকারী ইয়াংহি লি বলেন, ‘ফেসবুক 'পশু'তে পরিণত হয়েছে’।   

তবে এ বিষয়ে ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, তাদের প্ল্যাটফর্মে ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচারের কোন স্থান নেই। তিনি বলেন, 'আমরা এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছি এবং আমরা বেশ কয়েকবছর ধরেই পালটা মন্তব্য প্রচারণা ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছি।'

তিনি আরও জানান, ফেসবুক ইতোমধ্যে শুধু মিয়ানমারের জন্য আলাদা সেফটি পেজ খুলেছে যেখানে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা রয়েছে। এছাড়াও দেশটিতে সুশীল সমাজ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ সেশনের ব্যবস্থা করেছে ফেসবুক।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা জাগিয়ে তুলতে ফেসবুক একটি 'নির্ধারনকারী ভূমিকায়' খেলছে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের একটি তদন্তকারী দল।