মায়ের জন্মদিনে লিফটের চাপায় মেয়ের মৃত্যু

মায়ের জন্মদিনে লিফটের চাপায় মেয়ের মৃত্যু 

মা উম্মে সালমার জন্মদিন ছিল ২৯ মার্চ, বৃহস্পতিবার। তাই সে রাতে বাবা শিপলুর রহমান তাদের ৯ বছরের ছোট মেয়ে অালভিরাকে নিয়ে বাইরে বেরোচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল ছোট করে জন্মদিনটি উদযাপন করা। এ জন্য তারা ১৫ তলার বাসা থেকে নিচে নামার জন্য লিফটে ওঠেন। কিন্তু লিফটের সেন্সর ঠিকমতো কাজ করে না বলে লিফটের ভেতরে প্রবেশ করার সময়ই লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। অার সেই দরজার মাঝে চাপা পড়ে ছোট অালভিরা। মুুহুর্তেই তার মাথা ফেটে বেরিয়ে পড়ে রক্ত। এরপর দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে। ততক্ষণে মৃত্যু তাকে গ্রাস করে। মায়ের জন্মদিনই হলো তার মৃত্যু দিবস।


২৯ মার্চ, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগর মোড়ে গ্রিনপিচ নামের একটি আঠারো তলা ভবনে হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটে।

শামীম রহমান নামের তাদের এক প্রতিবেশী জানান, এই ভবনের ১৫ তলায় শিপলুর রহমান ও উম্মে সালমা দম্পতি থাকেন। গত রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের ৯ বছর বয়সী মেয়ে উম্মে আলভিরা রহমানকে নিয়ে বাবা-মা বাইরে বের হচ্ছিলেন। তারা ১৫ তলা থেকে নিচে নামার সময় আলভিরা লিফটের দরজার দুই পাল্লার মাঝে চাপা পড়ে। এতে সে মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শামীম অারও জানান, এই ভবনের লিফটিতে অনেক দিন ধরেই নানা রকম সমস্যা রয়েছে। সেটা একাধিকবার বলা হলেও কেউ কোনো পদক্ষেপ নেননি। পদক্ষেপ নিলে হয়তো এমন দুর্ঘটনা ঘটত না।

এ দুর্ঘটনা সম্পর্কে পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, গতকাল রাতে খবর পেয়ে শান্তিনগরের গ্রিনপিচ নামের ওই বাসায় পুলিশ যায়। সেখান থেকে অালভিরাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাহমুদ সুজন নামে তাদের এক আত্মীয় জানান, অালভিরার শোকে পুরো পরিবার এখন স্তব্ধ। হঠাৎ এই মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না। বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তার মা। অাজ বিকেলে উত্তরায় অালভিরার দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ওই ভবন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর মিয়া বলেন, ‘আগে থেকেই লিফটির সমস্যা ছিল। এটি একটি দুর্ঘটনা। তবে কেন এভাবে হঠাৎ সেন্সর বন্ধ হয়েছে, সে বিষয়ে লিফট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কারণ জানাতে নোটিশ পাঠানো হবে।’

মা উম্মে সালমার জন্মদিন ছিল ২৯ মার্চ, বৃহস্পতিবার। তাই সে রাতে বাবা শিপলুর রহমান তাদের ৯ বছরের ছোট মেয়ে অালভিরাকে নিয়ে বাইরে বেরোচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল ছোট করে জন্মদিনটি উদযাপন করা। এ জন্য তারা ১৫ তলার বাসা থেকে নিচে নামার জন্য লিফটে ওঠেন। কিন্তু লিফটের সেন্সর ঠিকমতো কাজ করে না বলে লিফটের ভেতরে প্রবেশ করার সময়ই লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। অার সেই দরজার মাঝে চাপা পড়ে ছোট অালভিরা। মুুহুর্তেই তার মাথা ফেটে বেরিয়ে পড়ে রক্ত। এরপর দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে। ততক্ষণে মৃত্যু তাকে গ্রাস করে। মায়ের জন্মদিনই হলো তার মৃত্যু দিবস।