দেশে সাইবার অপরাধে ভুক্তভোগীদের ১১ শতাংশই শিশু

দেশে সাইবার অপরাধে ভুক্তভোগীদের ১১ শতাংশই শিশু 

বাংলাদেশে ব্যক্তি পর্যায়ে সাইবার অপরাধে ভুক্তভোগীদের ১১ শতাংশেরই বয়স ১৮ বছরের কম। এখন থেকেই দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু না করলে শিশুদের বিরুদ্ধে এসব অপরাধ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন এসব তথ্য জানিয়েছে।


শুক্রবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে ‘শিশু কিশোরদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট মহোৎসব’ নামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইউনিসেফ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের আয়োজনে এই উৎসবে দেশের শতাধিক বিদ্যালয়ের ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক অংশ নেন। অনুষ্ঠানে নীতি-নির্ধারক, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দরাও উপস্থিত ছিলেন। নভোথিয়েটারের সম্মেলন কক্ষে একটি সেমিনারে বক্তব্য দেন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সংগঠনের আহ্বায়ক কাজী মুস্তাফিজ।

সংগঠনটির সাম্প্রতিক এক গবেষণার বরাত দিয়ে সেমিনারে জানানো হয়, সাইবার ক্রাইমের ভুক্তভোগীদের ১১ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের কম, ৭৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর, ১৩ শতাংশের বয়স ৩১ থেকে ৪৫ বছর। বাকি ভুক্তভোগীদের বয়স ৪৬ বছরের বেশি। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে, অনলাইনে অপপ্রচার (সাইবার বুলিং), আইডি হ্যাকিং, অনলাইনে হুমকি, এটিএম কার্ড হ্যাকিং, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকউন্ট হ্যাকিং, অনলাইনে পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণা ইত্যাদি।

ইউনিসেফের তথ্য মতে, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বড় অংশই ১৮ বছরের নিচে। প্রতিদিন ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি শিশু প্রথমবারের মতো অনলাইন ব্যবহার করছে। ৯ লাখের বেশি শিশুর কাছে জরিপের ফরম পৌঁছানো হয়। কিন্তু এতে অংশ নেয় ১১ হাজার ৮২১ শিশু যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৮ বছর।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অনলাইনে শিশুদের ব্যাপক উপস্থিতি সত্ত্বেও ডিজিটাল দুনিয়ার বিপদ থেকে তাদের সুরক্ষিত রাখতে এবং নিরাপদ অনলাইন কনটেন্ট ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে খুব সামান্যই কাজ হয়েছে। তাই ইউনিসেফ ও ফেসবুক এক বছরব্যাপী একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করেছে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বেগবেদার বলেন, সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী শিশুদের মধ্যে ইন্টারনেটের যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এ কারণে তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, ক্ষতিকর কনটেন্টের দিকে ঠেলে দেওয়া, অনলাইনে নিগ্রহের শিকার হওয়া ও ক্ষতির মুখে পড়ার মাত্রা বেড়ে গেছে। মোবাইল ডিভাইসের উপস্থিতি বড়দের তত্ত্বাবধান ছাড়াই শিশুর অনলাইনে ঢোকার সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। যা একই সঙ্গে অনেক বিপদও বাড়িয়েছে।

ফেসবুকের ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রোগ্রাম প্রধান রিতেশ মেহতা বলেন, অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা বর্তমান সময়ে শিশু, অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য খুবই জরুরি। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি বিষয়ে শিশুদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যেতে চাই। যেভাবে তাদের জনাকীর্ণ স্থান, খেলার মাঠ ও স্কুলে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শেখাই, একইভাবে তাদের অনলাইনে নিরাপদে থাকা শেখানো হবে।

দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এমপি।

বাংলাদেশে ব্যক্তি পর্যায়ে সাইবার অপরাধে ভুক্তভোগীদের ১১ শতাংশেরই বয়স ১৮ বছরের কম। এখন থেকেই দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু না করলে শিশুদের বিরুদ্ধে এসব অপরাধ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন এসব তথ্য জানিয়েছে।