‘জাপানের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জনশক্তির ঘাটতি পূরণে কাজ করবে বাংলাদেশ’

 ‘জাপানের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জনশক্তির ঘাটতি পূরণে কাজ করবে বাংলাদেশ’

জাপানের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।


৪ মার্চ, রবিবার রাজধানীর আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত বাংলাদেশ-জাপান আইসিটি ইঞ্জিনিয়ারস ট্রেনিং প্রোগ্রামে (বি-জেট) অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জাইকা) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পলক বলেন, ‘৬৫ শতাংশের অধিক তরুণ জনশক্তি নিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পপুলেশন ডিভিডেন্ড উপভোগ করছে। অপরদিকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম বাজার ও তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপান তাদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় কর্মক্ষম মানুষের সংকটে ভুগছে। বাংলাদেশ সেই সুযোগটাই গ্রহণ করতে চায়।’

‘আমরা ২০২১ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান ও ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, সেই লক্ষ্য অর্জনে আমরা জাপানি বাজারের যথোপযুক্ত সুযোগ গ্রহণ করতে চাই। জাপানের আইটি খাতে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতিকে সুযোগ হিসেবে আমরা কাজে লাগাতে চাই’, যোগ করেন তিনি।

জাপানের রাষ্ট্রদূত ও জাইকার প্রতিনিধির কাছে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জাপানি কোম্পানির বিনিয়োগ বাড়াতে একান্ত সহযোগিতা কামনা করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অর্গনাইজেশন কর্তৃক পরিচালিত জরিপ অনুসারেই বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য। বাংলাদেশি কর্মীদের তুলনামূলক বেতন, বিদ্যুতের নিম্ন মূল্য ও সস্তা উৎপাদন খরচের ফলে বাংলাদেশ জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য বিনিয়োগের আদর্শ জায়গা হতে পারে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমা বলেন, ‘জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সব সময়ই অনন্য। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে তেমনিভাবে এই বি-জেট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যারা জাপানের আইটি খাতে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে, তারাও জাপানের আইটি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রত্যকেই একেক জন জাপানি উন্নয়নের অগ্রদূত হিসেবে ভূমিকা রাখবে।’

বাংলাদেশে জাইকার প্রধান প্রতিনিধি টাকাটোসি নিশিকাটা বলেন, ‘জাপান আগামী দিনগুলোতে আইটি প্রকৌশলীর চরম ঘাটতি অনুভব করবে। আমরা বাংলাদেশের মেধাবী তরুণদেরকে জাপানি বাজারের চাহিদা মতো সক্ষম করে তুলতে বিসিসির সাথে যৌথভাবে বি-জেট প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছি। এই প্রশিক্ষণার্থীরাই জাপানের আইটি খাতকে আগামীতে এগিয়ে নেবে বলে আমার বিশ্বাস।’

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)-এর নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।

জাপানের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।